শেরপুরে আবারও শুরু হয়েছে অবাধে বুনোপাখি নিধন। জেলা সদরসহ ঝিনাইগাতী, নকলা, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ি উপজেলার বিভিন্ন খাল বিল, গ্রাম ও চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলের জমিতে দেখা মিলছে নানা প্রজাতির আবাসিক পরিযায়ী পান্থপরিযায়ী পাখির। দায়িত্বপ্রাপ্ত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ ও উপজেলা প্রসাশনের নাকের ডগায় ফাঁদ পেতে এসব পাখি ধরা ও বেচাকেনার কাজ চললেও কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। অপরদিকে মৎসচাষ ও রক্ষার নামে একশ্রেণীর প্রভাবশালী ব্যক্তি খাল বিল, পাহাড়ি জলাভূমি ও ফসলের ক্ষেতের উপর জাল টানানোর ফলে এসব জালে প্রায়শই বিপুল সংখ্যক বুনোপাখি জালে আটকে মারা যাচ্ছে। অথচ সরকারী নিয়মানুসারে উন্মুক্ত জলাশয়ে বা ফসলের ক্ষেতে জাল টানানো বা ঘের দেয়া নিষেধ।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শেরপুর সদর উপজেলার পাকুরিয়া, ধলা, গাজীর খামার, ভাতশালা ও রৌহা ইউনিয়নের রৌহা বিল, গারো বিল, দুরঙ্গি বিল, আউরা বাউরা বিল, কেউটা বিল, আমন কুড়া বিল, নালিতাবাড়ি উপজেলার কলসপাড়, নাকশি বিল, গোল্লার বাদ্দ, নন্নী, শ্রীবরদী উপজেলার ইচলি বিল, বয়সা বিল, মিরকি বিল, জল কেশর রায় বিল, ঝগড়ার চর, ঝিনাইগাতী উপজেলার দারিয়ার বিল, বালিয়া বিল, নকলা উপজেলার কুরশা বিল এবং গারো পাহাড়ের পানিহাতা, সমশচূঁড়া, গাজনি, তাওয়াকুচা, কর্ণঝোাড়া ও বালিজুড়ির গভীর বনাঞ্চলে ফাঁদ পেতে বা বন্দুক দিয়ে একশ্রেণীর প্রভাবশালী মানুষ মাঝে মধ্যেই পাখি শিকার করে। অপরদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের দুর্গম চর ভাগলগড়ে বসবাসরত ‘শানদার (বেদে) গোষ্ঠী’র লোকজন নদের পারে বিষটোপ দিয়ে জলনির্ভর পাখিসহ বিভিন্ন প্রজাতির শালিক নির্বিচারে শিকার করে যাচ্ছে। এছাড়া পাখি শিকারীরা এসব এলাকায় কাঁধে শিকারী বক/পাখি ও পাখি শিকারের খাঁচা ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে ধান ক্ষেতের আইল ও ধান ক্ষেতে ফাঁদ তৈরি করে । এতে ধরা দেয় বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ।বিষয়টি সচেতন মহলের চোখে পড়লে বাঁধা দেওয়া হয়, নয়তো চলে নির্বিঘ্নে পাখি শিকার।
শেরপুর বার্ড কনজারভেশন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শহীদুজ্জামান বলেন, এখন খাল বিল ও নদী নালায় পানি কমতে থাকায় বিপুল সংখ্যক আবাসিক পাখি বিশেষত শামখোল, বিভিন্ন প্রজাতির বক, পানকৌড়ি, সরালি হাঁস, কোড়া, ডাহুক, মাছরাঙাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি মাছ-শামুকসহ নানা জলজ প্রাণীর লোভে ঝাঁক বেঁধে এসব এলাকায় ভিড় জমায়। এই সুযোগে এক শ্রেণীর পাখি শিকারী ফাঁদ পেতে, জাল বিছিয়ে বা পালিত পাখি দিয়ে নানা প্রজাতির পাখি ধরে বাজারে নিয়ে বিক্রি করে। এসব এক শ্রেণীর লোকের পেশা। এছাড়াও চোরা শিকারীরা বন্দুক দিয়ে পাখি শিকার করে। আমাদের সংগঠনের সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় নিয়মিত শিকারিদের কাছ থেকে পাখি উদ্ধার করে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়াসহ পাখি শিকার বন্ধে সাধারণ মানুষকে উদ্ভুদ্ধ করার কাজ করে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার বলেন, বুনোপাখি ধরা বা কেনাবেচার সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ তার কাছে নেই। ইতিপূর্বে পাখি ধরা ও কেনাবেচার ব্যাপারে কয়েকটি অভিযান চালানোর ফলে পাখি ধরা কমে গিয়েছিলো। তিনি এ ব্যপারে তৎপরতা বাড়াবেন বলে জানান।
শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহনাজ ফেরদৌস বলেন, মাছ ও ফসল রক্ষার নামে খাল বিলসহ বিভিন্ন জলাশয় বা ফসলের জমিতে জাল টানানো বা ঘের দেয়া আইনত নিষিদ্ধ। এ ব্যাপারে তিনি অচিরেই অভিযান চালিয়ে এসব জাল অপরসারন করবেন।









