বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন যে বার্তা দিচ্ছে তা অতি ভয়ঙ্কর। কিছু তথ্য উপাত্ত নিয়ে এখনও বিশেষজ্ঞ পর্যায়েই জোরালো আলোচনা চলছে। সাধারণ মানুষ সেই ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। পরিবেশবিষয়ক সীমাবদ্ধ জ্ঞান বা অন্ধবিশ্বাস জলবায়ু পরিবর্তনের লালবার্তা সম্পর্কে অন্ধকারে রাখছে সাধারণ মানুষকে। তবে ‘অন্ধ হলেই যে প্রলয় বন্ধ থাকে না’ তা টের পেতে শুরু করেছেন সচেতন জনগোষ্ঠী।
কিছুদিন আগে ইউরোপে অনুষ্ঠিত কপ-২৬ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশের বিভিন্ন দিকের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন বিশ্বনেতারা। কেউ কেউ বলেছেন, এখনই বায়ুমণ্ডলে কার্বনের পরিমাণ না কমালে বিশ্ব মৃত্যুকূপে পরিণত হবে। জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরাসের ভাষ্য ছিল এরকম, ‘আমার নাতীদের দিকে তাকাতে পারি না। কেননা আমরা তাদের জন্য কবর খুঁড়ে যাচ্ছি। তাই এখনই সময় পরিবেশের ভারসাম্য নিয়ে কাজ করার’।
বহুমুখী গবেষণায় দেখা গেছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার কারণে ব্যাপকহারে কর্মঘণ্টা হারাচ্ছে বিশ্ববাসী। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলো। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশ। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ভয়ংকর এক তথ্য হাজির করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক ইউনিভার্সিটি পরিচালিত নতুন এক গবেষণা। তাতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার কারণে বাংলাদেশ বছরে জনপ্রতি ২৫৪ কর্মঘণ্টা হারাচ্ছে। তাতে বার্ষিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার বা ৫৯৫০০ কোটি টাকা। যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা আরো এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ে তবে এ ক্ষতি ২১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে। তাতে বাংলাদেশে ৩৯১ কর্মঘণ্টা কমবে। মূলত কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ার ব্যাপক প্রভাব পড়ছে উৎপাদন খাতে। পরিবেশের অন্যান্য নেতিবাচক প্রভাবের কারণও কর্মঘণ্টা তথা ব্যক্তির উৎপাদনশীলতার ওপর প্রভাব ফেলছে।
গ্রীষ্মকালের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার বিষয় উল্লেখ করে গবেষণায় বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গ্রীষ্মকালে সারাদিন ধরে বাড়তে থাকে উত্তাপ ও আদ্রতা। প্রচণ্ড গরমে অল্পতেই ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েন মানুষ। তাতে প্রতিবছর বাংলাদেশ জনপ্রতি ২৫৪ কর্মঘণ্টা হারাচ্ছে। ২৪ ঘণ্টায় একদিন হলে এক মাসে ৭২০ ঘণ্টা। ১২ মাস অর্থাৎ এক বছরে ৮৬৪০ ঘণ্টা। সেখানে ২ শত ৫৪ কর্মঘণ্টা হারালে বাকি থাকে ৮ হাজার ৩৮৬ ঘণ্টা। প্রতিদিন কর্মঘণ্টা ৮ হলে মাসে ২৪০ ও বছরে ২৮৮০ ঘণ্টা। সেখানে বাদ যাবে ২৫৪ ঘণ্টা তাতে অবশিষ্ট থাকে ২৬২৬ ঘণ্টা।
সম্প্রতি নেচার কমিউনিকেশন্স জার্নালে ‘শ্রমে বর্ধিত ক্ষতি এবং উষ্ণায়িত বিশ্বে অভিযোজনশীলতা হ্রাসের সম্ভাব্যতা’ শিরোনামে প্রকাশিত গবেষণায় জানানো হয়, গড় তাপমাত্রা বর্তমানের তুলনায় আরো ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে উৎপাদনশীলতা কমে বিশ্বজুড়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে এক লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলার। এর ফলে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। গড় তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বৈশ্বিক গড়ে প্রতিবছর জনপ্রতি ১৩৪ কর্মঘণ্টা কমবে। আর বাংলাদেশের কমবে ৩৯১ ঘণ্টা। এ হিসাবে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বার্ষিক জনপ্রতি কর্মঘণ্টা কমবে ৫৭৩ ঘণ্টা। তাতে বার্ষিক ক্ষতি ২৮ থেকে ৩১ হাজার কোটি ডলার। ক্ষতির সিংহভাগ ভার বহন করবে স্বল্প ও মধ্যআয়ের দেশগুলো। যাদের কৃষি ও নির্মাণশিল্প মানবশ্রম নির্ভর। তবে তাপমাত্রা বর্তমানের চেয়ে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বড়জোর ৩০ মিনিট কর্মঘণ্টা হারানো রোধ করা সম্ভব বাংলাদেশের পক্ষে।
