- আম উৎপাদনেও পরামর্শক ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন
- ৯০ লাখের প্রস্তাবে ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ
দেশের অর্থনীতিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানী ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি টের পাওয়া যাচ্ছে দেশের বাজারেও। তাছাড়া আমদানি ব্যয় বাড়ায় চলমান ডলার সংকট মোকাবেলায় সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। যার ফলে রেশনিং করে লোডশেডিং থেকে শুরু করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমনে নিরুৎসাহিত করা হয়। এমনকি সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য অর্জনে প্রস্তাব করা ৫-জি নেটওয়ার্কের প্রকল্পও ফিরিয়ে দেওয়া হয় ডলার সাশ্রয় করার জন্য। তবুও বিভিন্ন ফাঁক-ফোঁকরে থেমে নেই সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ। এবার আম চাষের প্রশিক্ষণ নিতে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে যাচ্ছেন ১০ কর্মকর্তা। যদিও আম উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম।
চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় একনেক সভায় ‘রফতানিযোগ্য আম উৎপাদন’নামের একটি প্রকল্প অবহত করার জন্য উত্থ্যাপন করা হয়। প্রকল্পটির মাধ্যমে আমের বর্তমান চায় ৫ শতাংশ বাড়াতে চায় কৃষ মন্ত্রণালয়। ফলে আম উৎপাদন ও সংরক্ষণ বিষয়ে কর্মকর্তা, কৃষক ও সুবিধাভোগীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। আর প্রকল্পে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে যাবেন ১০ কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে আম চাষীদেরও অন্তর্ভূক্ত করতে বলেছে পরিকল্পনা কমিশন। এতে ভ্রমণ ব্যয় ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হলেও কমিশনের সুপারিশে তা ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে দেশীয় এ ফল উৎপাদনের প্রকল্পের জন্য ৯০ লাখ টাকার পরামর্শক ব্যয় নিয়েও আপত্তি তুলে পরিকল্পনা কমিশন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকার পরও পরামর্শক ব্যয় প্রস্তাবের বিরোধীতা করে তা বাতিলের সুপারিশ করা হয়। তারপরেও বিশেষ বিবেচনায় পরামর্শক খাতে ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
প্রকল্পটি ৫০ কোটি টাকার কম হওয়ায় তা শুধুমাত্র একনেক সভায় অবহিত করা হয়। অন্য প্রকল্পের মতো এটি অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে নাই। তাই প্রকল্পটির বিস্তারিত ব্যয় প্রকল্প সারসংক্ষেপের কাগজে উল্লেখ করা হয়নি। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নের প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয় ৪৭ কোটি ৮ লাখ টাকা। এ বছরের জুলাই মাস থেকে ২০২৭ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়, দেশে প্রায় ৭২ জাতের আম উৎপাদিত হচ্ছে। চাঁপাইনবানগঞ্জ, নওগাঁ, সাতক্ষীরাসহ পার্বত্য জেলায় মানসম্মত আম উৎপাদিত হয়। তবে এসব জেলা ঢাকা থেকে অনেক দূরে হওয়ায় আম সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে ২৫-৩০ শতাংশ আম নষ্ট হয়ে যায়। তাই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অপচয় হ্রাস করে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। ৪ বিভাগের ১৫ জেলার ৪৬টি স্থানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে- ২ হাজার ৩০০ আম উৎপাদন প্রদর্শনী। একই সংখ্যক রফতানিযোগ্য জাতের আম বাগান সৃষ্টি। ১ হাজার ৮৪০টি বাগানে সার ও বালাই ব্যবস্থাপনার কাজসহ আধুনিক প্রুক্তির ব্যবহার। ৯২০ ব্যাচ কৃষক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। স্টেকহোল্ডার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে ৪৬ ব্যাচ। আম পরিবহনের সাথে জড়িতদের জন্য ১০ ব্যাচ প্রশিক্ষণ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ৪০ ব্যাচ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ। ১২২ ব্যাচ উদ্ধুকরণ ভ্রমণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে প্রকল্পটিতে। ৫টি আমের কুলিও-ক্লিনিং শেড স্থাপন করা হবে।
প্রকল্পটি গত মার্চে পরিকল্পনা কমিশনে মূল্যায়নের জন্য পাঠানো হয়। সেখানে মূল্যায়ন কমিটির বৈঠকে পরিবগণ খানে জ্বালানী ক্রয়ের প্রস্তাব বাদ দেওয়া হয়। শ্রমিকের মজুরি, সার্ভেসহ মনিটরিং খাতের ব্যয়ও বাদ দেওয়া হয়। মুদ্রন ও বাধাঁই খাতে ১৫ লাখ টাকা প্রস্তাবের বিপরীতে ৫ লাখ টাকা রাখা হয়। এসি ৫টি জাগায় ২টি এবং আসবাবপত্র খাতে ৮ লাখ টাকা প্রস্তাবের বিপরীতে ২ লাখ টাকা রাখা হয়। স্টেশানারি থেকে ফটোকপি, কম্পিউটার, প্রিন্টার সব খাতেই ব্যয় কমানো হয়।
উল্লেখ্য, সরকারের কৃচ্ছ্রতা সাধনের এ সময়ে আম প্রশিক্ষণের এমন ভ্রমণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এরআগেও খিচুর রান্না ও সাতার কাটাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের বিদেশ ভ্রমণের সংবাদে দেশব্যাপি সমালোচনার ঝড়ে উঠেছিল।









