অন্যান্য বছর রমজানকে ঘিরে ব্যবসায়ীদের থাকে নানা প্রস্তুতি। তবে এবার করোনার কারণে লকডাউন পরিস্থিতিতে হতাশ ব্যবসায়ীরা। তাই আসন্ন রমজানে অনলাইনে ব্যবসার চিন্তা করছেন ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। এতে করে বন্ধ বাজারের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া যাবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
এ প্রসঙ্গে ইয়োলো ফ্যাশনের জেনারেল ম্যানেজার হাদি এস এ চৌধুরী জানান, রোজার জন্য আমাদের উৎপাদনের যে প্রস্তুতি ছিল তার ৭০ শতাংশ উৎপাদন হয়ে গেছে। আমাদের শো-রুমগুলোতে প্রদশর্নীর সময় চলে আসছিল। কিন্তু হঠাৎ করে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় আমাদের শো-রুমগুলো ও অনলাইনও বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি সরকার ই-কমার্সের অনুমতি দিয়েছে। এখন আমরা চিন্তা করছি কিভাবে অনলাইনে বাজার ধরা যায়।
তিনি আরও জানান, রমজানে আমাদের ৪০ দিনের ব্যবসা হয়। এখানে শতভাগ লোকসান হবে। কারণ এখন কিছুই খোলা নেই। তবে অনলাইন চালু হলে ৫ শতাংশ বাজার ধরা যাবে। সে হিসেবে আমাদের মোট ব্যবসার ৯৫ শতাংশই ক্ষতির সম্মুখে পড়বে। এছাড়া পণ্য পৌঁছানো ও নিরাপত্তার বিষয় রয়েছে। তবে আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, রমজানে আমাদের দেশে ফ্যাশন শিল্প খুব জোরদার থাকে। এবার তাদের ব্যবসা একেবারেই কম হবে। ইতোমধ্যেই তাদের একটা বড় ক্ষতি হয়েছে। এজন্য ই- কমার্সকে জোরদার করা হচ্ছে। আমরা যাতে ই-কমার্সকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআইয়ের প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও ওষুধ গ্রাহকদের অনলাইনে পৌঁছে দিতে পারি তা নিয়ে এফবিসিসিআইও কাজ করছে। এটুআইয়ের প্রকল্পের মাধ্যমে একটা হটলাইন করা হচ্ছে। যেখানে গ্রাহকরা দেশের যেকোনো স্থান থেকে ফোন দিলে আশ-পাশের যেকোনো রিটেইলার থেকে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে। এ প্রক্রিয়ায় এফবিসিসিআইয়ের রিটেইলারদের একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে রেজিস্ট্রেশন করার জন্য। এখানে শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধ পাওয়া যাবে।
বাণিজ্য সিনিয়র সচিব ড. জাফর উদ্দীন বলেন, করোনার মধ্যেও রমজানে ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। আমাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় একটি গ্রুপ আছে। তারা কাজ করে যাচ্ছেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারা বড় পরিসরে আবার আরো কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে। এজন্য একটি সফটওয়ারের কাজ চলছে। রোজার আগেই কাজ শুরু করতে পারবেন তারা। শুধু ঢাকা নয় বাংলাদেশব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এজন্য নতুন করে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখানে নিত্যপণ্য ও ওষুধ থাকবে। যা রিটেলারদের মাধ্যমে সারাদেশে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
আনন্দবাজার/ টি এস পি









