ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গায় প্রস্তাবিত বে-টার্মিনাল রেলওয়ে সংযোগ প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি এবং ডিটেইল ডিজাইনিংয়ের কাজ। এবার শিগগিরই প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এ কথা জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী সুবক্তগীন।
তিনি জানান, বে-টার্মিনাল রেলওয়ে সংযোগ লাইনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইন সমীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। গত বছরের ২৭ অক্টোবর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রিপোর্ট জমা দিয়েছে, যা ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে। শিগগিরই প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হবে। নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে দেশের আমদানি-রফতানি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা-হালিশহর সাগর উপকূলজুড়ে বে-টার্মিনাল গড়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর আগে ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এই প্রকল্পটির অধীনে ব্যাকআপ ফ্যাসিলিটিজসহ ৫৮৩ মিটার দীর্ঘ কন্টেইনার জেটি, ২২০ দীর্ঘ ডলফিন জেটি, ৮৯ হাজার বর্গমিটার আরসিসি ইয়ার্ড, দুই হাজার ১২৮ বর্গমিটার কন্টেইনার শুল্ক স্টেশন, দুই হাজার ১৫০ মিটার লম্বা ৬ মিটার উচ্চ কাস্টম বন্ডেড হাউজ, দুই হাজার ৫০০ মিটার রেলওয়ে ট্র্যাক, ৪২০ মিটার ফ্লাইওভার, এক হাজার ২০০ বর্গমিটার মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ এবং পাঁচ হাজার ৫৮০ বর্গমিটারের অফিস বিল্ডিং নির্মাণ করা হবে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ২০ মার্চ রেলমন্ত্রী বে-টার্মিনাল রেলওয়ে সংযোগ প্রকল্পটির অনুমোদন করেন। ওই সময় ২০১৯ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করতে পারেনি। এরপর ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। বর্ধিত মেয়াদ অনুযায়ী আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে। এরপর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ডিজাইন করপোরেশন ও মজুমদার ইন্টারপ্রাইজকে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও ডিটেইল ডিজাইনিংয়ের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে প্রধান প্রকৌশলী সুবক্তগীন জানান, ইতোমধ্যে সমীক্ষা প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ২০ শতাংশ শেষ হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান যে রিপোর্ট দিয়েছে, তাতে তারা পাঁচটি প্রস্তাবিত রুট।
আনন্দবাজার/টি এস পি








