আজ বিশ্ব নদী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য, 'ভাইরাসমুক্ত বিশ্বের জন্য চাই দূষণমুক্ত নদী'। দেশে ২০১০ সাল থেকে এ দিবসটি পালন করা শুরু হলেও, কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ১৯৮০ সাল থেকে প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রবিবার "বিসি রিভারস ডে" নামে দিবসটি পালন করে আসছে। বিসি রিভারস ডে পালনের সাফল্যের হাত ধরেই তা আন্তর্জাতিক রূপ পায়।
২০০৫ সালে জাতিসংঘ নদী রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরি করতে 'জীবনের জন্য জল দশক' ঘোষণা করে। সে সময়ই জাতিসংঘ দিবসটি অনুসমর্থন করে। এরপর থেকেই জাতিসংঘের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা দিবসটি পালন করছে, যা দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে।
এইদিকে দেশে নদ-নদী রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। ২৫ বছর মেয়াদি ৪০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। সচেতনতা বাড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণও শুরু হয়েছে।
তবে ক্ষোভ জানিয়ে নদী অধিকার মঞ্চের সদস্য সচিব শমশের আলী বলেন, বাংলাদেশে নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে যতগুলো আইন আছে, সবগুলোই মূলত নদী শাসনকেন্দ্রীক। নদীর অধিকার এবং নদীর জীবন্ত সত্ত্বাকে স্বীকৃতি দিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আইন হয়নি। ফলে নদীকে কেন্দ্র করে যতগুলো কার্যক্রম হচ্ছে কোনো না কোনোভাবে সেগুলো নদীকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, নদীর প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে। আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নদীর দখল ও দূষণ।
তিনি আরও বলেন, একাডেমিক আলোচনায় নদীকে লাইফ লাইন বলি, নদীকে বলি পরিবেশ-প্রতিবেশের একটা অবধারিত উপাদান, নদী হলো সম্পদ। কিন্তু প্রশাসনিকভাবে নদী শাসন ও দখল-দূষণের বিষয়ে কথা বলা হয়। নদী থেকে কতটুকু দূরত্ব বজায় রেখে শিল্প কারখানা হবে তাও ঠিক করা হয়নি। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে নদী থেকে অন্তত এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো কলকারখানা স্থাপন করা যায় না। আমাদের দেশে নদীর পাড়েই সব হচ্ছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে নদ-নদী রক্ষায় কাজ করছে ২৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এর মধ্যে নদীর পানির প্রবাহ ঠিক রাখা ও দখল রোধে প্রধান দায়িত্ব পালন করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পানি উন্নয়ন বোর্ড। নদীপাড়ের বন্দরগুলো দেখভালের দায়িত্ব নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের। আর নদীর দূষণ ঠেকানোর কাজে রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সর্বশেষ নদীর দখল ও পরিবেশদূষণ ঠেকাতে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছে। যাদের নেতৃত্বে নদী রক্ষায় সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘একটি বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরি করেছি, দখলদারদের তালিকা করেছি। সকল জেলায় এখন উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়ে গেছে। একটি জবাবদিহিতার জায়গা নদী রক্ষা কমিশন। সবার সহযোগিতা পেয়েছি। দেশের প্রচুর মানুষ নদী নিয়ে কাজ করছে। তাদেরকে সংগঠিত করাই কমিশনের কাজ।
আনন্দবাজার/শহক/এইচ এস কে








