বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের ১ কোটি ১২ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় রাজস্ব আদায়ের লক্ষে পৌর এলাকার বিভিন্ন পানির পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। গত ২৩ জানুয়ারি থেকে পৌর এলাকার ৭টি পানির পাম্পের বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এতে পৌর এলাকার ৭টি লাইনে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌর এলাকার প্রায় ২০ হাজার মানুষ।
জনস্বাস্থ্য অধিদফতর বিদ্যুতের বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় সরকারি রাজস্ব আদায়ের লক্ষে সংযোগবিচ্ছিন্ন করণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানান বান্দরবান বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এর সহকারী প্রকৌশলি মো. মতিউর রহমান।
বান্দরবান বিদ্যুৎ উন্নয়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান জনস্বাস্থ্য বিভাগের আওতাধীন ৭টি পানি সরবরাহ কেন্দ্রের ১ কোটি ১১ লাখ ১৮ হাজার টাকা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রয়েছে। এরমধ্যে ক্যচিংঘাটা ওয়াটার পাম্প থেকে বকেয়া ৭৯ লাখ ৬৭ হাজার ৭২৫ টাকা, পৌর ওয়াটার সাপ্লাই থেকে ৮ লাখ ৪৩ হাজার ৫৬৮ টাকা, বালাঘাটা ওয়াটার পাম্প থেকে ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, উজানী পাড়া পাম্প থেকে ৭ লাখ ৫৫ হাজার ২৮৩ টাকা, টেক্সটাইল ভোকেশনাল পাম্প থেকে পাঁচ লাখ ৭২ হাজার টাকা, রোয়াংছড়ি বাসস্টেশন পাম্প থেকে ৩ লাখ ৩১ হাজার ১০৪ টাকা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ভবনের ৪২ হাজার ৮৪১ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য অফিসিয়ালি নোটিশ দেয়া হলেও জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেনি। তাই রাজস্ব আদায়ের লক্ষে বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় পানি সাপ্লাই কেন্দ্রের বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ বান্দরবানের সহকারি নির্বাহী প্রকৌশলি মো. মতিউর রহমান বলেন, বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ৭টি হিসাব নম্বরের বিপরীতে ১ কোটি ১১ লাখ ৮ হাজার ৩শ’ ৮০ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। পরিশোধের জন্য বারবার অফিসিয়ালি তাগাদা দিলেও তারা তা পরিশোধ করে নি। তাই সরকারি রাজস্ব আদায়ের জন্য সাতটি বিদ্যুৎ সংযোগ বকেয়ার দায়ে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
এদিকে পাহাড়ি এলাকা বান্দরবানে প্রাকৃতিকভাবে পানির উৎস খুবই কম হওয়ায় সাপ্লাই পানির উপর নির্ভরশীল পৌর এলাকার ৩০ হাজার মানুষ। তবে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ওয়াটার পাম্প সচল না থাকায় পানি সরবরাহ দিতে পারছে না জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পৌর এলাকার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। নিয়মিত পানির বিল পরিশোধ করেও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এত টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বিস্মিত হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
বালাঘাটার বাসিন্দা রাসেদ ইসলাম বলেন, আমাদের লাইনে দীর্ঘদিন ধরে পানি আসছে না। আমার পানির বিলও বকেয়া নেই। রোয়াংছড়ি বাসস্টেশন এলাকার আব্দুর রহমান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে পানি আসছে না। বাসায় খাবার পানিও নেই। আমরা এর সমাধান চাই।
এছাড়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর হতে ১৮ জানুয়ারি ইস্যুকৃত অগ্রণী ব্যাংকের একটি ৫ লাখ ১ হাজার টাকার চেক প্রদান করলেও তা ৩০ জানুয়ারি ব্যাংকে উপস্থাপন করলে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় ব্যাংক চেকটি প্রত্যাখ্যান করে।
এ বিষয়ে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্বাহী প্রকৌশলী শর্মিষ্ঠা আচার্য্য জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রায় সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা কওে পার্বত্য জেলা পরিষদ বান্দরবান। এছাড়া চেকও ইস্যু করেছে জেলা পরিষদ। কেন বা কি কারণে এত টাকা বকেয়া বা চেক প্রত্যাখ্যান হলো সেটা জেলা পরিষদই ভালো বলতে পারবে।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যা শৈ হ্লা জানান, অসুস্থতার কারণে কিছুদিন খোঁজখবর নিতে পারিনি। আজ বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। সাধারণত প্রতিবার সমন্বয় করে এসকল সমস্যার সমাধান করা হয়। তবে জনগণকে জিম্মি করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডর এধরণের বকেয়া আদায়ের সিদ্ধান্ত খুবই দুঃখজনক। তিনি আরো জানান, কেন চেক প্রত্যাখ্যান হল বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং জনগণ যাতে পানির জন্য কষ্ট না পায়।
আনন্দবাজার/শহক









