দশকভিত্তিক জিডিপি--
- বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে ৪৫ শতাংশ ধনী
- টানা দুবছর জিডিপি ভারতের চেয়ে বেশি
- শেষ দশকেও প্রবৃদ্ধি আড়াই গুণ
- দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এক-তৃতীয়াংশ
বাংলাদেশ গত এক দশকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে প্রবৃদ্ধির হারে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ২০১০-১৯ সাল পর্যন্ত এই সময়ে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ হচ্ছে চীন। তাদের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। সেখানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ২০১০-১৯ সালে বিশ্বে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক শূন্য, দক্ষিণ এশিয়ায় এটি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। স্বপ্লোন্নত দেশে ৪ দশমিক ৮, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে ৫ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৬ দশমিক ৩ ও ভারতের ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২০ সালে ১৯৪টি দেশ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তারমধ্যে মাত্র ১৬টি দেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি। এদিকে বাংলাদেশের গত দশকগুলোতে গড়ে এক শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি হারে গ্রোস ডেভেলপমেন্ট প্রোডাক্ট-জিডিপি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৭০ এর দশকে জিডিপি ছিল ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। ৮০ দশকে তা ৩ দশমিক ৫৪, ৯০ দশকে ৪ দশমিক ৭১, ২০০০ দশকে ৫ দশমিক ৫৫, ২০১০ দশকে ৬ দশমিক ৭৬ এবং ২০২০ দশকে তা ৬ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হয় বলে জানায় বিশ্ব ব্যাংক।
সেই সঙ্গে বেড়েছে মাথা পিছু জাতীয় আয়ও। ১৯৭০ এর দশকে মাথা পিছু আয় ছিল ১৮০ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার। ৮০ দশকে ২৫১ দশমিক ৬, ৯০ দশকে ৩৫৩ দশমিক ২, ২০০০ দশকে ৫৭৮ দশমিক ৬, ২০১০ দশকে ১৪২৩ দশমিক ৬ এবং ২০২১ দশকে ২৫৯১ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ দশকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে আড়াই গুণ (২.৪৬ শতাংশ)। এ ক্ষেত্রে তৈরি পোশাকশিল্প, প্রবাসী আয় বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকায় ‘বঙ্গবন্ধু-আমাদের স্বাধীনতা ও ৫০ পেরিয়ে আজকের এ দেশ’ শীর্ষক প্রবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।
প্রবন্ধে তিনি বাংলাদেশের ৭টি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা ও অর্জনও তুলে ধরেন। তাতে বলা হয়, প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ১৯৭২-৭৮ এ গড় জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫.৫ শতাংশ। সেখানে অর্জিত হয়েছিল ৪ শতাংশ। মাথাপিছু জিডিপি ছিল ১ দশমিক ৩ শতাংশ। দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ১৯৮০-৮৫ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫.৪ শতাংশ ও অর্জন ছিল ৩.৮ শতাংশ। তৃতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ১৯৮৫-৯০ ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ ও অর্জন ছিল ৩.৮ শতাংশ। চতুর্থ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ১৯৯০-১৯৯৫ ছিল ৫ শতাংশ সেখানে অর্জন ছিল ৪.২ শতাংশ। পঞ্চম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ১৯৯৭-২০০২ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭.১ শতাংশ সেখানে অর্জন ছিল ৫.১ শতাংশ। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ২০১১-১৫ ছিল ৭.৩ শতাংশ সেখানে অর্জন ছিল ৬.৩ শতাংশ। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ২০১৬-২০২০ এ ছিল ৭.৪ শতাংশ এবং অর্জন ছিল ৭.১৩ শতাংশ। বর্তমানে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় জিডিপি ধরা হয়েছে ৮.৫১ শতাংশ।
প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম লেখেন, ২০০৯ হতে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিগত এক দশকে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে তিনগুণ। আর অন্যকোনো দশকেই এমন বৃদ্ধি ঘটেনি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরে মাথাপিছু আয়ের বিচারে পাকিস্তান ৭০ শতাংশ বেশি ধনী ছিল। বর্তমানে বাংলাদেশ ৪৫ শতাংশ ধনী। আর এখন বিগত দু’বছর ভারতকে মাথাপিছু আয়ে পেছনে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ।
সেন্টার ফর ইকোনমকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চের (সিইবিআর) এর হিসাব মতে, ২০৩৫ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৫তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হবে। এমনকি হংকং সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশনের প্রক্ষেপণ হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৬তম অর্থনীতির দেশ হবে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউবিএস-এর তথ্যমতে, ২০৫০ সালে ১২তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী লেখেন, আমাদের দেশের এক-তৃতীয়াংশ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। এদের মধ্যে ১৫-২৯ বছর বয়সীদের ২৯.৮ শতাংশ শিক্ষা, কাজ ও প্রশিক্ষণে যুক্ত নেই। তাদেরকে এসব কাজে যুক্ত করতে হবে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল কাজে লাগাতে হবে। তাছাড়া অনলাইন বাজারে ভারতের পরই আমাদের অবস্থান। বিশ্বের ৮ম বৃহত্তম জনসংখ্যার এই দেশটির জনশক্তিকে কর্মশক্তিতে পরিণত করতে ব্যবসায়সহ সব পরিবেশ উন্নত করতে হবে।









