- সপ্তাহে তিন দিন দ্রব্যমূল্য চড়া
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার প্রতিটি বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ে কমে সপ্তাহের বিশেষ কিছু দিনে। বিশেষ করে সপ্তাহের বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার অন্যান্য দিনের তুলনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের চাহিদা বেশি থাকার কারণে সপ্তাহের অন্য দিনের তুলনায় এ দিনগুলোতে দ্রব্যমূল্যের উধ্বগতি বিরাজমান। ব্যবসায়ীরা জানান, শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকার কারণে দুই দিনে বিবাহসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন আয়োজকরা। যার ফলে সপ্তাহের তিন দিন অন্যদিনের তুলনায় দ্রব্যমূল্যের চাহিদা বেড়ে দামও বেড়ে যায়। এদিকে ক্রেতারা জানান, কিছু মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা সরকারি ছুটি ও অনুষ্ঠানকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে বাজারে অভাব দেখিয়ে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দেন।
জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এখানে নারী পুরুষের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখেরও বেশী। এক সময় এ উপজেলাটি কৃষিনির্ভর অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পেলেও ২০১৪ সালে এ উপজেলাটিকে শিল্পাঞ্চল ঘোষণার পর থেকে উপজেলা প্রতিটি ইউনিয়নে ছোট বড় ও মাঝারি প্রায় সকল ধরনের শিল্প কারখানা গড়ে উঠতে শুরু করেছে। শিল্প কারখানা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বহিরাগত লোকের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের কারণে উপজেলা কাঁচপুর, মদনপুর মোগরাপাড়া, উদ্ধবগঞ্জ মেঘনা শিল্পাঞ্চলে বড় বড় বাজার ও বিপনি বিতান গড়ে উঠে। অতিরিক্ত লোকের কারণে দিনে দিনে চাহিদা বাড়তে থাকে এসব বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের। আর এ চাহিদাকে পূজি করে এক শ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা সপ্তাহের ৭ দিনের মধ্যে ৩ দিন বিশেষ কিছু পণ্যের দাম বাড়িয়ে অধিক দামে বিক্রি করেন।
তারা জানান, বৃস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটি থাকে। সরকারি ছুটি থাকার কারণে তিন দিনই কোনো কোনো অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সে কারণে তিনদিন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের চাহিদা বেড়ে যায়। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে মাছ, মাংস, মসলা, শসা, কাঁচামরিচ লেবু, গাজর ও টমোটেসহ আরও অন্যান্য জিনিসের দাম বেড়ে যায়।
উপজেলার বিভিন্ন বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, গরুর মাংসের দাম অন্যদিন ৭শ’ থেকে সাড়ে ৭শ’ টাকা থাকলে ছুটির দিনে বেড়ে ৮শ’ টাকা, খাসির মাংস অন্যদিন ৮শ’ টাকা থাকলেও ছুটির দিনে ৯শ’ টাকা, মুরগী (সোনালী) অন্যান্য দিন ২৭০ টাকা থাকলে সপ্তাহে তিনদিন ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা বিক্রি হয়, বয়লার ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা হয়ে যায়, শসা অন্যদিন ৪০ টাকা থাকলে বহৃস্পতি, শুক্র ও শনিবার হয়ে যায় ৭০ টাকা, লেবু এক হাড়ি অন্যদিন ২০টা এ তিন দিন ৪০টাকা, টমোটো অন্যান্য দিন ৯০-১০০ টাকা থাকলেও তিন দিন বেড়ে হয়ে যায় ১২০টাকা। এছাড়া সপ্তাহের তিন দিন মাছের বাজারে চাহিদা বেশী থাকার কারণে বিভিন্ন মাছে দামও কেজি প্রতি বেড়ে যায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা। মাছ মাংস ও অন্যান্য জিনিসের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে মসলার দামও।
মোগরাপাড়া চৌরাস্তা বাজারের ব্যবসায়ী রিপন জানান, বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি ও বিশেষ কিছু অনুষ্ঠান থাকার কারণে বাজারগুলোতে জিনিসপত্রের চাহিদা বেড়ে যায় সে কারণে জিনিসপত্রের দামও বেড়ে যায়। এছাড়া অন্যান্য জিনিস অন্য দিনের মতোই স্থিতিশীল থাকে।
বাজার করতে ব্যবসায়ী ইমন জানান, সপ্তাহের অন্যান্য দিন সকল প্রকার জিনিস পত্রের দাম অন্যদিনের ঠিক থাকলেও সরকারি ছুটির দিনগুলিতে বিশেষ কিছু জিনিস পত্রের দাম বেড়ে যায়। তিনি জানান, বাজারের কিছু ব্যবসায়ী অতি মুনাফার লোভে সরকারি ছুটি দিন আসলেওই অতিরিক্ত চাহিদা দেখিয়ে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে বাজারগুলোতে কোনো মনিটরিং না থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের জিম্মি করে ইচ্ছামতো জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করেন।









