শৈত্যপ্রবাহের কারণে দিনাজপুর জেলার আলু ক্ষেতে দেখা দিচ্ছে মড়ক রোগ (লেট ব্লাইট)। আগাম জাতের আলু চাষের ফলে কৃষকরা বেশ লাভবান হলেও পরবর্তী জাতের আলু চাষে লোকসানের বোঝা কাঁধে নিতে হচ্ছে জেলার কৃষকদের। এতে চরম দুশ্চিন্তায় ও হতাশায় ভুগছেন সেখানকার আলু চাষিরা।
এ দিকে চাষিদের ভুলের জন্যই ক্ষেতে এ মড়ক রোগ হচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তবে শৈত্যপ্রবাহ কমলে আলু গাছের এই রোগ কমবে বলে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। এছাড়াও আলু ক্ষেতে মড়ক রোগ প্রতিরোধের জন্য কৃষকদের সাহায্য করতে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
শস্যের জেলা হিসেবে বেশ পরিচিত দিনাজপুর। জেলাটিতে ধান, গম, ভুট্টাসহ সব ধরনের শাক-সবজি চাষাবাদ করা হয়। এসব শস্য জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্য অন্য জেলা গুলোতেও সরবরাহ করা হয়।
ইতোমধ্যে বোরো মৌসুমে ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে ভিটে-মাটি বিক্রি করে দিতে হচ্ছে অনেক কৃষককে। চলতি আমন মৌসুমে জেলার কৃষকরা ধানের মূল্য সমান্য পেলেও এবার আলু চাষ করে বেকায়দায় পড়েছেন। চলতি শীত মৌসুমে টানা কয়েকদিনের শৈত্যপ্রবাহ ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির কারণে ক্ষেতে আলুর গাছে দেখা দিয়েছে মড়ক রোগের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে, চলতি বছরের আলু মৌসুমে জেলার ৪৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু উৎপাদন করা হয়ে ছিল।
তবে এখন জেলার সিংহভাগ আলুর ক্ষেতে দেখা দিয়েছে মড়ক রোগের, আর এতে করে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন আলু চাষিরা। মৌসুমের প্রথমদিকে আগাম আলু আবাদ করে ভালো দাম পাওয়ায় চাষিরা বেশ লাভবান হয়েছিল। সেই আশা নিয়ে একই ক্ষেতে আমন ধান কাটার পরই জমিতে আলু রোপণ করেছেন। কিন্তু তাদের আশা এখন শৈত্যপ্রবাহের কারণে ফিকে যেতে বসেছে।
দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মাঝাডাঙ্গা গ্রামের আলু চাষি মতিউর রাহমান জানান, চলতি বছর বোরো ধান চাষ করে আমরা অনেক লোকশানের মুখে পড়েছিলাম। তবে আমন ধান উৎপাদন করে সামান্য লাভ হয়ে ছিল। কিন্তু আলু রোপণ করায় লাভের থেকে এখন লোকশানই বেশি গুনতে হবে।
একই এলাকার আরেক চাষি মানিক আহমদ জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে শৈত্যপ্রবাহের তীব্র শীতের কারণে আলু ক্ষেতে দেখা দিয়েছে মড়ক রোগের। এ রোগের কারণে ক্ষেতে আলুর নতুন চারাগাছ গুলো মরে যাচ্ছে। আর এতে করে লোকসানেরই শিকার হচ্ছি আমরা।
তিনি বলেন, কৃষি কর্মকর্তারা আমাদের যেভাবে কীটনাশক ব্যবহার করতে বলেছেন, আমরা সেভাবেই ব্যবহার করেছি। তবে কোনো লাভ হচ্ছে না। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে ভবিষ্যতে কৃষি কাজ ছেড়ে দিতে হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানিয়েছেন, প্রতি বছরই দিনাজপুর জেলার আলু ক্ষেতে মড়ক রোগ দেখা দেয়। তবে চলতি বছর মড়ক রোগের পরিমাণ একটু বেশিই। আর জন্য সরাসরি কৃষকরা দায়ী। শৈত্যপ্রবাহ যখন কম থাকে তখন আলুর আবাদ করতে একাধিকবার বলা হয়েছে। কিন্তু তারা বেশি লাভের আশায় দেরি করে আলুর আবাদ করে।
তিনি বলেন, কীটনাশক প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাদের সচেতনতার অভাব আছে। তাদের পরিমাণ মতো কীটনাশক দিতে বলা হয়েছে, কিন্তু তারা অতিরিক্ত মাত্রায় তা প্রয়োগ করছেন। শৈত্যপ্রবাহের সময় পরিমাণ মতো কীটনাশক দিলে আলু গাছের মড়ক রোগ রোধ করা যায়।
আনন্দবাজার/এম.কে









