করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে ছুটি হলে ভাটা পড়ে দেশের সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যে। তবে ছুটি শেষে আস্তে আস্তে সকল কার্যক্রম শুরু হওয়াতে ইতোমধ্যে প্রাণ ফিরতে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্যেও।
ফলে দীর্ঘদিনের মন্দাভাব কাটিয়ে বর্তমানে গতি ফিরেছে ইন্টেরিয়র ব্যবসায়। দীর্ঘদিন পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আবার নতুন করে কাজ পেতে শুরু করেছে। কেউ কেউ অনেকদিনের জমে থাকা কাজ গ্রাহকদের বুঝিয়ে দিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনার ধাক্কা কাটিয়ে নতুন করে ফ্ল্যাট বিক্রি শুরু হওয়ায় এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেট অফিসগুলো চালু হওয়ায় ডাক পেতে শুরু করেছেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা।
ব্যবসার বর্তমান অবস্থা ভালো জানিয়ে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট কামাল মাহমুদ জানান, করোনায় অনিশ্চয়তা, ব্যাংকগুলোর লেনদেন বন্ধের কারণে গত মার্চের পর প্রায় ৪ মাস আবাসন খাতে ব্যাপক স্থবিরতা ছিল। তবে জুন-জুলাই থেকে আবার আবাসন খাত সচল হতে শুরু করে। ফলে আমাদের বেচাকেনাও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইন্টেরিয়র ডিজাইন প্রতিষ্ঠান এমঅ্যান্ডএস এর কর্ণধার ও অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টেরিয়র ডিজাইনারস বাংলাদেশের (এআইডিবি) বোর্ড মেম্বার মুমানা ইসলামজানান, করোনার প্রথম দুই-আড়াই মাস কাজ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এখন আমরা আবার কাজ পাচ্ছি। কারণ মার্কেটে কাজ আছে। করোনা আপুরি৩ মাস পরে আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছি।
তবে করোনার কারণে নানা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি অনুষ্ঠান, মেলা ও সেমিনার বন্ধ থাকায় ছোট-বড় ইন্টেরিয়র ডিজাইন ফার্মেও আয় আগের চেয়ে অনেক কমেছে। সেই সাথে আসন্ন বইমেলা ও বাণিজ্যমেলার স্টল, প্যাভিলিয়ন কিংবা মিনি প্যাভিলিয়নের কাজ নিয়ে আশার পাশাপাশি আছে শঙ্কা।
ডিজাইনাররা জানান, মেলাগুলোর স্টল, প্যাভিলিয়ন নির্মাণ এবং ডিজাইনের কাজসহ বছরের প্রথম কয়েক মাস আমাদের হাতে অনেক কাজ থাকে। কিন্তু চলতি বছর করোনার সেকেন্ড ওয়েভের কথা শুনেছি। তাই মেলাগুলো না হলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব।
এদিকে আবার ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কাঁচামাল আমদানি নির্ভর হওয়ায় করোনার কারণে যোগানে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেয়।
ইন্টেরিয়র আর্টের ম্যানেজার শাহেদুল আলম জানান, ইন্টেরিয়র ডিজাইনে ব্যবহার হয় ওয়ালপেপার, উডেন ফ্লোর, পিভিসি ফ্লোর, আর্টিফিসিয়াল কার্পেটসহ সিলিং। আর এগুলো সবই আসে বিদেশ থেকে। যেহেতু এয়ারপোর্টে কড়াকড়ি তাই দোকানে এই ম্যাটেরিয়ালসগুলোও অনেক কম। আমাদের ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ ছিল প্রায় ৩/৪ মাস। এখন কিছু বিক্রি হচ্ছে। এখনকার লাভের টাকা দিয়ে শুধু দোকান ভাড়ার টাকা তুলতে পারছি।
আনন্দবাজার/এইচ এস জে









