৫৫ বছরের জীবনে জন্মদিন উপভোগের সুযোগ খুব বেশি পাননি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বয়ে বেড়ানো সর্বকালের শ্রেষ্ঠ এই বাঙালির জীবনের ১৩ বছরই কেটেছে কারাগারের অন্ধকার খুপরিতে। আর এই সময়ে বঙ্গবন্ধুর ৮টি জন্মদিনই কেটেছিল কারাবন্দিদের সাথে।
বাঙ্গালীর মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পাকিস্তানী শাসকদের রোষানলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কারাগারে কাটাতে হয়েছিল ৪ হাজার ৬শ ৮২ দিন।
১৯৩৮ সালে প্রথমবারের মত কারাগারে যান বঙ্গবন্ধু। এরপর ১৯৪৭ এ দেশ ভাগের পর প্রথম ৩ বছরেই ৬বার আটক করা হয় তাকে। এরইমধ্যে ১৯৫০ সালে তাঁর ৩১তম জন্মদিনটি তাকে কারাগারে কাটাতে হয়। টানা ২ বছরেরও বেশি আটক থাকায় পরের বছর ১৯৫১ সালের জন্মদিনটিতেও তিনি কারাগারে ছিলেন।
এরপর আইয়ুব খান দেশে সামরিক শাসন জারি করলে ১৯৫৮ সালের ১১ অক্টোবর আবারও গ্রেফতার হন বঙ্গবন্ধু। এ সময় বঙ্গবন্ধুকে কারাগারে কাটাতে হয় লাগাতার ১ হাজার ১শ ৫৩ দিন। তার ৪০তম, ৪১তম ও ৪২তম জন্মদিন কাটে বন্দিদশায়। ১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই ১৯৬২ সালের ৬ জানুয়ারি পুনরায় গ্রেফতার হন তিনি অতঃপর মুক্তি পান একই বছরের ১৮ জুন। ফলে ১৯৬২ সালে ৪৩তম জন্মদিনও তাকে কাটাতে হয় জেলে।
১৯৬৬ সালে ৬ দফা ঘোষণায় পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বারবার আটক করে বঙ্গবন্ধুকে। ১৯৬৭ সালে ৪৮তম এবং ১৯৬৮ সালে ৪৯তম জন্মদিনও পাকিস্তান সরকারের বন্দিদশায় কাটে বঙ্গবন্ধুর। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থ এবং বঙ্গবন্ধুর কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থে এই মহান নেতার জেলখানায় জন্মদিন কাটানোর তথ্য পাওয়া যায়।
আনন্দবাজার/তা.তা









