২০৩০ সালের মধ্যে চামড়া খাতের রপ্তানি আয় ১ বিলিয়ন থেকে ১০-১২ বিলিয়নে উন্নীত করতে বাণিজ্যমন্ত্রণালয় ১০ বছরের একটি পরিকল্পনা করেছে। সরকার আগামী ৯ বছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে তার রপ্তানি আয়ের দশগুণ বৃদ্ধির দিকে নজর দিচ্ছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে, রপ্তানি প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ।
গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন লেদারটেক বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। আগামী ৭ ডিসেম্বর থেকে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেশন সিটি বসুন্ধরায় শুরু হতে যাচ্ছে চামড়া শিল্পের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী ‘লেদারটেক বাংলাদেশ ২০২২-এর অষ্টম আসর। বিভিন্ন শিল্প সমিতির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এম.পি প্রধান অতিথি হিসাবে সকালে প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। তিনদিনের এই প্রদর্শনীটি শেষ হবে আগামী ৯ ডিসেম্বর।
তিনদিনব্যাপী এ ট্রেড শো’তে বাংলাদেশের চামড়া, চামড়াজাত পণ্য এবং ফুটওয়্যাার শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় মেশিনারি, কম্পোনেন্ট, ক্যামিকেল এবং অ্যাকসেসরিজ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রযুক্তি তুলে ধরা হবে। ভারত থেকে কাউন্সিল ফর লেদার এক্সপোর্টস (সিএলই) এবং ইন্ডিয়ান ফুটওযয়্যার কম্পোনেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (ইফকোমা) প্যাভিলিয়ন সহ ১০টি দেশের প্রায় ২০০ প্রতিষ্ঠান এই আয়োজনের অংশগ্রহণ করবে।
কোভিড-১৯-এর পরিবর্তিত ব্যবসায়িক ল্যান্ডস্কেপে, ২০২০ সালে চামড়াজাত পণ্যের বিশ্বব্যাপী বাজার অনুমান করা হয়েছিল ২৪০ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এবং ২০২৭ সাল নাগাদ ৩১৮ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংশোধিত আকারে পৌঁছবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা ৪ দশমকি ১ শতাংশ এর সিএজিআর এ বৃদ্ধি পাবে। পাদুকা ৪ দশমিক ৮ শতাংশ সিএজিআর রেকর্ড করবে এবং ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ মার্কিন ডলার ১১৬ দশমিক ১ বিলিয়নে পৌঁছবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
আয়োজক সংস্থা আস্ক ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন্স প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক নন্দ গোপাল কে বলেন, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে চীন ও পাকিস্তানের অংশগ্রহণ ক্রমাগত হ্রাস পেয়েছে। তবে প্রায় ৩ বছরের ব্যবধানে এবারের আয়োজনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মেশিনারি সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশের ফুটওয়্যার এবং চামড়াজাত পণ্য খাতের সম্ভাবনাকেই তুলে ধরা হচ্ছে।
সেই সঙ্গে বিগত বছরগুলির তুলনায় কম্পোনেন্টস, অ্যাকসেসরিজ, ডাইস এবং কেমিক্যালসর প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে লেদারটেক বাংলাদেশ ফুটওয়্যার এবং লেদার প্রোডাক্টস সেক্টর নিজেদের জন্য একটি ‘দ্য লেদার ইন্ডাস্ট্রি নেটওয়ার্কিং ফোরাম’ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। নন্দ গোপাল কে আরও বলেন, এই প্রদর্শনীর প্রোফাইলটি ব্যাপক এবং তিনদিনের শোতে বিশ্ব নেতাদের উপস্থিতি থেকে স্থানীয় শিল্প উপকৃত হবে।
লেদারটেক বাংলাদেশ-২০২২ আয়োজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষকতা করছে লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি)। এছাড়া, অন্যান্য পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএলএলএফইএ), বাংলাদেশ টেনারস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ), বাংলাদেশ পাদুকা প্রস্তুতকারক সমিতি (বিপিপিএস)।
আনন্দবাজার/শহক









