বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশেই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ৩০.৮৬ বিলিয়ন ডলার। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে অতিক্রম করেছে। তবে বিভিন্ন উৎপাদন উপকরণের ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রতিযোগি দেশগুলো থেকে সক্ষমতায় পিছিয়ে থাকায় আগামী বাজেটে বেশ কিছু সুবিদার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প খাতের উৎসে কর শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ আগামী ৫ বছর পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করেছে বিজিএমইএ। পাশাপাশি করপোরেট কর সাধারণ কারাখানার জন্য ১২ শতাংশ এবং সবুজ কারখানার জন্য ১০ শতাংশে আগামী ৫ বছরের জন্য বহাল রাখার প্রস্তাবও করে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারী এই খাতের উদ্যোক্তারা।
নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ কর থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে। তাছাড়া রপ্তানিকে প্রতিযোগি করে তোলার জন্য স্থানীর বাজার থেকে নেয়া পণ্য ও সেবায় ভ্যাট মওকুফ চায় সংস্থাটি। এসবের মধ্যে রয়েছে রপ্তানি সংশ্লিষ্ট ছাপাখানা (প্রিন্টিং), কুরিয়ার বা এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিস, অডিট অ্যান্ড একাউন্টিং ফার্ম ও ফেয়ার ট্রেড।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিজিএমইএ সভাপতি মো. ফারুক হাসানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য প্রাক বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব দেন। এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মু. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আলোচনায় বিজিএমইএ প্রতিনিধিরা ছাড়াও এনবিআর সদস্য (শুল্ক নীতি) মু. মাসুদ সাদিক, সদস্য (ভ্যাট নীতি) জাকিয়া সুলতানা এবং সামসুদ্দিন আহমেদ সদস্য (আয়কর নীতি) উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর চ্যালেঞ্জ আমরা অনেক দেশের তুলনায় অনেক বেশি ভালো মতো মোকাবিলা করে এখন তার ফল পাচ্ছি। এখন আমাদের রপ্তানি কোভিডের আগের অবস্থার তুলনায় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন মাসে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই উর্ধমুখী ধারা আরও বাড়ানোর সুযোগ আছে। এই সুযোগ নেওয়ার জন্য পণ্যমূল্য কমানোসহ ক্রেতাদের পণ্য ধরনের অনুরোধসহ আরও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তাই উদ্যোক্তারা চাপে রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে উৎসে কর বিদ্যমান শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ, করপোরেট কর সাধারণ কারখানার জন্য ১২ শতাংশ এবং সবুজ কারখানার ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ আরও ৫ বছর পর্যন্ত বহাল রাখার অনুরোধ করছি। এই খাতের উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে নগদ সহায়তার ওপর যে ১০ শতাংশ হারে আয়কর নেওয়া হয় তা রহিত করার প্রস্তাবও দেন তিনি।
এসময় বিজিএমইএ সভাপতি রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশেষ সমস্যা চিহ্নিত করে বলেন, আমাদের বেশি সমস্যা হচ্ছে এইচএস কোড দিয়ে কোনও পণ্য চিহ্নিতকরণ সমস্যা হলে ওই পণ্য জাহাজীকরণ করতে বাধা দেওয়ার কারণে ক্রেতার পণ্য পেতে দেড়ি হচ্ছে। এমন সমস্যায় পড়ে আমাদের রপ্তানি পণ্যে সরবরাহের সক্ষমতা নিয়ে নেতিবাচক প্রচার বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিজিএমইএর পণ্যের বর্ণনা দিয়ে পণ্য ছাড়ের অনুরোধ জানান তিনি।
বিজিএমএ সভাপতি বলেন, কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্ডার বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকে আমাদের সুতার চাহিদা বেড়ে গেছে। প্রতিবেশি ভারত থেকে তুলা আমদানিতে বেনাপোল বন্দরসহ কয়েকটি বন্দরে তুলা আমদানিতে কিছু সমস্যা হচ্ছে। ভারত থেকে বড় চালানের এলসি থেকে আংশিক তুলা আমদানি করতে গেলে স্থল বন্দরগুলো করতে দিচ্ছে না। অথচ বড় চালানোর বিপরীতে ছোট ছোট লটে তুলা আনতে পারলে আমাদের ওই পণ্যের গোদামজাতসহ ব্যয় কমে যাবে। এভাবে সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
এসব দাবি শোনার পর এনবিআর চেয়ারম্যান মুনিম বলেন, কোভিড-১৯ এর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সরকার যে সুযোগ সুবিধা আপনাদের দিয়েছে আমি মনে করি সেই সুবিধা নিয়েই আজকে আপনাদের অর্ডারে অর্ডারে ভরে যাচ্ছে। আমরাও চাই আপনাদের উন্নতি।
আপনারা আমদানি রপ্তানিতে যে সহজীকরণ দরকার তা আমরা করতে চাই। অনেক সময় সহজীকরণ ঢালাওভাবে করা যায় না। কারণ এ ঢালাওভাবে করতে গেলে অনেকে সুযোগের অপব্যবহার করে থাকে। সামনে অটোমেশেনের মাধ্যমে আমদানি পণ্য আনা থেকে রপ্তানি পর্যন্ত আরো সহজ হয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
এসময় এইচএস কোড সমস্যা নিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, এটা আমরা সিরিয়াসলি দেখবো। তাছাড়া পোশাক শিল্পের পশ্চাত শিল্পের সম্প্রসারণে তাদের দাবিগুলো পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে জানান তিনি। সমাপনি বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মধ্যম আয়ের দেশ হতে হলে পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে তাগিদ দেন। তাছাড়া রপ্তানিতে বৈচিত্র নিয়ে আসার বিষয়টি ইতিবাচক দিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আনন্দবাজার/শহক









