সাতক্ষীরায় ফসলের উর্বর জমিতে গড়ে তোলা হয়ে ইটভাটা। কোনো ভাটায় মানা হচ্ছে না সরকারি নিয়মনীতি। এতে ধ্বংস হচ্ছে গাছপালা ও ফসলের ক্ষেত
সাতক্ষীরায় যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ইটভাটা। উর্বর ফসলি জমির উপরে গড়ে তোলা হয়েছে এসকল ইটভাটা। এতে ইটভাটা সংলগ্ন পাশ্ববর্তী ফসলের ক্ষেত। তেমনি মাত্রাতিরিক্ত দূষণের কারণে আম জাম, কাঁঠাল, কলা গাছসহ সড়কের দু'ধারে লাগানো মেহগনি শিশু গাছ ও বিভিন্ন প্রজাতির ছোট বড় মাঝারি ধরনের অন্যান্য গাছগুলোর ৭৫ শতাংশ মরে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশখালী ইউনিয়নের ভাদ্রা কুশখালী শিকড়ে গ্রামের লাখো মানুষের অন্ন বস্ত্র যোগানের একমাত্র উপায় উর্বর ফসলি মাঠ ছকুড়া নামক স্থানে মেসার্স কে এম ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা গড়ে তুলেছেন আবুল কাশেম ওরফে বাবু। এছাড়া রয়েছে আঁখি ব্রিকস ও ইমন ব্রিকস নামে আরও দুটি ইটভাটা ।
কাথন্ডা সীমান্ত কারিগরি কলেজের প্রভাষক জিল্লুর রহমান বলেন, ছকুড়া মাঠে উর্বর ফসলি জমিগুলো ভাদ্রা কুশখালী বাউখোলা ও শিকড়ে গ্রামের কৃষিজীবী মানুষের জীবন জীবিকার একমাত্র মাধ্যম। এলাকাবাসীর আপত্তির মুখে জোরপূর্বক ভাটা মালিকরা জমির মালিকদের চাপে ফেলে, উর্বর ফসলি জমি লিজ নিয়ে ইটভাটা তৈরি করে। শিকড়ি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ছকুড়া মাঠে ইটের ভাটা তৈরি হওয়ার ফলে ওই মাঠে এখন আর কোনো ফসল হয় না। ভাটা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়ার আস্তরণে এলাকায় ফলের গাছগুলোতে আর পূর্বের ন্যায় ফল ধরে না। কলা গাছগুলো ইতিমধ্যেই মরে গেছে।
ভাদড়া আঁখি ভাটা সংলগ্ন বসবাসকারী শহিদুল ইসলাম জানান, ভাটা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া ও ধুলা বালিতে তার পরিবারের প্রায় সকলেই শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভাটাগুলোর চারিধারে চলতি বোরো মৌসুমে লাগানো ধানের চারাগুলো সবুজের পরিবর্তে ফ্যাকাশে রং ধারণ করেছে। তিন তিনটে ইটভাটার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে মেসার্স কে. এন. ব্রিকস। অন্যান্য ভাটাগুলো কয়লা ব্যবহার করলেও ওই ভাটায় জ¦ালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে টায়ার পোড়ানো কালি, প্লাস্টিক ও রাভারের বর্জ্য। যা পরিবেশের জন্য মারাত্বক হুমকি স্বরুপ। ওই ভাটা থেকে নির্গত ধোয়া বা ছাই আকাশে ভেসে বেড়ায়। সন্ধ্যার পরে কুয়াশার সঙ্গে মিশে নিচে নেমে আসে। তা ফসলি জমিতে লাগানো ধানের বা অন্যান্য গাছের পাতায় পুরো আস্তরণ গড়ে তোলে।
স্থানীয় চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল গাফফার বলেন, ভাটাগুলোর প্রভাবে সড়কের প্রায় ৭৫ শতাং শিশু ও মেহগনি গাছ মরে গেছে। ফসলি জমির উপরিভাগের মাটিকেটে নিয়ে ইট বানানো হচ্ছে। ওই সকল জমিতে ফসল হচ্ছে না। মাঠের চারপাশে লাখো মানুষের বসবাস। এমন স্থানে পরিবেশ অধিদপ্তর তদন্ত ছাড়াই কীভাবে ইটভাটা স্থাপন এর ছাড়পত্র দেয় এটা ভাববার বিষয়।
তবে ইটভাটার মালিক সাইফুদ্দিন পলাশের দাবি, ইটভাটার প্রভাবে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না।
কে. এন ব্রিকসের ম্যানেজার জামশেদ আলী বলেন, কালি ব্যবহার হয় ইটের রং ভালো হওয়ার জন্য। এতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা-তুজ-জোহরা বলেন, ইটভাটা বা মিল কলকারখানা তৈরি করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি লাগে। তবে এমন একটি জনবহুল ও উর্বর ফসলি জমিতে কিভাবে ইটভাটা তৈরির ছাড়পত্র পরিবেশ অধিদপ্তর দিল! বিষয়টি নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরকে সঙ্গে নিয়ে সরেজমিন তদন্ত করে দেখব। বেআইনিভাবে কিছু করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইটভাটাগুলো অপসারণে আবারো সবুজের সমারোহ ফিরিয়ে আনার দাবি এলাকাবাসীর।









