- তিন দফার পর ফের বাড়ানোর প্রস্তুতি
- কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিক
- বেড়েছে জাহাজীকরণ খরচ
চলতি বছরেই দেশের বৈদ্যুতিক কেবল প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো তাদের উৎপাদিত কেবলের দাম তিন দফায় বাড়িয়ে দিয়েছে। এরপরও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় আবারো দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন মূল্যহার বাস্তবায়ন হলে এক বছরের ব্যবধানে কেবলের মূল্যবৃদ্ধির হার ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। তবে চলতি নির্মাণ মৌসুম শুরু হওয়ার পর কেবলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও বাড়তি দামের কারণে আগের বছরগুলোর তুলনায় এ বছর বিক্রি কমে গেছে আশঙ্কাজনক হারে।
কোম্পানির বিপণন বিভাগের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, দেশের কারখানাগুলোতে পণ্য উৎপাদন স্বাভাবিক থাকলেও বিভিন্ন কোম্পানির গুদামে উৎপাদিত কেবলের মজুদ দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী ইস্পাতসহ বিভিন্ন কাঁচামালের অস্বাভাবিক দাম বেড়ে যাওয়াসহ জাহাজীকরণ খরচ বাড়ার কারণে দেশে কেবলের দাম এক বছরে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে।
সূত্রমতে, ২০২০ সালের শেষ দিকে বিশ্ববাজারে বৈদ্যুতিক কেবল তৈরির প্রধান কাঁচামাল কপারের টনপ্রতি বুকিং ছিল মাত্র ৫ হাজার থেকে ৫ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত। তবে ধাপে ধাপে দাম বেড়ে কপারের বর্তমান বুকিং দর টনপ্রতি ৯ হাজার ৭০০ থেকে ৯ হাজার ৮০০ ডলারে উঠে গেছে। ফলে দেশীয় কোম্পানি তাদের উৎপাদিত কেবলের দাম বাড়িয়েছে দিয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। দফায় দফায় কপারের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে কেবলের দামও বেড়ে যাচ্ছে। আরেক দফা বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে।
সূত্রমতে, দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে ২০টি কোম্পানি কেবল পণ্য উৎপাদন করছে। শীর্ষে রয়েছে কুষ্টিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিআরবি কেবল। দেশে সব মিলিয়ে বৈদ্যুতিক কেবলের বাজার প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার কোটি টাকার। যার ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রথম সারিতে রয়েছে বিবিএস কেবল, আরএফএলের বিজলি কেবল, পারটেক্স ৎকেবল ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন। এছাড়াও ওয়ালটন কেবল, পলি কেবল, সুপার সাইন কেবল, এমইপি কেবল, প্যারাডাইন কেবল, আর আর কেবল (ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ), এসকিউ কেবল দেশের কেবল পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের আরেক প্রতিষ্ঠান গাজী ওয়্যারস বিভিন্ন গ্রেডের কপার ওয়্যার উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। কপারের বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রায় সবগুলো প্রতিষ্ঠানই উৎপাদন ও বিপণন সংকটের কবলে পড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছে, বিশ্ববাজারে কপার পণ্যের দাম এক বছরের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। যার কারণে উৎপাদিত কেবলের দামও বাড়ানো ছাড়া উপায় ছিল না। বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কীভাবে দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায়, সেটার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কাঁচামালের দাম বাড়া ছাড়াও বিশ্ববাজার থেকে আমদানি করা পণ্য দেশে আনতে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। শিপিং চার্জ বেড়ে যাওয়ার কারণে কাঁচামালের দামে এর প্রভাব পড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঁচামাল আমদানি করতে না পারায় ব্যাংকঋণের দায় পরিশোধে বিলম্বে আমদানি খরচ বেড়েছে। এতে পণ্যের উৎপাদন খরচের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
আনন্দবাজার/শহক









