- রাজধানীর শব্দদূষণের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গার পাল্লা
রাজধানীর চেয়ে কোনো অংশেই কম নয় জেলা শহরগুলোতে শব্দদূষণের মাত্রা। অনেক ক্ষেত্রে রাজধানীর চেয়েও বেশি মাত্রায় শব্দদূষণ ঘটছে জেলা শহরে। দেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় শব্দের মানমাত্রা ৫৫-৬০ ডেসিবেল থাকার কথা থাকলেও তা ১০০ থেকে ১১০ ডেসিবেল অতিক্রম করে গেছে। জেলা শহরের পাঁচটি স্থানের শব্দের মান যাচাই করে এমনটা জানিয়েছে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যায়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালিত শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের শব্দদূষণের ওপর জরিপ করছে ইকিউএমএস কনসালটিং লিমিটেড এবং বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যায়ণ কেন্দ্র (ক্যাপস)। সেই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত সোমবার ক্যাপসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদারের নেতৃত্বে পরিচালিত টিম চুয়াডাঙ্গা শহরে শব্দদূষণের মাত্রা জানতে ৫ স্থানের সাউন্ড লেভেল মিটার স্থাপন করেছে। যে মেশিনটি প্রতি এক মিনিট পরপর তথ্য দিচ্ছে। যার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার শব্দদূষণের মাত্রা জানা যাচ্ছে।
শব্দদূষণ জরিপ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এর আগে দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে পরিবেশ অধিদপ্তরের ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’ এর আওতায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির লেকচারার আব্দুল্লাহ আল নাঈম। তিনি জানান, মানমাত্রায় ৫৫-৬০ ডেসিবেল শব্দ থাকার কথা থাকলেও চুয়াডাঙ্গা জেলায় তা ১০০ থেকে ১১০ ডেসিবেল হয়ে যাচ্ছে। সভায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে গ্রিন ভয়েসের এক সদস্য বলেন, আতশবাজির মাধ্যমেও শহরে শব্দদূষণ ঘটছে। তাছাড়া মটরসাইকেলে সাইলেন্সার লাগালে শব্দ কম হবে বলে উল্লেখ করেন প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাজিয়া আফরীন বলেন, উন্নত দেশের যে স্বপ্ন দেখছি, সেখানে শব্দদূষণে সর্বোচ্চ পর্যায়ে থেকে এ ধরণের স্বপ্ন দেখা মুশকিল। এককভাবে শব্দদূষণ রোধ সম্ভব নয় বলেই সম্মিলিতভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। হাইড্রোলিক ব্রেকের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, বিভিন্ন অভিযানের সময় বিভিন্ন গাড়িতে ২/৩টা করে হাইড্রোলিক ব্রেক পাওয়া যায়। অযথা হর্ন বাজানোকে মানসিক সমস্যা আখ্যা দিয়ে তিনি মানসিকতা পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক আতাউর রহমান বলেন, এ আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো শব্দদূষণ রোধে সবাইকে অংশীদার করা। ব্যক্তিগতভাবে আমরা যে দূষণ করি তা কমাতে হবে। আগে একসময় বাসে-ট্রেনে অনেক সিগারেট খাওয়া হলেও এখন তা কমে গেছে। তেমনি সবাই সচেতন হলে শব্দ দূষণ কমানো যাবে। তাছাড়া এ বছরের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিস হবে বলেও জানান তিনি।
ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের যদি শব্দ দূষণরোধে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ দেয়া যায় তাহলে এটা আমাদের কাজে সহায়ক হবে। নসিমন-করিমন ও হাইড্রোলিক হর্ন অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করলেও এটা তাদের কর্মসংস্থান। তাই যথাযথ আইন প্রয়োগ করতে হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হওয়ার যে স্বপ্ন দেখছে তা শব্দদূষণের কারণে বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তা ও আইন মানার প্রবণতা তৈরি না হলে শুধু সচেতনতা দিয়েও কাজ হবে না। সেক্ষেত্রে পরিবহন ব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিস ও লোকবল বৃদ্ধির বিষয়ও তো রয়েছেই।
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাস মালিক সমিতির সদস্য, সাংবাদিক, পুলিশ, সামাজিক ও পরিবেশবিদসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা। বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।









