এক সময় কৃষি কাজে হালের বলদ, লাঙল-জোয়াল, মই ছিল একমাত্র ভরসা। কৃষকরা এর সাহায্যে কায়িক শ্রমে জমিতে ফসল ফলাতো। তবে, আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। কৃষিতে নতুন নতুন যন্ত্রপাতির ব্যবহারে বাড়ছে ফসল উৎপাদন আর কমছে উৎপাদন খরচ।
সারা দেশের ন্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ও যেন বদলে যাচ্ছে কৃষির চিত্র। স্থানীয় কৃষকরা বীজতলা থেকে শুরু করে ফসল তোলা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। জমিচাষে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিন, বেদ্যুতিক পাম্প, ড্রাম সিডার (বীজ বপন যন্ত্র), ধান কাটার কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন, পাওয়ার থ্রেসার (পায়ে চালিত মাড়াই যন্ত্র), গ্রেডিং মেশিন, গুটি ইউরিয়া সারসহ বিভিন্ন প্রকারের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে চাষাবাদ করছে।
সুদীর্ঘ বছর ধরে সুষ্ঠু সেচ ব্যবস্থার অভাব, ক্রুটিপূর্ণ চাষাবাদের ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হওয়ায় কৃষকদের ফলন ভালো হতো না। জমি আবাদ করে সব সময় কৃষকদের লোকসান গুনতে হতো। এখন উৎসাহ নিয়ে মৌসুম অনুযায়ী বছরজুড়ে ফসল আবাদ করে তারা এখন লাভবান হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা বর্তমানে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি, আগাছা দমন, অধিক ফসল ফলাতে জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ গোবর সার, কম্পোস্ট, খামারজাত সার, ক্ষতিকারক রোগবালাই, পাকামাকড় দমন, সুষ্ঠু সেচ ব্যবস্থা প্রয়োগে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে জমি আবাদ করছে। উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করায় কমেছে শ্রম খরচ আর ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগে যেখানে প্রতি বিঘায় ৭-৮ মণ ধান পেতো বর্তমানে ২০-২২ মণের উপর ধান পাচ্ছে। সেই সঙ্গে মিশ্র সবজি ও ফল চাষে তাদের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরেজমিনে পৌর শহরের তারাগন, দেবগ্রাম, খড়মপুর, দূর্গাপুরসহ উপজেলার মোগড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বেশিভাগ কৃষক তারা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি কাজ করছেন। আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের কর্মকর্তারা নিয়মিত ভাবে কৃষকদেরকে পরামর্শ দিয়ে আসছে। পাশাপাশি সরকার কর্তৃক যেসব সহায়তা রয়েছে কৃষকদেরকে তা দিয়ে আসছেন বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়।
উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের কৃষক ইলিয়াস মিয়া বলেন, বর্তমানে তার ১০ বিঘা কৃষি জমি রয়েছে। এক সময় তিনি হালের বলদ, লাঙল-জোয়াল, মই দিয়ে কৃষি কাজ করতেন। জমি তৈরি, চারা লাগানো, সেচ, সার, ধান মাড়াইসহ অন্যান্য খরচ উৎপাদনের চাইতে বেশি হওয়ায় লোকসান গুনতে হতো।
মো. নুরে আলম বলেন, কৃষিভিত্তিক অ্যাপ ‘কৃষকের জানালা’ ও ‘আজকের কৃষি’ অ্যাপ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখে তিনি জমি আবাদ করছেন। গত দুই বছর ধরে তিনি ১২ বিঘা জমিতে আধুনিক প্রযুক্তিতে কৃষি করছেন। ধান চাষের পাশাপাশি সবজি, মাছ ও মুরগির খামার গড়ে তুলেছেন। তিনি আরও বলেন, ১ বিঘা জমি আবাদ করতে যেখানে ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা খরচ হতো এখন ৭-৮ হাজার টাকা লাগছে।
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, পৌর শহরসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে আমন-বোরো প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়। তবে বোরো মৌসুমে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়। তাছাড়া কৃষকরা মিশ্র সবজি ও ফল চাষ করছেন। কৃষিতে তথ্য-প্রযুক্তি ও যন্ত্রের ব্যবহার কৃষক করে কৃষকরা কম শ্রমে অধিক ফসল উৎপাদন করতে পারছেন। কৃষকদের আধুনিক কৃষক হিসেবে গড়ে তুলতে কৃষি বিভাগ নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। দিন দিন বাড়ছে কৃষিতে আধুনিকায়ন। কৃষিতে কমে আসছে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকেরা অনেক লাভবান হচ্ছেন।









