আবাহাওয়ার বিরূপ আচরণে রংপুর বিভাগে দফায় দফায় মুসলধারে বৃষ্টি ও হিমলে হাওয়ার দাপট দেখা যাচ্ছে এখনও। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শাক-সবজির ক্ষেত যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেমনি উৎপাদনও কমেছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শাক-সবজির বাজারে। বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। তবে বাজারে সবজির দাম বাড়ার সুফল মিলছে না চাষিদের। চাষিরা হতাশা প্রকাশ করে বলছেন, বাজারে দাম বেশি ঠিকই, তবে বাড়তি দাম তো আমরা পাচ্ছি না।
রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শাক-সবজির দাম আকাশচুম্বি। হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে ক্রেতা-বিক্রেতারা বাকবিতণ্ডাতেও জড়াচ্ছেন। প্রতিকেজিতে সবজির দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকার বেশি। বর্তমানে প্রতিকেজি বেগুন ৪৫-৫০ টাকা, শিম ৪০ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা, আলু ১৫ টাকা, টমেটো ৩৫-৪০ টাকা, গাজর ২০ টাকা, ক্ষিরা ৪০ টাকা, মূলা ২০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, করলা ১০০-১২০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২০ টাকা, বাঁধা কপি ১৫ টাকা, লাউ ৫০-৮০ টাকা (প্রতি পিস প্রকার ভেদে), ধনিয়া পাতা ১০০ টাকা, লাল শাক ৬০ টাকা, পালং শাক ৬০ টাকা, লাফা শাক ৭০ টাকা, সরিষা শাক ৬০ টাকা দরে বেচাবিক্রি হচ্ছে। অথচ কয়েকদিন আগেও এসব শাক-সবজির দাম ছিল অনেক কম। হঠাৎ বৃষ্টির কারণে এমন দাম বেড়ে গেছে বলে দাবি কৃষক ও বিক্রেতাদের।
রংপুর সিটি বাজারে সবজি কিনতে আসা সাদ্দাম হোসেন ডেমি আনন্দবাজারকে বলেন, এক সপ্তাহ আগে শাক-সবজির দাম কমই ছিল। বর্তমানে অস্বাভাকি দামে কিনতে হচ্ছে। এতে করে স্বল্প আয়ের মানুষেরা শাক-সবজি ক্রয়ে হিমসিম খাচ্ছে। খুচরা সবজি ব্যবসায়ী আকবর আলী আনন্দবাজারকে জানান, আড়ৎ থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এ কারণে ক্রেতাদের কাছে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
কৃষক জয়নাল আবেদীন আনন্দবাজারকে জানান, দুই বিঘা জমিতে নানা প্রকার সবজি আবাদ করছেন। হঠাৎ করে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এতে ফসল উৎপাদন কমেছে। তিনি জানান, ফুলকপি আমরা মাঠ থেকে বিক্রি করছি ১৮-২০ টাকা। কিন্তু বাজারে যাওয়ার পর সেই সবজির দাম হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা। আড়ৎদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণেই সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
আড়াই বিঘা জমিতে বাঁধাকপিসহ নানা সবজি আবাদ করেছিলেন লালমনিরহাটের কমলাবাড়ির চাষি আজিজুল ইসলাম। দফায় দফায় বৃষ্টির কারণে তার অর্ধেক জমির সবজি পচে নষ্ট হয়েছে। যে সবজি মাঠে রয়েছে তার দাম ভালো পাচ্ছেন। তবে যতটুকু পাওয়ার কথা সেভাবে লাভবান হচ্ছেন না। তাদের সবজি কিনে লাভবান হচ্ছেন আড়ৎদাররা।
রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ আহমেদ দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, বাজারে সবজির দাম আকাশচুম্বি। তবে তার সুফল পাচ্ছে না চাষিরা। কারণ মধ্যস্বত্বভোগিরা মাঠ থেকে সবজি কিনে এনে দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর এর খড়গ পড়ছে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা ভালো না থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।
রংপুর কৃষি বিভাগের উপপরিচালক উবায়দুর রহমান মণ্ডল আনন্দবাজারকে জানান, টানা বৃষ্টিতে কিছু সংখ্যক সবজি ক্ষেতে পানি জমেছে। যাতে ফসলের ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া উৎপাদন কমে যাওয়ায় শাক-সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। আমরা মনিটরিং করছি যাতে বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রকৃত চাষিরা সুফল পায়।
আনন্দবাজার/শহক









