সারা বিশ্বে সেমিকন্ডাক্টর চিপের সংকট থাকার কারণে বাংলাদেশের স্মার্টফোনের দাম বেড়েছে। এতেই দেশি অ্যাসেম্বলাররা বাজারে নতুন লঞ্চ হওয়া ডিভাইসের দাম ১৫-২০ শতাংশ বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছে বলে এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তারা বলছেন, চিপ সংকেটর পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় ও জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে আগামী জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে স্মার্টফোনের দাম আরও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশে স্যামসাং ব্র্যান্ডের ফোন প্রস্তুতকারী ফেয়ার গ্রুপের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, “আমরা চিপসের সংকট বোধ করছি। কিন্তু আমাদের স্টক থাকায় সেটা এখন ততটা তীব্র নয়। তবে জানুয়ারি বা এরপর এ সংকট তীব্র হতে পারে।”
তিনি বলেন, অপ্পো এবং ভিভোর মতো যেসব কোম্পানি সম্প্রতি নতুন ফোন লঞ্চ করেছে তারা প্রায় ১৫ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা এখনও স্যামসাং ব্র্যান্ডের দাম বাড়াইনি। তবে পরিস্থিতি পরিবর্তন না হলে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে আমাদেরকেও দাম বাড়তে হবে।”
এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে স্মার্টফোনের বিক্রির পরিমাণ কম থাকে। জানুয়ারি থেকে এর বিক্রি বাড়তে শুরু করে এবং রমজান ও ঈদের আগে মার্চ-এপ্রিল মাসে তা আরও বেড়ে যায়।চিপ সঙ্কট জানুয়ারিতে অনেক বাড়তে পারে। এরপর চীনে নববর্ষ উদযাপনের কারণে কারখানার উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় ফেব্রুয়ারিতে এ সংকট তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
বাংলাদেশে স্মার্টফোন খাতের অন্যতম উদ্যোক্তা ট্রান্সশন বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানুল হক বলেন, “এটি একটি বৈশ্বিক সংকট এবং তারাও সেমিকন্ডাক্টর চিপসের চাহিদা-সরবরাহের তারতম্য অনুভব করছে।”
তিনি বলেন, “আমাদের সবারই স্টক ছিল এবং সেই কারণেই আমরা এর ঘাটতি তীব্রভাবে অনুভব করিনি। তবে আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিক আমাদের সবার জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং হবে।”
স্মার্টফোনের জন্য বাংলাদেশের বাজার বেশ সম্ভাবনাময়। কারণ এ দেশের অর্থনীতি এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা এক দশকের বেশি সময় ধরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্মার্টফোন বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ২০২০ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৮০ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাব থাকা সত্ত্বেও ২০২১ সালে সংখ্যাটি ১ কোটিতে পৌঁছাতে পারে।
স্যামসাং, রিয়েলমি, ট্রান্সসেন, অপ্পো, ভিভো, ওয়াল্টন এবং শাওমি বাংলাদেশে স্মার্টফোন অ্যাসেম্বল করে। নোকিয়া বৃহস্পতিবার (নভেম্বর ২৫, ২০২১) স্থানীয়ভাবে আ্যাসেম্বল করা স্মার্টফোনও লঞ্চ করেছে।
আনন্দবাজার/এম.আর