গবেষণাদলের প্রধান ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু গবেষক লিউক পারসনস বলছেন, বর্তমান ও ভবিষ্যতে সবচেয়ে বেশি কর্মঘণ্টা হারাতে চলা বেশিরভাগ দেশই বায়ুমণ্ডলে সিংহভাগ কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ করেনি। আরো সকালে কাজের সময় এগিয়ে নিলে ৩০ শতাংশ কর্মঘণ্টা হারিয়ে যাওয়া রোধ করা সম্ভব। তবে বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রতি এক ডিগ্রি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের এভাবে মানিয়ে চলার ক্ষমতাও দ্রুত কমতে থাকবে। তখন দিনের সবচেয়ে শীতল সময়টিও ঘরের বাইরে কাজের জন্য অসহনীয় হয়ে পড়বে। এতে বিশ্বের প্রতিটি দেশের কর্মঘণ্টা হারানোকে গড় তাপমাত্রা এক থেকে ৪ ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি অনুযায়ী ব্যাখ্যা করেন বিজ্ঞানীরা।
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স-একিউআই অনুযায়ী, স্বাভাবিক দূষণের মাত্রা ৫০ থাকলেও ঢাকার মাত্রা অনেক বেশি। গত ২২ ডিসেম্বর ঢাকার বাতাসের মান ছিল ২৯৫ একিউআই। পরদিন ছিল ২৪৫। যাকে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। শিকাগোর গবেষণা অনুসারে বায়ুদূষণের কারণে গড় বয়স থেকে সাত বছর সাত মাস আয়ু কমছে ঢাকাবাসীর। তাছাড়া দেশের অন্যান্য এলাকার মানুষের আয়ু কমছে পাঁচ বছর সাত মাস করে।
বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে (২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত) বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে প্রতি বছর ২৮ শতাংশ মানুষ মারা যায় পরিবেশ দূষণজনিত অসুখবিসুখের কারণে। বিশ্বে এ ধরনের মৃত্যুর গড় মাত্র ১৬ শতাংশ। ৭ থেকে ৮ প্রবৃদ্ধির একটি উচ্চতর মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে উঠতে হলে বাংলাদেশকে এখনই বিশেষ করে শহর এলাকায় দূষণ রোধ করতে ও পরিবেশ রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে হবে। ২০১৫ সালের এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিশ্বব্যাংক জানায়, শহরাঞ্চলে এই দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওই বছরে বিভিন্ন শহরে ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে দূষণে।
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে ২৮ শতাংশ, মালদ্বীপে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ, ভারতে ২৬ দশমিক ৫, পাকিস্তানে ২২ দশমিক ২, আফগানিস্তানে ২০ দশমিক ৬ ও শ্রীলঙ্কায় ১৩ দশমিক ৭ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে। দূষণের কারণে বাংলাদেশের বছরে ৬৫০ কোটি ডলার ক্ষতি হয়- যা মোট জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপির প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ। ২০২০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘গ্রিন পিস’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এটি দেশের জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রায় ৫ শতাংশ। তা ছাড়া ২০১৮ সালে বাংলাদেশে ৯৬ হাজার শিশুর অকালমৃত্যু হয়েছে।
বিষাক্ত বায়ু
