কুড়িগ্রামের বিভিন্ন চরে চলতি মৌসুমে খেসারি কালাইয়ের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এবার ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় চরের অর্থনীতি বেশ চাঙ্গা। এতে কৃষকরা বেজায় খুশি। পাশাপাশি পবিত্র রমজানে খেসারি ডালের চাহিদা বেশি থাকায় এবং রমজানের আগে ফসল ঘরে তুলতে পাওয়ায় কৃষকদের চোখে- মুখে হাসির জ্বলক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারি কৃষি অফিসার জয়নাল আবেদীন জানান, চলতি বছর কুড়িগ্রাম জেলায় ১ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে খেসারি কালাই চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ১৬১ হেক্টর। তিনি বলেন, চরাঞ্চলে অধিক পরিমাণে এ ডাল চাষ করা হয়ে থাকে। এবার কুড়িগ্রাম সদর উপজলার যাত্রাপুর ইউনিয়নে ব্যতিক্রমভাবে দেড় শতাধিক চাষি যৌথভাবে ২৫ একর জমিতে খেসারি কালাই চাষ করেছে। একসঙ্গে চাষ করায় খরচও কম হয়েছে। অল্প খরচে অধিক কালাই পেয়ে চাষিদের চোখে মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, রোজায় ইফতারিতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পিয়াজু বানাতে এ খেসারি-কালাইয়ের প্রয়োজন হয়। মাত্র সাড়ে ৪ মাস যত্ন নেওয়ার পর পবিত্র রমজান মাসের রোজার পূর্বে এ কালাই ঘরে তুলতে পেরে কৃষকরা খুশি। তাছাড়া এসময় বেশি দামে বিক্রি করে দুটো বাড়তি পয়সা আয় করতে পারবেন চাষিরা।
চাষি সোলায়মান মিয়া জানান, নিজেরা শ্রম দিয়ে যৌথভাবে কালাই চাষ করেছি। বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ৮ হাজার টাকা। সব ধরণের খরচ বাদ দিয়ে বিঘা প্রতি প্রায় ৫ হাজার টাকা করে লাভ থাকবে।
আর এক কৃষক সালাম মিয়া জানান, গত কয়েক বছর ধরে খেসারি-কালাইয়ের বাজার দর প্রতি মণ ছিল ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। এবার ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা মণ দরে কেনা বেচা হচ্ছে। এবার কালাই বিক্রি করে ভালো লাভবান হবো।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাসিদুল হাসান জানান, চরের পতিত জমিতে যৌথভাবে ডাল উৎপাদন করে এবার উদাহরণ সৃষ্টি করেছে দেড়শ পরিবার। এ রমজানের পূর্বে অধিক মূল্যে ডাল বিক্রি করতে পারবে তারা। এতে পতিত জমিগুলোও ব্যবহার উপযোগী হবে এবং যথাযথ পদ্ধতিতে ডাল চাষের মাধ্যমে দেশের চাহিদা মটানো সম্ভব হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুর রশীদ জানান, আমাদের দেশে প্রচুর ডালের চাহিদা রয়েছে। বিদেশ থেকে আমাদের ডাল আমদানি করতে হয়। চলতি বছর জেলায় ১ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে খেসারি কালাইয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেখানে অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ১৬১ হেক্টর। এভাবে চরগুলোতে যথাযথ পদ্ধতিতে ডাল চাষ করা হলে আমাদেরকে আর আমদানি নির্ভর হতে হবে না।









