উত্তরাঞ্চলের প্রায় সব চালের কলই বন্ধ পরে রয়েছে। ধানের যা দাম তাতে চাল করে পোষায় না। বেশি দাম দিয়ে ধান কিনে চাল করে অনেক ব্যবসায়ীকে লোকসান গুনতে হয়েছে। এছাড়া বছর শেষে অনেকে চালকলগুলো মেরামত কাজ করছেন।
বিশেষ করে অটোরাইস মিল এবং সেমি অটোরাইস মিলগুলোতে এখন মেরামত কাজ চলছে। সারাবছরে এসব মিলগুলোতে একবারই মেরামতের কাজ হয়। এ সময় যেহেতু ধানের সংকট থাকে তাছাড়া মৌসুমও শেষের দিকে সে কারণে অনেকে মিল বন্ধ রেখে মেরামতের কাজ করছেন।চালকল মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বগুড়ার শেরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার চার হাজার ১৫০টি মিলের মধ্যে দুই-চারটা বাদে প্রায় সব চাল কলই এখন বন্ধ রয়েছে।
চাল ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আমনের মৌসুম শেষ হয়েছে। আর কিছুদিন পরই আসতে যাচ্ছে বোরোধানের মৌসুম। এখন চাষীদের ঘরে বিক্রি করার মতো কোনো ধান নেই। যা ধান রয়েছে তা সব মজুতদারদের হাতে। আমনের সিজনের সময় যে ধান ৬০০ টাকা মণ ছিল তা এখন ৯০০ থেকে হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আর চিকন ধানের সিজনের সময় যেটা ৮০০ ছিল তা এখন ১২০০ টাকা। এই দামে ধান কিনে মোকামে চালের যে মার্কেট প্রাইজ তাতে পোষায় না। তাছাড়া অনেক মিলমালিকের ঘরে হাজার হাজার বস্তা চাল রয়েছে। ১৫-২০ দিন চাল না ভাঙালেও তাদের তেমন অসুবিধা হবে না।
দিনাজপুরের চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন বলেন, গোটা দিনাজপুর জেলায় প্রায় ১ হাজার ৬৫০টি চালের মিল আছে। এর মধ্যে ২০০টি অটোরাইস মিল রয়েছে।
বর্তমানে এসবের অধিকাংশ মিলই বন্ধ। অনেকে চালকল মেরামতের কাজ করছে। এছাড়া দিনাজপুরে প্রায় এক হাজার ২০০টি হাসকিং চালকল রয়েছে, এগুলো প্রায় সারাবছর বসেই থাকে। কারণ মানুষ এখন অটোরাইস মিলের চাল ছাড়া কোন চাল খেতে চায় না। তিনি আরও বলেন, নতুন সিজন শুরু হতে প্রায় এক মাস লাগবে।
আনন্দবাজার/তা.তা