‘জীবাশ্ম জ্বালানির খেসারত’ শিরোনামের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দূষণের কারণে দিনে বিশ্বের মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৮০০ কোটি ডলার। আর বাংলাদেশে বছরে ক্ষতি এক লাখ ১৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে বিশ্বে ৪০ লাখ শিশু তাদের পঞ্চম জন্মদিনের আগেই মারা যায়। বছরে ৪০ লাখ মানুষ অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে এসেছে চিকিৎসা নিতে। বিশ্বব্যাংকের ২০১৮ সালের প্রতিবেদনে অনুযায়ী, দেশের তৈরি পোশাকখাত থেকে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হলেও প্রতিবছর ২৮ লাখ টনেরও বেশি বর্জ্য তৈরি হয়। দেশের প্রায় ১০ লাখ মানুষ যাদের বেশিরভাগই দরিদ্র, সীসা দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে শিশুদের বুদ্ধির বিকাশসহ স্নায়ু-জনিত ক্ষতির শিকার হতে পারে। ফলে নারীর গর্ভপাত এবং মৃত শিশুর জন্মদানের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশ্বের বায়ুদূষণে গ্রিন পিসের প্রতিবেদনে পরিবেশ অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, ময়মনসিংহ ও রংপুর শহরের বায়ুর মান ছিল খুবই অস্বাস্থ্যকর। আর চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল ও কুমিল্লার বাতাস অস্বাস্থ্যকর।
২০২০ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট এবং ‘ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন’ বায়ুদূষণ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এশিয়াকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত অঞ্চল বলে ঘোষণা দেয়া হয়। দাবি করা হয়, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে মানুষ এমন এক পরিবেশে বাস করছে, যেখানকার বাতাসের মান ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন-ডব্লিউএইচও এয়ার কোয়ালিটি গাইড লাইনে থাকা পিএম ২ দশমিক ৫ স্তরের চেয়ে বেশি। ২০১৭ সালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে বায়ুদূষণে প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু শ্বাসজনিত জটিল সমস্যার শিকার হয় বলে দাবি করা হয়েছিল।
অন্য গবেষণা মতে, ২০১৯ সালে সর্বোচ্চ আউটডোর পিএম ২ দশমিক ৫ স্তরে থাকা শীর্ষ ১০টি দেশের একটি বাংলাদেশ। সে বছর বায়ুদূষণের কারণে দেশে এক লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ মানুষের প্রাণ হারানোর কথা বলা হয়। পিএম ২ দশমিক ৫ দূষণকারী বাতাসে সূক্ষ্ম কণার মধ্যে অজৈব ও জৈব বস্তু, যেমন- ধুলাবালি. কালো ধোঁয়া, ড্রপলেট ও ফুলের রেণু রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ঘরের ভেতরে ও বাইরে অবস্থিত এসব কণার দূষণে জন্মের প্রথম মাসে বিশ্বে প্রায় ৫ লাখ শিশুর মৃত্যু হয়। দেশে অন্যান্য শহরের চেয়ে রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা অনেক বেশি বলে দাবি করা হয়। মানবদেহের জন্য দূষণের অসহনীয় উপাদান মাত্রা পিএম-২.৫ নিয়ে মানুষ ১৯৯০ সাল থেকে ঢাকা মহানগরীতে বসবাস করে আসছে। এছাড়া ‘স্টেট অব গ্লোবাল এয়ারের’ মতে, বাংলাদেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ বায়ুদূষণের মাঝে বাস করছে।
বিশ্বব্যাংকের অপর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ঢাকার বায়ুদূষণের ৫৮ শতাংশের উৎস ইটভাটা, রাস্তার ধুলা, মোটরগাড়ি ও কারখানার দূষণ মিলে ২৬ শতাংশ। দেশের অধিকাংশ শহরের বাতাসে সাদা চোখে যে ধুলা দেখা যায়, তা শুধু মাটির ক্ষুদ্র কণা নয়। এর মাঝে মিশ্রিত আছে নানা ধরনের সূক্ষ্ম রাসায়নিক বস্তুকণাসহ কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সিসা, নাইট্রোজেন, হাইড্রোকার্বন, বেনজিন, সালফার, অ্যামোনিয়া, ফটো-কেমিক্যাল অক্সিডেন্টস। দূষিত বায়ু মানবদেহের ফুসফুসের ক্যান্সার থেকে শুরু করে স্ট্রোক, হৃদরোগ ও অ্যাজমাসহ শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক ব্যাধির কারণ হতে পারে। ধুলাবালি, সিগারেটের ধোঁয়া ও কীটনাশক স্প্রের কণা বাতাসকে দূষিত করে মানবদেহে ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের সংক্রমণ ঘটায়। ব্যাপক সিসা দূষণের কারণে শিশুদের বুদ্ধিমত্তার বিকাশ বাধাগ্রস্ত ও স্নায়বিক ক্ষতি হতে পারে। নারীর গর্ভপাত, মৃতশিশু প্রসবের আশঙ্কাও রয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে জনগণকে উদ্বুদ্ধের ব্যাপারে উল্লেখ করা হয় তাতে।
