ছোট ভ্যান, ট্রলি, নছিমন-করিমনে যে যার মতো করে কলা নিয়ে আসছেন হাটে। সাজিয়ে রাখা হচ্ছে কলার হাটজুড়ে। দুরদুরান্ত থেকে ফরিয়া মহাজনরা আসছেন সেই কলা কিনতে। যাবে বিভাগীয় শহর থেকে দেশের নানা প্রান্তে। উৎসুক কৃষাণ কৃষাণীদের ব্যস্ততার যেন শেষ নেই। ভোর রাত থেকেই চলছে কলাকাটা আর গাড়িতে সাজানোর কাজ। যতদুর চোখ যায় শুধু কলা আর কলা। পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছে সারি সারি কলাবাহী ট্রাক। শুক্র-শনি বার বাদে সপ্তাহে ৫ দিনই হয় কলা বেচা কেনা। এমন চিত্র দেখাযায় চলনবিল অধ্যুষিত গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর হাটে।
চলনবিলাঞ্চলের নাটোরের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম ও সিংড়া উপজেলায় অল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় কলাচাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। অনেক চাষিদের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ফিরেছে এ কলাচাষে। কলার বাম্পার ফলন সেই সঙ্গে ন্যাযমূল্য পাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় কলাচাষে শ্রম ও খরচ খুবই কম। জৈব সার ব্যবহার করে কলা চাষ করার কারণে স্থানীয় বাজারে এ কলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলে জানান বিক্রেতারা।
উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের কলা চাষি আমিনুল ইসলাম লিটন বলেন, মাছের পাশাপাশি পুকুর পাড়ে কলা চাষ করেছি। মাছে লাভ কম হলেও কলায় প্রচুর লাভ হয়েছে। একবার কলার গাছ লাগালে ৩ থেকে ৪ মৌসুম বিক্রি করা যায়। চলতি বছর ৩০ বিঘার পকুর পাড়ে কলার চাষ করেছিলাম। খরচ বাদে শুধু কলাতেই ৪ লাখ টাকা লাভ হয়েছে।
বিলচন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজের প্রভাষক কৃষিবিদ জহুরুল হক সরকার বলেন, আমি এক একর জমিতে কলা চাষ করেছি। বিঘা প্রতি ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকার খরচ করে ৫০ থেকে ৬০ টাকার কলা বিক্রি করেছি। এ এলাকার মাটি অত্যন্ত উর্বর। তাই ফসলের পাশাপাশি সব ধরনের ফল বাঙ্গী, তরমুজ, লিচু, আম ও কলা ভালো হয়। এ কারণে এ এলাকার চাষিরা ফসলের সঙ্গে ফল চাষেও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
নাজিরপুর হাট ইজারাদার নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ছাড়াও নাটোরের সিংড়া ও বড়াইগ্রাম থেকেও প্রচুর পরিমানে কলা আসে এ হাটে। এখানে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ ট্রাক কলা লোড হয়ে দেশে নানা প্রান্তে যাচ্ছে। প্রতি কাইন কলা আকার ভেদে ৩শ’ থেকে ৫শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। চলনবিলের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন গড়ে ২ শতাধিক টন কলা আসে এ হাটে।
কল চাষে সফল চাষি মান্নান সরকার জানান, জৈব সার ব্যবহার করার কারণে এখানে ফলন ভালো হয়। এছাড়াও অন্যান্য ফসলের চেয়ে লাভ বেশি এবং খরচ কম হওয়ায় আমাদের এলাকার চাষিরা এখন কলা চাষে ঝুঁকছে বেশি। আমি ৫ বছর যাবতকলা চাষ করে আসছি। চলতি বছর ১০ বিঘা জমিতে সাগর কলা, অমৃত সাগর, মেহর সাগরসহ বিভিন্ন জাতের চারা রোপণ করেছিলাম। প্রতি বিঘা জমিতে ৩শ থেকে ৪শ চারা রোপণ করা যায়। বছর খানেকের মধ্যেই রোপণকৃত গাছ থেকে কলা পাওয়া যায়। আমার কলা চাষে সফলতা দেখে এলাকার কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।
গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, গত বছর উপজেলায় ২৫০ হেক্টর জমিতে কলার চাষ করা হয়েছিলো। চলতি বছর আরও ৫০ হেক্টর কলা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কলা চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।









