- সংরক্ষণে হিমাগার স্থাপনের দাবি
- প্রতি বছরেই বাড়ছে চাষ
ইউটিউবে ভিডিও দেখে দেশের অনেক বেকার যুবক-যুবতীর হয়েছে কর্মসংস্থান। এমনকি অনেকে হয়েছেন উদ্যোক্তাও। অন্যদিকে ভিনদেশী পশু-পাখি, কৃষিজ শাক-সবজি, ফল ও ফুলের চাষাবাদ এবং সঠিক পরিচর্যা, উৎপাদন, চাষের সকল কলা-কৌশল শেখা যাচ্ছে অনলাইনের কল্যাণে। অনন্য স্বাদের সুগন্ধিযুক্ত টক ও মিষ্টি ভিনদেশী স্ট্রবেরি শীত প্রধান দেশের ফল হলেও ইউটিউবের কল্যাণে প্রান্তিক কৃষকের মাধ্যমে এখন বাংলাদেশেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। যেমনি ভাবে শীত প্রধান দেশের জনপ্রিয় ফুল টিউলিপের চাষ হয়েছে বাংলাদেশে। আর এ টিউলিপের প্রথম পরিচয় বাংলাদেশে ঘটান বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরষ্কার পাওয়া ফুলচাষি দেলোয়ারের মাধ্যমে।
এদিকে শীত প্রধান দেশের ফল লাল স্ট্রবেরির ভালো ফলন পেয়েছেন গাজীপুরের শীতলক্ষ্যার তীরে জেগে ওঠা চরের চাষিরা। বাজারে এ রসালো ফলের চাহিদা, ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় প্রতিনিয়ত কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে এ ফলের সুগন্ধী ও মিষ্টি ফলের চাষ।
উইকিপিডিয়া সূত্রে জানা যায়, গন্ধ, বর্ণ ও স্বাদে আকর্ষণীয় স্ট্রবেরি ফলের রস, জ্যাম, আইসক্রিম, মিল্কশেকসহ অনেক খাদ্য তৈরিতে স্ট্রবেরির সুগন্ধ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ১৭৪০ সালে ফ্রান্সের ব্রিটানি অঞ্চলে প্রথম স্ট্রবেরির চাষ হয়। পরবর্তীকালে চিলি, আর্জেন্টিনাসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে স্ট্রবেরি। স্ট্রবেরি মূলত শীত প্রধান দেশের ফল হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের যেসব এলাকায় বেশি শীত পড়ে, সেসব এলাকায় বিভিন্ন জাতের স্ট্রবেরির চাষ হচ্ছে। আবার অনেকে শখ করে বাসা-বাড়ির টবে বা ছাদ কৃষিতে চাষ করলেও এখন বাণিজ্যিকভাবে এ ফলের চাষ শুরু করেছেন কাপাসিয়া উপজেলার কয়েকজন কৃষক।
শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বপাড়ে অবস্থিত কাপাসিয়া উপজেলার সিংহশ্রী ইউনিয়নের কুড়িয়াদী গ্রাম। সেখানকার গুটিকয়েক কৃষক নদীর তীরে জেগে ওঠা চরে প্রতি বছরের ন্যায় শীতকালীন ফসলের চাষ করে। তবে শীতকালীন ফসলের চাষ শেষ হয়ে গেলে বছরের অন্যান্য সময় ওই জমি পতিত থাকে। কৃষিকাজে ভিন্নতা আনতেই চলতি মৌসুমে শীতলক্ষ্যার পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত শ্রীপুর উপজেলার মৌমিতা ফ্লাওয়ারর্স গার্ডেনের মালিক ফুলচাষি দেলোয়ার হোসেনের পরামর্শে গ্রামের কয়েকজন কৃষক স্ট্রবেরির চাষ শুরু করেন। তাদেরই একজন চাষি তোফায়েল আহমেদ বিদ্যুৎ।
বিদ্যুৎ জানান, বর্ষায় জমিগুলো পানিতে ডুবে যায় এবং বর্ষা শেষে নদীর পানি নেমে যায়। এতে পলিমাটি জমে কৃষি জমিগুলো বেশ উর্বর হয়ে থাকে। এতে যেকোনো ফসলের চাষ করা হলেই ফলন ভালো পাওয়া যায়। তিনি দেলোয়ারের মালিকানাধীন মৌমিতা ফ্লাওয়ারস থেকে ১ হাজার স্ট্রবেরির চারা ক্রয় করেন, প্রতিটি চারা গাছের দাম ছিল ৩০ টাকা করে। কয়েকমাস পরিচর্যা করার পর এখন ফল পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিকেজি স্ট্রবেরি তিনি ৭০০-৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। এ পর্যন্ত তিনি দেড় লাখ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রি করেছেন।
কাপাসিয়ার কুড়িয়াদি গ্রামের চাষি হুমায়ুন কবির জাপানি জানান, অনেকেই নানাভাবে টাকা-পয়সা নষ্ট করে থাকেন। গত মৌসুমে পেঁপের বাগান শীলাবৃষ্টিতে নষ্ট হওয়ায় অনেক লোকসানের মুখোমুখি হয়েছিলাম। তাই এবার আমরা কয়েকজন মিলে ঝুঁকি নিয়েছিলাম স্ট্রবেরি চাষে। নদীর চরে আমরা স্ট্রবেরি চাষে ভালো ফলন পেয়েছি। এখন আমাদের দেখাদেখি আগামী মৌসুমে অনেকেই এ ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। লাভজনক চাষ বিধায় নদীর তীরে সম্ভাবনাময় স্ট্রবেরি চাষে বিপ্লব ঘটতে পারে আগামীতে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, চলতি বছর কাপাসিয়া ও শ্রীপুরে ৫ একর জমিতে স্ট্রবেরির চাষ হয়েছে। স্ট্রবেরি মূলত অতি লাভজনক একটা ফসল। এ ফল চাষে বিঘা প্রতি উৎপাদন খরচ ১ লাখ টাকা হলেও লাভ আসে বিঘা প্রতি প্রায় ৩ লাখ টাকা। জেলায় দিন দিন স্ট্রবেরির চাষ বাড়ছে।
তিনি আরো বলেন, এ ফল গাছে পেকে গেলে আর রাখা যায় না। বিক্রি করতেই হয়। যেহেত ফল সংরক্ষণ করার মতো কোনো হিমাগার জেলায় নেই। সরকারিভাবে জেলায় যদি হিমাগার স্থাপন করা হয় তাহলে এই জেলার কৃষকরা অবশ্যই অনেক লাভবান হবে। অনেকে শখের বশে বাসা-বাড়িতে স্ট্রবেরির চাষ করলেও কাপাসিয়ায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে জেগে ওঠা চরে বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরির চাষ করছেন।









