- করোনা নিয়ে ভীতি কমেছে
- ভ্রাম্যমাণ আদালত নেই
- দাম পড়ে গেছে
বাজার মন্দায় হতাশ মাস্ক ব্যবসায়ীরা এর মধ্যে অন্যতম ছিল মাস্ক ব্যবসা। সারাবছর মাস্ক ব্যবসা ছিল চাঙা। এ ব্যবসার সঙ্গে যারা যুক্ত হতে পেরেছেন তারা বেশ লাভবান হয়েছেন। আর এ ব্যবসায় বেশ কিছু কর্মী কাজও পেয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে সেই মাস্কের ব্যবসা মৃত প্রায়। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেকের কর্মক্ষেত্র, মালিকেরা হারাতে বসছে পুঁজি।
রাজধানীর মিটফোর্ড, বাবুবাজার ব্রিজের নিচে মাস্কের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার বসে। ঢাকাসহ দেশের সব জেলায় যে মাস্ক সরবরাহ হয়, তার বড় অংশ যায় বাবুবাজার থেকে। বাবুবাজার ব্রিজের নিচে যে মাস্ক বিক্রি হয় ৬০ পয়সায়, সেটি ফার্মেসিতে বিক্রি হয় পাঁচ টাকায়। মহামারিতে প্রতিদিন ভোর ছয়টা থেকে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে এ পাইকারি মাস্কের বাজারে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মাস্ক বিক্রি হত। কিন্তু বর্তমানে এ বাজারে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকাও বিক্রি হচ্ছে না। এ নিয়ে শঙ্কায় আছেন ব্যাবসায়ীরা। নতুন সৃষ্টি হওয়া এ কর্মক্ষেত্র একবারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন।
সরোজমিনে মাস্ক ব্যবসায়ী আলামিন বলেন, করোনাকালীন প্রতিদিন আমাদের বিক্রি ছিল বিশ থেকে ত্রিশ হাজার টাকা। আশপাশসহ দূরান্ত থেকে ক্রেতারা ছুটে আসতেন। এমনও দিন গেছে, প্রচুর ক্রেতা জড়ো হয়েছেন কিন্তু আগেই সব বিক্রি হয়ে গেছে। বেঁচা বিক্রি ভালো হওয়ায় অনেকেই তাদের মূল পেশা ছেড়ে এ পেশায় এসেছিলেন। বর্তমানে চরম দুর্দিন চলছে তাদের। দিনে যারা ৫০০ থেকে ৬০০ পিস মাস্ক অনায়াসে বিক্রি করতেন, এখন সারাদিনে ৫০ থেকে ৬০ টিও বিক্রি করতে পারছেন না। সংসার চালানোই তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
এখানকার বেশির ভাগ মাস্ক নারায়ণগঞ্জ, কামরাঙ্গীচর, গাজীপুর থেকে আসে। সেখানকার ব্যাগ, জুতার কারখানা পরিবর্তন করে মাস্কের কারখানা তৈরি করা হয়েছিল। এখন তারা লোকসানের সম্মুখীন। আপাতত এ শীতের সময়েই চলবে এ ব্যাবসা, পরবর্তীতে কেউ এখানে ব্যবসা করে আর সংসার চালাতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। আগে যেই মাস্ক ২০ টাকা পিস বিক্রি করতাম, সেগুলো এখন ৮ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। যেগুলো ১৫ টাকা ছিল সেগুলো ৬ টাকা বিক্রি হচ্ছে, সার্জিক্যাল মাস্ক এক হাজার পিস ৬০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, তাও ক্রেতা আসছে না।
মাস্ক ব্যাবসায়ী খাইরুল ইসলাম বলেন, এখন আর কেউ মাস্ক কিনতে চান না। তাই বিক্রিও নেই। আমার মত বেশ কয়েকজন যারা ছোট দোকান দিয়ে বসেছিলেন। সবাই এখন লোকসানে রয়েছেন। মাস্ক বিক্রি না হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, করোনা একেবারে কমে গেছে। মানুষের মাঝে করোনাভীতি কমে গেছে। মাস্ক ব্যবহারে এখন আর আগের মতো কড়াকড়ি নেই। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান হয় না। এসব কারণে সাধারণ মানুষ মাস্ক পরিধান করে না। তবে আমি মনে করি শুধু করোনা নয়, সুস্থ এবং জীবাণুমুক্ত থাকার জন্য প্রতিটি মানুষের মাস্ক ব্যবহার করা উচিৎ। কামরাঙ্গিচর থেকে আগত হৃদয় বলেন, এ ব্যবসা করে আমি ঋণগ্রস্ত। কোনরকম খেয়ে বেঁচে আছি। আগে চশমার ব্যবসা ছিল, সে ব্যবসা বন্ধ করে মাস্কের ব্যবসায় এসেছিলাম। মাস্কের ব্যবসায় অনেক টাকা পুঁজি খাটিয়েছি এবং অনেক মাস্ক তৈরি করা আছে। সেগুলো রেখে চাইলেই অন্য কোন কাজে যেতে পারছিনা। প্রতিদিন এ ব্রীজের নিচে ব্যবসা করতে খরচ হয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।
প্রতি দোকান থেকে ইজারাদারকে ২০০ টাকা দিতে হয়। তাও মাঝে মাঝে পুলিশ তাড়িয়ে দেয়, ধরে নিয়ে যায়। যেদিন ধরে নিয়ে যায়, সেদিনের ব্যবসা একেবারে শেষ এবং ছুটে আসতে খরচ হয় ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। এমন চলতে থাকলে এখানকার মাস্কের ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছি।