এমনই প্রেক্ষাপটে দেশে প্রথমবারের মতো বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা প্রণয়ন করছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। দূষণ রোধে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের অধীনে সার্বক্ষণিক বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনসহ বিধি ভঙ্গের শাস্তিও রয়েছে তাতে। খসড়া বিধিমালায় বলা হয়েছে, বায়ুদূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তর দেশব্যাপী উপযুক্ত স্থানে পর্যাপ্তসংখ্যক সার্বক্ষণিক বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্রসহ আন্তঃদেশীয় বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি বায়ুমানের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা মূল্যায়নের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রের তথ্য সংরক্ষণ করবে। সরকারের অনুমোদনক্রমে মহাপরিচালক পরিপত্র জারির মাধ্যমে বায়ুদূষণকারীর তালিকা, পদ্ধতি, প্রক্রিয়া ও বায়ুদূষণ রোধে সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা তৈরি করতে পারবেন। পরিবেশ অধিদপ্তর সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে জাতীয় বায়ুমান ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষমতা থাকবে।
খসড়ায় আরো বলা হয়েছে, যানবাহন মেরামত ও নির্মাণকাজ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন অথবা বিধিমালায় নির্ধারিত মানমাত্রা, নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ও জাতীয় বায়ুমান ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা সুপারিশগুলো মেনে চলতে হবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বাংলাদেশ দণ্ডবিধি অনুসারে সাজা দেয়া যাবে। দণ্ডবিধি অনুযায়ী এ অপরাধের সাজা হয়, প্রথমবার অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।
পরিবেশ অধিদপ্তর পরিচালক (চলতি দায়িত্ব-আইন) খোন্দকার মো. ফজলুল হক দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা প্রণয়নে কাজ করছি। চলতি মাসেই এর খসড়াটি জমা দেয়া হয়েছে। এটি মন্ত্রিপরিষদে পাসের পর আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। আমাদের প্রত্যাশা বিধিটি পাস হবে। তাতে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। সবাইকে আইনের মাধ্যমে নিয়ে আসা যাবে।
জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ এইচ এম সাদাত দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, বায়ুদূষণে সবচেয়ে এগিয়ে শহরাঞ্চল। গ্রামে এতটা বেশি না। শহরে নির্মাণকাজের তদারকির অভাব আছে। কোনো ভবন বা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি নির্মাণের সময় মাটি বা অন্যান্য বর্জ্য যেভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে তা করা হয় না। ইটভাটা, গাড়ি-কলকারখানাসহ বিভিন্ন যানবাহনের ধোঁয়া বাতাসকে দূষিত করছে। দেশে আইন থাকলেও সে অনুযায়ী অনেক সময় কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয় না। ফলে এর ক্ষতিকর প্রভাবে ভুগতে হয় সবাইকে। ড. এ এইচ এম সাদাত পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে পরামর্শ দেন। বলেন, বায়ুদূষণ উন্নত দেশেও হচ্ছে তবে তারা বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করলেও আমরা সে দিকে পিছিয়ে আছি। কারণগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে কম যাচ্ছি।
আনন্দবাজার/শহক









