সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর
- জঙ্গিবাদে পা বাড়ানো বেশিরভাগই তরুণ
- সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে র্যাবের নজরদারী
- রাজশাহী অঞ্চলে ১৪ মাসে ২৭ জঙ্গি গ্রেপ্তার
ভাবিয়ে তোলার মতো সাংগঠনিক কাঠামো জঙ্গিদের নেই। বারবার চেষ্টা করেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় জঙ্গিবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি। তবে প্রকাশ্য না আসতে পারলেও থেমে নেই জঙ্গিদের অপতৎপরতা। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কয়েক বছর ধরে জঙ্গিরা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়াগুলোকে। জঙ্গিবাদের ভয়ঙ্কর পথে পা বাড়াতে তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে নানান কৌশলে।
এদিকে, করোনাকালিন সময়ের শুরুতে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এ সেমিনারে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এর দেয়া এক তথ্য অনুযায়ি, দেশে জঙ্গিদের ৮২ ভাগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই উদ্বুদ্ধ হয়। বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার ২৫০ জঙ্গির তথ্য বিশ্নেষণ করে এমন চিত্র পায় এটিইউ। গ্রেপ্তার ২৫০ জঙ্গির মধ্যে ২৩০ জনেরই বয়স ১৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।
এ চিত্র থেকে বোঝা যায় যে সোশ্যাল মিডিয়ায় জঙ্গিরা মুলত তরুণদের লক্ষ্য করে থাকে। তরুন সমাজকে বিপদগামী করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
সম্প্রতি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৫) এর নতুন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বলেন, বেশিরভাগ উগ্রবাদী জঙ্গিরা সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই মূলত জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। তাই আমরা এমন উগ্রবাদী জঙ্গিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাদের মোটিভেশনের কাজটিও করছি। অনেক সময় তাদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দিচ্ছি।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার আরো বলেন. উঠতি বয়সীরা বিভিন্ন উগ্রবাদী সাইট থেকেই জঙ্গিবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছে। এছাড়া অনেকে ফিরে আবার দ্বিতীয়বারের মতো জঙ্গিবাদে জড়াচ্ছে। আমরা চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। ফলে বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে এখন জঙ্গি তৎপরতা অনেকাংশেই কমে আসছে।
এক তথ্যে তিনি জানান, র্যাব-৫ রাজশাহী অঞ্চলে গত ১৪ মাসে বিপুল পরিমাণ মাদক ও ২৭ জন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া অস্ত্র ও বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার বলেন, গত ১৪ মাসে র্যাব-৫ এর সদস্যরা ২৫২টি অস্ত্র, ১ হাজার ২৪৮ রাউন্ড গুলি, ১০৪টি ম্যাগজিন উদ্ধার করে।
এছাড়াও ১৩১ কেজি ৪৬০ গ্রাম হেরোইন ১৬ হাজার ৬৯৭ বোতল ফেন্সিডিল, ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৮ পিস ইয়াবা, ১ হাজার ৩৪৫ কেজি গাঁজা, ৭৫ হাজার ৯৬১ লিটার দেশি মদ, ৩২৬ বোতল বিদেশি মদ, ৩২৭ ক্যান বিয়ার, ১২ হাজার ৬৮৬ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ২ হাজার ৭৫৬টি নেশাজাতীয় ইনজেকশন জব্দ করে। এ অভিযান চলমান রয়েছে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৫) এর নতুন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার বলেন, আমাদের জঙ্গি সেল আছে। সেখানে থেকেই প্রতিনিয়ত সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর উপরে নজরদারি করা হচ্ছে। যাদের মধ্যে জঙ্গিবাদের দিকে ঝুকে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় তাদের চিহ্নিত করা হয়। চিহ্নিতদের মধ্যে যারা অতিমাত্রায় জঙ্গিবাদের মধ্যে ঝুঁকে গেছে তাদের আইনের আওতায় নেয়া হয়। আর যারা শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ তাদের মোটিভেশন করার চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদের বিষয়টি খুবই সেনসেটিভ। র্যাব এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করে থাকে।









