আকাশের রং এর দিকে তাকিয়ে আছে হাওর অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক। মেঘ গুড়গুড় কিংবা আকাশ কালো হলেও ভয়ে কপালে ভাঁজ পড়ে যায় তাদের। সবসময় যেন ধান কাটা আর ঘরে তোলা নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করে তাদের মধ্যে। এ যেন মেঘের সাথে পাল্লা দিয়ে তাদের যুদ্ধ জয় করা। হাওর অঞ্চলের সাতটি জেলাতেই গত কয়েকদিন ধরে ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হানা দিচ্ছে। এতে ক্ষতি হচ্ছে পাঁকা ধানের। সে কারণে হাওরবাসীর চিন্তায় এখন শুধু আবহাওয়া। তবে কোনো কোনো হাওরে ধান কাটা ৬০ থেকে ৭০ ভাগ শেষ হয়েছে। আর ৪-৫ দিন ঝড়, বৃষ্টি, শিলা না হলে তারা পুরো ধান ঘরে তুলতে পারবেন।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এছারাও দেশের দক্ষিণাংশের কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ চমকানোসহ মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টি বা দমকা ঝড়ো হাওয়াসহ শিলাবৃষ্টি হলে চরম ক্ষতি হবে হাওর অঞ্চলে। এই আশঙ্কা ধান ঘরে না ওঠা পর্যন্ত হাওরবাসীর থাকবে।
এবার হাওর অঞ্চলে ধান ঘরে তোলার জন্য সরকারের দেয়া ধানকাটা যন্ত্র হারভেস্টার, রিপার সরবরাহ ও শ্রমিক ছাড়াও ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ অনেকেই ধান কেটে কৃষকের ঘরে তুলে দিচ্ছে। এত কিছুর পর এখনও ৫৫ ভাগ ধান কাটা বাকি হাওরে। এ কারণেই কৃষকের মনে আতঙ্ক। কারণ আবহাওয়া কখন কোন খেলা খেলে তা বলা মুশকিল। তবে আগামী ১০ দিনের মধ্যে হাওরের ধান কাটা শেষ করা যাবে বলে আশা করছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা।
এবার বোরো মৌসুমে সারাদেশে ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় এবার দুই কোটি ৪ লাখ মেট্রিক টন চালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
আনন্দবাজার/শহক









