সাগর আর নদীর ইলিশ মাছের স্বাদে অনেকটা পার্থক্য আছে। নদীর ইলিশে যে ঘ্রাণ থাকে সাগরের ইলিশে সেটা খুব একটা থাকে না। চলতি বছর ভোলার নদীগুলোতে প্রত্যাশা অনুযায়ী ইলিশ পাচ্ছে না জেলেরা। তারা জানিয়েছেন, সাগর থেকে নদীতে প্রবেশের মুখে বাধা, ডুবোচর, অবৈধ জাল ও উত্তরের ঢলে পলি–বর্জ্য থাকায় জেলাটিতে নদীর ইলিশের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সবাই।
ফলে জেলেরা নদীর ইলিশ না পেয়ে ছুটছেন সাগরে। কিন্তু জেলেরা নানা আয়োজন করে সাগরে গেলেও পরিমাণ ইলিশ পাচ্ছেন, তা বিক্রি করে তাদের পর্যাপ্ত খরচ উঠছে না। ফলে অধিকাংশ জেলেদের বেশির ভাগই মহাজনদের কাছে থেকে ঋণ নিয়ে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। লোকসান হওয়াতে তারা আরও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।
জানা গেছে, ভোলার সাত উপজেলা থেকেই ফিশিং বোট এবং বড় ট্রলার নিয়ে জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে যায়। এছাড়া উপকূলের অন্য জেলা থেকেও সাগর সাগরে মাছ ধরতে যায় জেলেরা। ফলে বেশি সংখ্যক ট্রলারের কারণে ইলিশ নদীতে উঠতে পারছে না।
এছাড়া নদীতে ইলিশের প্রবেশপথে ও সাগর মোহনার ডুবোচরে অসাধু জেলেরা বেহুন্দি, চরঘেরা, পিটানো, খরছি, জাম খরছি নামের অবৈধ জাল পাতছেন। এসব জাল অনেকটা বেড়ার মতো। তজুমদ্দিন উপজেলার সাগরগামী জেলে আবু সাঈদ মাঝি জানান, প্রভাবশালীদের পেতে রাখা অবৈধ জালের কারণে ইলিশ বাধা পেয়ে আবার সাগরে ফেরত যায়। সেই সাথে এসব অবৈধ জাল যেখানে পাতা হয়, সেই স্থানে কিছুদিনের মধ্যেই চর পড়ে যায়।
এই ব্যাপারে জেলে ও মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, উত্তরের ঢলের পানির সাথে প্রচণ্ড পরিমাণ বর্জ্য ও পলি নামছে। ভাটার সময় তীব্র বেগে পানি নামে। ফলে জোয়ারের সময় মনে হয়, সাগরের পানি উঠতে পারছে না, স্থির হয়ে আছে। এই বর্জ্যযুক্ত দূষিত পানির কারণে ইলিশও উঠছে না।
চাঁদপুর ইলিশ গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান আনিসুর রহমান জানান, নদীতে ইলিশ কম পাওয়ার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তবে বর্তমানে এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলে, ট্রলার ও ডুবোচরকেই প্রধান কারণ মনে করছে মৎস্য বিভাগ। আর এই সমস্যা সমাধানের জন্য সবার আগে নদীতে ইলিশ প্রবেশের পথ তৈরি করতে হবে। তা না হলে দেশে ইলিশের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির যেমন খারাপ হবে তেমনি জেলেদের সুদিনও বদলে যেতে পারে।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে









