প্রাক-বাজেট আলোচনা---
- ইলেকট্রিক হুইলচেয়ার আমদানি শুল্কমুক্ত
- প্রতিবন্ধীদের আয়করমুক্ত সীমা ৬ লাখ টাকা
ইলেকট্রিক হুইলচেয়ারসহ সহায়ক যন্ত্রপাতি আমদানিতে অতিমাত্রায় শুল্কহার গুনতে হচ্ছে। ফলে দারিদ্র প্রতিবন্ধীরা আর্থিক সংকটে ইলেকট্রিক হুইলচেয়ার ব্যবহার করতে পারছে না। একই সঙ্গে সহায়ক যন্ত্রপাতি কেনাতেও পড়ছে চরম ভোগান্তিতে। তাই তাদের সুস্থ জীবনধারনসহ নিরাপদ চলাচলের জন্য ইলেকট্রিক হুইলচেয়ার ও সহায়ক যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্কমুক্ত রাখার দাবি জানায় বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্যা চেঞ্জ অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান)।
একই সঙ্গে প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে আয়মুক্ত সীমা ৬ লাখ টাকা করা সহ নারী প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের উৎসাহে আয়ের সীমা ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত কর ছাড় দেওয়ার দাবি রাখেন বি-স্ক্যান। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বি-স্ক্যানের সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরেন। প্রাক-বাজেট আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআরের শুল্ক সদস্য (শুল্ক নীতি) মাসুদ সাদিক।
বি-স্ক্যানের সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব বলেন, সরকার প্রতিবন্ধীদের নিরাপদ জীবনের লক্ষে বিভিন্ন এসআরওতে শুল্ক রেয়াতের সুবিধা দিয়েছে। এরপরও বিশেষ করে ইলেকট্রিক হুইলচেয়ার সহ সহায়ক যন্ত্রপাতি আমদানিতে অতিমাত্রায় শুল্কহার গুনতে হচ্ছে। এর ফলে দারিদ্র প্রতিবন্ধীরা ইলেকট্রিক হুইলচেয়ার ব্যহার করতে পারছে না। তাই প্রতিবন্ধীদের জন্য সহায়ক উপকরন (যেমন- হুইলচেয়ার, সাদাছড়ি, হেয়ারিং, এইড, বাইপাব মেশিন ইত্যাদি) ব্যাক্তিগতভাবে আমদানির ওপর শুল্কমুক্ত রাখার জরুরি।
এছাড়া বাণিজ্যিকভাবে এসব সহায়ক উপকরন আমদানিতে শুল্কমুক্ত রাখতে না পারলেও স্বল্প শুল্কে তা নির্ধারণের দাবি তোলা হয়। পাশাপাশি এসব উপকরন আমদানিতে অন্য কোন খাতে যেন শুল্ক না ধরা হয়, সেই দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার অনুরোধ রইলো। এসব অপব্যবাহার রোধে শুল্ক প্রত্যাহার সহায়ক যন্ত্রের নাম ও ধরন সুস্পষ্টভাবে লিপিবন্ধ করার ওপরে জোর দাবি রাখেন।
প্রতিবন্ধীদের ব্যবসা বাণিজ্য, চাকরিসহ তাদের বিকাশে এনবিআরকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার আহ্বান জানিয়ে সালমা মাহবুব আলোচনায় একগুচ্ছ দাবিদাবা তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসমূহে ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধীদের নিয়োগ দিলে ৫ শতাংশ কর ছাড়ের নিয়মটি সংশোধন করা। পাশাপাশি ২ শতাংশ প্রতিবন্ধী কর্মী নিয়োগ ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ কর ছাড়ের বিধার করা; প্রতিবন্ধীদের ব্যক্তিগত গাড়ি আমদানিতে শুল্কমুক্ত রাখা এবং তাদের অভিভাবকদের গাড়ীর নিবন্ধন ফি মওকুফ করা; প্রতিবন্ধীদের সঞ্চয় এফডিআর, ডিপিএসের ওপরে সকল ভ্যাট-কর প্রত্যাহার করা; অটিস্টিক ব্যক্তিদের জন্য গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের সুবিধা প্রতিবন্ধী সংগঠনের জন্য একই ব্যবস্থা রাখা।
এছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনকে (ডিপিও) অনুদান প্রদানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কর ছাড় সুযোগ দেয়া; নারী প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের আয়ের সীমা ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত কর ছাড় দেয়া; প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আয়মুক্ত সীমা ৬ লাখ টাকা করা; প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনসমূহের (ডিপিও) আয়ের ওপর করমুক্ত করা; দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পড়ার উপকরন ব্রেইল মুদ্রণের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার; ব্যক্তি সংগঠনকে (ডিপিও) অনুদান প্রদানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কর ছাড় সুযোগ দেয়া; প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনসমূহের অফিস ভাড়া সম্পূর্ণ বা আংশিক ছাড় দেয়া; প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উদ্যোগে তৈরি উপকরন রফতানিতে শুল্কমুক্ত রাখা সুবিধা দাবি রাখেন বি-স্ক্যানের সালমা মাহবুব।









