সরকার কঠোর হচ্ছে নদী দখল-দূষণের শাস্তির আইনে। সেই সাথে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের ক্ষমতাও বাড়ছে। নতুন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য ‘জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন, ২০২০’ এর খসড়া করেছে কমিশন।
খসড়া আইনে নদীর দখল ও দূষণের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে আগের নদী রক্ষা কমিশন আইনে এই ধরনের অপরাধের জন্য কোনো শাস্তি নির্ধারিত ছিল না। আগের আইনে নদী দূষণ ও দখল রোধে সুপারিশ করা ছাড়া নদী রক্ষা কমিশনের কোনো কাজ নেই।
আর নতুন আইন অনুযায়ী, কমিশন নদী দখল ও দূষণ রোধ এবং নদীর উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া এবং এই নির্দেশনা মানতে সংস্থাগুলো বাধ্য থাকবে। সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে কমিশন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। খসড়া আইনে নদী সংক্রান্ত অপরাধের বিচারের জন্য ‘নদী রক্ষা কোর্ট’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। বর্তমান আইনে চারটি অধ্যায়ে মোট ২১টি ধারা রয়েছে।
নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব) মুজিবুর রহমান হাওলাদার জানান, বর্তমান আইনে কমিশনের ১৩টি কার্যাক্রমের কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে নদীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ-পরিবীক্ষণ করে উন্নয়ন করতে আমরা সুপারিশ করব। ইতোমধ্যে আদালত ২টি আদেশ দিয়েছেন- তারা আমাদের ইতোমধ্যে নদীর অভিভাবক নির্ধারণ করে দিয়েছেন। উন্নয়নসহ নদী রক্ষায় কমিশন সব কাজ করতে বাধ্য বলেও আদালত আদেশ দিয়েছেন। হাইকোর্টের আদেশই চূড়ান্ত, আইনে না থাকলেও আইনের মতোই গণ্য করতে হবে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান ও কমপক্ষে দুইজন নারী সদস্যসহ সর্বোচ্চ ৭ সদস্যের সমন্বয়ে কমিশন গঠিত হবে। কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ৫ বছরের জন্য নিয়োগ পাবেন। কোনো ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদের জন্য নিয়োগ পাবেন, কিন্তু বয়স ৭০ বছর হলে অবসরে যেতে হবে। কমিশনের চেয়ারম্যান ও ৩ সদস্য পূর্ণকালীনের জন্য কর্মরত থাকবেন ও অন্য তিন সদস্য সাম্মানিক ও খণ্ডকালীন হবেন। বর্তমানে ১ জন নারী সদস্যসহ কমিশন পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট। চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মেয়াদ তিন বছর।
খসড়া নদী রক্ষা কমিশন আইনে বলা হয়েছে, কমিশন নদীর সাথে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর, অধিদফতর ও সংস্থা এবং বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা নদী রক্ষা কমিটির কার্যাবলী সমন্বয় করবে। কমিশন বিবেচিত যে কোনো পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য পাঠাবে, যা যৌক্তিক কিংবা আইনগত কোনো কারণ ছাড়া সংশ্লিষ্টরা বাস্তবায়ন করতে বাধ্য থাকবে। সেই সাথে বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদনের মাধ্যমে কমিশনকে জানাবে।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে









