ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তির শঙ্কা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তীব্র যানজটে প্রতি ঈদেই ঘর মুখো মানুষকে পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দূর্ভোগ। ঈদে এ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ সাধারণ সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার কারণে এ যানজট চরম আকার ধারণ করে। আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে প্রশাসন প্রতি বছর এ মহাসড়কে যানজট নিরসনে কাজ করলেও শেষ পর্যন্ত যানজটের দুর্ভোগ থেকে নিস্তার পায় না সাধারণ মানুষ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে সাইনবোর্ড এলাকা থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এ যানজটে নাকাল হতে হয় ঘরমুখো যাত্রীদের। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড, কাচঁপুর, মদনপুর, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা ও মেঘনা টোলপ্লাজা এলাকায় বেশ কিছু স্থানে ট্রাফিক আইন অমান্য করে প্রতি নিয়ত যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহন সড়কের এক পাশ থেকে অপর পাশে যাওয়ার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। যা ঈদের সময় আরো তীব্র আকার ধারন করে। এ মহাসড়কে যানবাহনের অবৈধ স্ট্যান্ড, ফুটপাত দখল করে দোকানপাট নির্মাণ ও ট্রাফিক সিগন্যালের কারলেই মূলত যানজটের সৃষ্টি। তাছাড়া এ সড়কে চলাচল নিষিদ্ধ তিনচাকার অটো সিএনজি ও রিক্সা চলাচলও যানজটের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন এ সড়কে চলাচলরত দ্রুত গতির যানবাহনের চালকরা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটের আরো একটি কারণের মধ্যে রয়েছে পন্যবাহী ট্রাকের অবাঁধ চলাচল। বিশেষ করে সোনারগাঁয়ের মেঘনা শিল্পাঞ্চল ও কাঁচপুর শিল্পাঞ্চলসহ চারটি ইকোনমিক জোনের অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের শত শত পন্যবাহী ট্রাক এ সড়কে চলাচল করছে ফলে স্বাভাবিক ভাবেই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। পন্যবাহী ট্রাক রাতের বেলা চলাচল করার কথা থাকলেও দিনরাত চব্বিশ ঘন্টাই নিয়ম বর্হিভূতভাবে এগুলো চলাচলের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।
রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১২টি জেলা ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের ৭টি জেলার সরাসরি যোগাযোগ এ মহাসড়কের মাধ্যমে। তাছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমদানী ও রপ্তানী পন্যের পরিবহনগুলো এ পথেই নিয়মিত চলাচল করে থাকে।
যার ফলে এ মহাসড়কটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত মহাসড়ক হিসেবে পরিচিত। এ সড়কে যাত্রীবাহী পরিবহনের পাশাপাশি পন্যবাহী পরিবহনের চাপেই যানজট ভয়াবহ রূপ নেয় বলে জানিয়েছেন কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ। তারা বলছেন এ মহাসড়কে যানজট নিরসনে ঈদের তিনদিন আগে থেকেই পন্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে। শুধুমাত্র জরুরী পন্যবাহী ট্রাকগুলোকেই শর্ত সাপেক্ষে চলাচলের অনুমতি দেয়া হবে। তবে হাইওয়ে পুলিশের এ উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয় না বলে জানিয়েছেন এ পথে চলাচলকারী দূরপাল্লার যাত্রীবাহী পরিবহনের চালক নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, হাইওয়ে পুলিশ ঈদে যানজট নিরসনে পন্যবাহী ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রনের ঘোষণা দিলেও বিভিন্ন আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে তারা এসব ট্রাক চলাচলের সুযোগ দিয়ে থাকেন ফলে যানজট কোনভাবেই নিরসন হয় না।
ব্যস্ততম এ মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রবেশ ও শহর থেকে বের হওয়ার জন্য যানবাহনকে প্রতি ১০ মিনিট পর পর ট্রাফিক সিগন্যালে পরতে হয়। ফলে এ ট্রাফিক সিগন্যালের কারণে স্বাভাবিক সময়েই যাত্রীদেরকে পরতে হয় যানজটের কবলে ঈদে এটি আরো ভয়ংকর রূপ নেয়। এখানকার যানজট নিরসনে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এখানে একটি ইউলুপ এর কাজ শুরু করলেও এখন পর্যন্ত ইউলুপ এর কাজ শেষ হয়নি ফলে আসন্ন ঈদে এ এলাকায় তীব্র যানজটের আশংকায় রয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। তাছাড়া কাঁচপুর এলাকায় কাচঁপুর সেতু থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে নামার সময় ওভার পাসের ব্যবস্থা থাকলেও সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়তই যানজটের মুখে পরতে হচ্ছে। কাঁচপুর এলাকায় মহাসড়কের পাশে অবৈধ ভাবে ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো ও মহাসড়ক ঘেঁেষ কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের জব্দকৃত যানবাহন ডাম্পিং করে রাখার কারণে এ সড়কটি দিয়ে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া কাঁচপুর এলাকায় লোকাল যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট কোন স্ট্যান্ড না থাকার কারণে মহাসড়কের পাশেই যানবাহন রেখে যাত্রী উঠা নামার কারণে যানজটের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শাসক দলের স্থানীয় প্রভাবশালীরা এসব ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকানপাট নির্মান করে ভাড়া দিচ্ছেন। তাছাড়া মহাসড়কের পাশের অবৈধ স্ট্যান্ডগুলো নিয়ন্ত্রন করছে তারা। অবৈধ স্ট্যান্ড ও অবৈধ দোকানপাট থেকে আদায় করা মাসোহারার একটি অংশ প্রভাবলাশীদের পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশের পকেটেও যায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভুগীরা।
এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর এলাকায় পন্যবাহী পরিবহনের চাপে এশিয়ান হাইওয়েতে সৃষ্টি হচ্ছে চরম যানজট। বিশেষ করে টঙ্গি ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পন্যবাহী যানবাহনগুলো এশিয়ান হাইওয়ে দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এসে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে বের হচ্ছে এবং চট্টগ্রাম থেকে পন্য নিয়ে এ পথে গাজীপুরে প্রবেশ করছে। ফলে মদনপুর এলাকায় এশিয়ান হাইওয়ের পন্যবাহী পরিবহনের চাপে এ পথে প্রতিদিনই ছোট বড় যানজট সৃষ্টি হয়। মাঝে মাঝে এ যানজটের তীব্রতা এমন প্রকট আকার ধারন করে যে এটি মদনপুর থেকে রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার উপজেলা পর্যন্ত বিস্মৃত হয়ে যায়। প্রতি ঈদে এ পথে যানজট একটি নৈমিত্তিক ঘটনা।
মদনপুরের যানজটের ফলে নরসিংদী ও আড়াইহাজার ও বন্দরের মদনগঞ্জে চলাচলকারী যাত্রীদেরকে বেশ ভোগান্তির শিকার হয়।
মদনপুর এলাকাতেও যানবাহনের স্ট্যান্ড না থাকায় ছোট বড় সব ধরনের যানবাহনই মহাসড়ক দখল করে রাখা হয়। এতে যানবাহন চলাচলে ধীর গতি সৃষ্টি হওয়ার কারণেও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
এ মহাসড়কের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকাও যানবাহনের কোন নিদির্ষ্ট স্ট্যান্ড নেই তাছাড়া এ মহাসড়কের উভয় পাশে অবৈধ ভাবে ফুটপাত দখল করে দোকানপাট নির্মান করার কারণে প্রতিনিয়তই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফুটপাত দখল করে রাখার কারণে যাত্রীরা মহাসড়কের উপর দিয়ে দিয়ে চলাচল করছেন। এতে গাড়ীর গতি কমে যাচ্ছে তাই প্রায়শই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
এছাড়া মেঘনা সেতুর টোল প্লাজায়ও ঈদে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে টোল আদায়ে বিলম্ব হওয়ার কারণেই এ যানজটের মূল কারণ। প্রতি বছর একই সমস্যা হলেও কর্তৃপক্ষ ঈদে টোল দ্রুত আদায়ের জন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। ফলে যাত্রীদেরকে পরতে হয় জনদূর্ভোগে।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. নবীর হোসেন জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এ সড়কে চলাচল করে। ঈদে এ মহাসড়ককে যানবাহনের চাপ অত্যাধিক বেড়ে যায়। আমরা এ মহাসড়ককে সবসময়ই যানজট মুক্ত রাখার জন্য চেষ্টা করি। এছাড়া মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদও অব্যাহত আছে।
বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসন খাঁন জানান, সাইনবোর্ড এলাকার যানজট নিরসনে সওজের পক্ষ থেকে সানারপাড় এলাকায় একটি ইউলুপ এর নির্মাণ কাজ চলমান আছে। এ ইউলুপে নারায়ণগঞ্জগামী পরিবহন ঘুরে আসতে হবে। সরাসরি সাইবোর্ড দিয়ে নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ কিংবা বের হতে পারবে না। আশা করা যায় এটি চালু হলে মহাসড়কে এখানকার যানজট সমস্যার সমাধান হবে।









