বিকাশ থেকে রকেটে
উপায় থেকে এমক্যাশে
ব্যাংকে তাৎক্ষণিক লেনদেন
ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং বা এমএফএস ও পিএসপির মধ্যে আন্তঃলেনদেনে ‘বিনিময়’ নামে নতুন এক সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সেবার মাধ্যমে বিকাশ থেকে রকেটে অথবা উপায় থেকে এমক্যাশে বা বিকাশে কিংবা ব্যাংকে তাৎক্ষণিক লেনদেন করা যাবে একটি অ্যাকাউন্ট দিয়ে। এতে করে গ্রাহক পর্যায়ে লেনদেন সেবা আরও সহজ হয়েছে।
গতকাল রবিবার বেলা ১১টার দিকে ডিজিটাল লেনদেনের এ প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, একজন গ্রাহক সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকৃত মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে “বিনিময়” এ রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। রেজিস্ট্রেশনের পর প্রত্যেক গ্রাহককে একটি ভার্চুয়াল আইডি করতে হবে। ব্যক্তিগত ভার্চুয়াল আইডির মতো মার্চেন্ট ভার্চুয়াল আইডিও করা যাবে। এখানে দুই ধরনের লেনদেন সম্পাদন করার সুযোগ থাকছে, সরাসরি পরিশোধ (ডিপি) এবং পরিশোধের অনুরোধ (আরটিপি)। ডিপির মাধ্যমে গ্রাহক তার হিসাব থেকে অন্য গ্রাহকের হিসাবে অর্থ প্রেরণ করতে পারবে, অন্যদিকে আরটিপির সাহায্যে অন্যের হিসাব হতে অর্থ গ্রহণ করতে পারবে।
ডিপির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র রিসিভারের এবং আরটিপির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অনুমোদনকারীর ভার্চুয়াল আইডির মাধ্যমেই লেনদেন করা সম্ভব। এক্ষেত্রে অন্য কোনো তথ্য যেমন একাউন্ট নাম্বার, মোবাইল নাম্বার, এনআইডি কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তিগত তথ্য জানানোর প্রয়োজন নেই। একজন ব্যক্তির একাধিক হিসাব থাকলে এবং একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে থাকলে, অন্য কোনো দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানের হিসাবের বিপরীতে পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করতে চাইলে “বিনিময়” সেই গ্রাহকের এনআইডি গ্রাহকের পরীক্ষান্তে জানতে পারবে যে, তিনি ইতোমধ্যে রেজিস্ট্রার্ড। ফলে, তার প্রোফাইলে প্রথম প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পরবর্তী প্রতিষ্ঠানের তথ্য নতুন করে সন্নিবেশ করা হবে। অর্থাৎ একজন গ্রাহক তার প্রোফাইলে একাধিক হিসাব যোগ করতে পারবেন যার মধ্য থেকে একটি হিসাব, ডিফল্ট হিসেবে নির্বাচন করতে হবে। লেনদেন সম্পাদনে প্রতিটির জন্য ৬ ডিজিট পিন ব্যবহার করতে হবে।
অংশগ্রহণকারী গ্রাহকের সঙ্গে ব্যবহৃত ফোন রেজিস্ট্রেশন করা থাকবে। ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন আইডি টু ফ্যাক্টর অথরাইজেশনের ১টি ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে। মোবাইল ডিভাইস বা পিন নম্বর পরিবর্তন করতে চাইলে বর্তমানে আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিউর অনুসৃত হবে। একজন ব্যবহারকারী, মার্চেন্ট App./Web portal ব্যবহার করে মার্চেন্ট হিসেবে সফলভাবে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করলে সেই মার্চেন্ট Web porta হতে বাংলা QR জেনারেশন অপশনে গিয়ে QR Code তৈরি করে প্রিন্ট করে তা কাউন্টারে স্থাপন করতে পারবে এবং যে কোনো আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের Mobile App. এর মাধ্যমে ক্রেতারা সেই QR Code স্ক্যান করে পেমেন্ট ইনিশিয়েট করতে পারবেন।
প্রাথমিকভাবে ১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লেনদেন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ৮টি ব্যাংক হলো, সোনালী, ব্র্যাক, ইউসিবি, ইস্টার্ন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, পূবালী, আল-আরাফাহ ইসলামী ও মিডল্যান্ড ব্যাংক। তিন এমএফএস প্রতিষ্ঠান হলো, বিকাশ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের রকেট ও ইসলামী ব্যাংকের এম ক্যাশ। এর বাইরে টালি পে নামের একটি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) যুক্ত হয়েছে।
এর আগে ২০২০ সালের অক্টোবরে, বাংলাদেশ ব্যাংক এমএফএস পরিষেবা প্রদানকারীদের মধ্যে একটি আন্তঃপরিচালনাযোগ্য সিস্টেম চালু করার উদ্যোগ নেয়। একই বছরের ২৭ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেবাটি চালুর কথা ছিল। এ নিয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে উদ্যোগটি বন্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ সব প্রস্তুতি নিয়েও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর একটির সঙ্গে আরেকটির পারস্পরিক লেনদেনের প্রক্রিয়া, অর্থাৎ এক এমএফএস থেকে অন্য এমএফএসে টাকা পাঠানোর সেবা চালু করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। কারণ, তখন এতে যুক্ত হয় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ। নেওয়া হয় নতুন সরকারি প্রকল্প। তখন ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) মাধ্যমে বিকাশ টু রকেট, বিকাশ/ রকেট টু ব্যাংক- এভাবে টাকা স্থানান্তরের সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে তা আর চালু করা সম্ভব হয়নি।
আনন্দবাজার/শহক









