বিদায়ি অর্থবছরে ব্যাংক থেকে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ নিয়েছে সরকার। এতে করে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ ঋণ নেওয়ার রেকর্ড গড়লো সরকার। গেল অর্থবছরে সরকারের নিট ব্যাংকঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭২ হাজার ২৪৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, যা মূল বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫২ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই এক অর্থবছরে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে এত বেশি ঋণ নেয়নি সরকার।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, রাজস্ব আদায়ে ভাটা ও কড়াকড়ি আরোপে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে যায়। এতে করে ব্যয় মেটাতে গিয়ে সরকারকে বাধ্য হয়ে এই পরিমাণ ঋণ নিতে হয়েছে।
জানা যায়, সরকার বাজেট ঘাটতি মেটাতে গেল অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। যদিও পরে তা বাড়িয়ে ৮৪ হাজার ৪২১ কোটি টাকা করা হয়েছে। তবে অর্থবছরের শেষের দিকে বড় অঙ্কের বৈদেশিক ঋণ এবং অনুদান পাওয়ায় সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে আটকানো সম্ভব হয়েছে ব্যাংকঋণ।
এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ব্যাংকঋণ নেওয়ার রেকর্ড ছিল। ওই অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক থেকে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তবে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ায় সংশোধিত বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে তা ৩০ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকায় নিয়ে আসা হয়। তারপরও সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে সরকারের ব্যাংকঋণ দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন জানান, এ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি হয়েছে। সঞ্চয়পত্র বিক্রিও তলানিতে নেমে গেছে। এতে করে বাধ্য হয়ে ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিয়েছে সরকারক। এটা মোটেও ভালো লক্ষণ না। এর ফলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
আনন্দবাজার/এম.কে









