সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা শুরু করেছে সরকার। এতে কৃষক প্রতি মণে দাম পাচ্ছে এক হাজার ৪০ টাকা। নেত্রকোনায় সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে হাওরের অন্যান্য অঞ্চলের অবস্থা খুবই নাজুক। ধান কেনার পর্যাপ্ত ব্যাপারী না থাকায় সস্তায় ধান বিক্রি করছে কৃষক। চিকনটা ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা মণ এবং মোটা ধান ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা মণ বিক্রি করছে তারা।
জানা যায়, হাওর অঞ্চলের সাতটি জেলায় ৬০ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে। কৃষক এখন ধান বিক্রি শুরু করে দিয়েছেন। কারণ এই ধান বিক্রি করে কৃষক মজুরকে টাকা দিয়ে থাকে। নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জের খাদ্যগুদামে সোমবার দুপুরে ধান কেনা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম। এ সময় স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ৩৬০ কেজি ধান কেনা হয়।
জেলা প্রশাসক জানান, এবার এক হাজার ৪০ টাকা দরে ১৫ হাজার টন ধান কেনা হবে। জেলায় ৪০ হাজার টন সিদ্ধ ও আতপ চাল নিয়ে মোট ৫৫ হাজার টন কেনার বরাদ্দ এসেছে। তালিকা থেকে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। তবে যারা গত মৌসুমে আমন ধান সরকারের কাছে বিক্রি করেছেন তাদের কাছ থেকে এবার বোরো ধান কেনা হবে না।
এদিকে সুনামগঞ্জে এখনও সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে নির্দেশনা মোতাবেক ধান কেনা শুরু হয়নি। এ নিয়ে হাওরের সুনামগঞ্জে কৃষকদের মাঝে কিছুটা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত রোববার থেকে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লাসহ ১১ উপজেলায় ধান ক্রয় শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। কৃষকদের অভিযোগ, ফড়িয়া, টাউট ও মিলমালিকদের কম দামে ধান কেনার সুযোগ দিতেই তালিকা করতে বিলম্ব করে ধান ক্রয়ের দিন-তারিখ পেছানো হচ্ছে।
ভৈরবে এক কৃষক জানান, সোমবার ভৈরবে প্রতিমণ মোটা ধান প্রকার ভেদে ৪৭০-৫৫০ টাকা ও চিকন ধান ৬০০-৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এ জেলায় সরকারি ধান ক্রয় এখনও শুরু হয়নি।
কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, অনেক কৃষক তাৎক্ষণিক টাকার প্রয়োজন মেটাতে ধান কেটে এনে খোলা খেকেই ধান বিক্রি করে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়িতে কৃষকরা খোলা থেকে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করছে। এর এক মণ ধান শুকালে ৩০ কেজি হবে। কাঁচা ধানের এই দাম মন্দ নয়।
আনন্দবাজার/শহক









