সরকারের অবহেলা ও উদাসীনতায় পাটজাত পণ্য থেকে প্রতিবছর প্রায় ৪শ' কোটি ডলারের রপ্তানি আয় বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ। যথাযথ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের অভাবে ১১ বছরেও কাজে লাগানো যায়নি পাটের জিন রহস্য উদ্ভাবনের সুফলও।
রপ্তানিকারক ও বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তা ও নেতৃত্ব ছাড়া সোনালী আঁশের সুদিন ফেরানো সম্ভব নয়। দেশে গড়ে ৯০ লাখ বেল পাট উৎপাদন হয়েছে গেল ৫ বছরে। একই সময়ে কাঁচাপাট রপ্তানি হয়েছে গড়ে প্রায় ১০ লাখ বেল। যা থেকে গড় আয় প্রায় সাড়ে ১১ কোটি ডলার।
গেল অর্থবছরে রপ্তানিতে পাটখাতের অবদান ১০২ কোটি ডলার। যার মধ্যে কাঁচাপাট থেকে এসেছে ৮ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ জুট গুডস এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ মজুমদার বলেন, ‘যে শিল্পের মধ্যে আমাদের কোন ইমপোর্ট নাই। এ বাজার ভারতে চলে যাচ্ছে। ইরানে যে সুতাটা আমাদের দেশ থেকে সাপ্লাই হতো সেটা পাকিস্থানে চলে যাচ্ছে। আমাদের দেশি শিল্পকে বাঁচানোর জন্য চিন্তা-ভাবনা থাকতে হবে।’
পরিবেশবান্ধব- তাই বিশ্বে বাড়ছে পাটপণ্যের চাহিদা। কিন্তু সেরা পাট উৎপাদনকারী হয়েও বাংলাদেশ আটকে আছে সুতা, বস্তার মত কমদামী পণ্যে।
বাংলাদেশ জুট ডাইভারসিফাইড প্রোডাক্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক রাশেদুল করীম মুন্না বলেন, ‘আমাদের চরম ব্যর্থতা হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ঘোষণা করার ক্ষেত্রেও অনুপস্থিত। আধুনিকায়নের ব্যপারটা যদি নিশ্চিত করা না যায় উদ্যোক্তারা সাহস পাবেনা। তবে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন হলে রপ্তানিতে পাটের অবদান ১০০ কোটি থেকে পৌছাবে ৫শ কোটি ডলারে।’
সিপিডি’র সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা যত পাট জাতিয় দ্রব্যের দিকে যাবো তত কিন্তু আমাদের এইযে লভ্যতা সেই বাড়তে থাকবে। সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তা ছাড়া বৈচিত্রময় পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই এ ক্ষেত্রে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।’
বিশ্লেষকদের মতে, পাটের জীনরহস্য উদ্ভাবনের ১১ বছর পরেও দৃশ্যত তার কোনো সুফল পায়নি বাংলাদেশ।
আনন্দবাজার/শহক









