ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌর শহরে প্রবেশের একমাত্র প্রধান বঙ্গবন্ধু সড়কের বেহাল দশা। দেখে মনে হবে এটি কোনো সড়ক নয় যেন ছোট একটি ডোবা। এতে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা।
পৌর শহরের প্রধান সড়কটির পুরো অংশ জুড়েই এ রকম খানাখন্দে ভরা। এ খানা খন্দের কারণে দুভোর্গ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীর। আর বৃষ্টি হলে এ দুর্ভোগের শেষ নেই। বৃষ্টি হলে ওইসব খানাখন্দে পানি জমে হয় ডোবা। খানাখন্দ ও পানির ওপর দিয়ে যানবাহন চলার সময় প্রায়ই ঘটছে ছোট খাটো দুর্ঘটনা। পথচারীদের হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে পৌর বাসিন্দাদের চরম দুভোর্গ পোহাতে হচ্ছে। এ সড়ক পৌর শহরের একমাত্র সড়ক । এ সড়কে প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচল। রয়েছে স্কুল, কলেজ, থানা, ভূমি অফিস, ব্যাংক, সরাকরি অফিসসহ অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়তই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ত্রিশাল পৌর শহরের দরিরামপুর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে চিকনা মোড় পর্যন্ত সড়কটির দেড় কিলোমিটার অংশ পড়েছে পৌর শহরে। এ দেড় কিলোমিটার অংশজুড়েই ছোট বড় খানাখন্দ। তবে সুতিয়া নদীর সেতুর পর থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পর্যন্ত অংশে সবচেয়ে বেশি খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। অথচ এ অংশ পার হয়ে মানুষকে যেতে হয় উপজেলা পরিষদ, ভূমি অফিস ও থানায়। বৃষ্টি হয়ে এ অংশের খানাখন্দগুলোতে হাঁটু সমান পানি জমে থাকে। যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই পানিতে উল্টো যায়। ঝুঁকি এড়াতে অনেক যানবাহন বিকল্প পথে দেড় কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর শহরের থানার সামনে বিশাল গর্ত পানিতে থই থই করছে। পানির ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। ওই অংশের যানবাহনের ধীরগতির কারণে সৃষ্টি হয়েছে যানজট। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ।
স্কুল শিক্ষার্থী আনোয়ার বলেন, এ সড়ক আমাদের সরকারি নজরুল একাডেমীর যাতায়াতের প্রধান ফটকেই। এ সড়ক দিয়ে আমাদের নিয়মিতই যাতায়াত করতে হয়। তবে, সড়কটি কয়েক বছর ধরেই বেহাল থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে সে ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে।
রিকশা চালক আব্দুল মতিন বলেন, ত্রিশাল-পোড়াবাড়ী সড়কের পৌরসভার দেড় কিলোমিটারের খানাখন্দের জন্য অনেক কষ্ট পোহাতে হয়। সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়, কখন গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনার শিকার হই। বৃষ্টির পানিতে খানাখন্দগুলো ভরে থাকলে প্রায়ই রিকশা উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।
ত্রিশাল পৌর মেয়র এবিএম আনিছুজ্জামান বলেন, এ সড়কটি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সংস্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর বা ফ্রেবুয়ারী মাস থেকে কাজ শুরু হবে। বৃষ্টির কারনে পানি আটকে সাময়িক যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। চলাচলের উপযোগী করতে সংস্কারের ব্যবস্থা করেছি।









