করোনার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালের পাশেই করা হবে অস্থায়ী পশুহাট। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পুরান ঢাকার নয়াবাজারে ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালের সামনে অস্থায়ী পশুহাটের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
হাসপাতালের পাশেই রয়েছে আরমানিটোলা মাঠ। এই পশুহাট মাঠ পর্যন্ত চলে আসবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাই পশুহাটের দরপত্র স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এ ছাড়া চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখতে এবং করোনা প্রতিরোধে এই পশুহাট বাতিলের আবেদন জানিয়েছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মাঠটি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের নিজস্ব সম্পত্তি।
ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগ সূত্র জানায়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১৪ জুন আরমানিটোলা মাঠের আশপাশের খালি জায়গায় কোরবানির (সরকারি মূল্য ১ কোটি ৬৫ লাখ) পশুহাটের দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ডিএসসিসি। কিন্তু বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্যবিধির কিছুই বলা হয়নি। এ ছাড়া করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় বাড়তি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়নি। ২৯ জুন দরপত্র চূড়ান্ত হবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩১ জুলাই বা ১ আগস্ট ঈদুল আজহা উদ্যাপন করা হবে।
ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগ এর প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল বলেন, আরমানিটোলা মাঠে নয়, পশুহাট বসবে মাঠসংলগ্ন আশপাশে খালি জায়গায়।
১৫০ শয্যার ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতাল ডিএসসিসির একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ৩০ এপ্রিল এই হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের পাশের মিটফোর্ডে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে এই হাসপাতালে শুধু করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, এমনিতেই হাসপাতালের সামনের রাস্তায় দিনভর যানজট লেগে থাকে। এখন হাট বসলে পুরো হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, গত বছর এই হাসপাতালের আশপাশের রাস্তায় কোরবানির পশুহাট বসেছিল। তখন অনেক রোগী হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন। এবারের করোনা পরিস্থিতি ভিন্ন। কোনোক্রমেই হাসপাতালে এলাকায় পশুহাট বসানো যাবে না।
এ ব্যাপারে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ উত্তম কুমার পাল বলেন, এই মাঠ বা রাস্তায় পশুহাট বসলে পুরো এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। তখন হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এখন করোনা প্রতিরোধে এই এলাকায় পশুর হাট বসানোর কোনো যুক্তি নেই।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস








