করোনার বৈশ্বিক মহামারীর ধাক্কা লেগেছে ইস্পাত উৎপাদন খাতে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বিশ্বজুড়ে ইস্পাতের সম্মিলিত উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দেড় শতাংশ কমে ৪৫ কোটি টনের নিচে নেমে এসেছে।ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউএসএ) সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকাসহ বিশ্বের সব অঞ্চলেই অপরিশোধিত ইস্পাতের উৎপাদন কমে এসেছে।
সংস্থাটি বলছে, সর্বশেষ মার্চে মাসেও বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদনে মন্দা ভাব বজায় ছিল। এ সময় শিল্প ধাতুটির সম্মিলিত উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ কমে ১৫ কোটি টনের নিচে নেমে এসেছে। খবর মেটাল বুলেটিন ও রয়টার্স।
ডব্লিউএসএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে সংস্থাভুক্ত ৬৪ দেশে সব মিলিয়ে ৪৪ কোটি ৩০ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ কম। এ সময় চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার দেশগুলোয় সব মিলিয়ে ৩১ কোটি ৫২ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে এশিয়ার দেশগুলোয় পণ্যটির উৎপাদন কমেছে দশমিক ৩ শতাংশ।
একই চিত্র দেখা গেছে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাতেও। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোয় সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৮৩ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে ডব্লিউএসএ, যা আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ১০ শতাংশ কম। উত্তর আমেরিকার দেশগুলোয় গত জানুয়ারি-মার্চ সময়ে শিল্প ধাতুটির সম্মিলিত উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৫ লাখ টনে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশ কম।
চীন বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ। চলতি বছরের মার্চে দেশটিতে সব মিলিয়ে ৭ কোটি ৯০ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএসএ, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কম।
আনন্দবাজার/শহক









