ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা। তবে একদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব অন্যদিকে পোকার আক্রমণে আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় কিছুটা হতাশ ভোলার কৃষক।
এছাড়া বাজার দরও তেমন ভাল না বলে লোকসানের সম্ভবনা আছে বলে ধারনা করছেন অনেকে। বাজার দর কিছুটা বাড়লেই ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশা করেন কৃষকরা।
ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চন্দ্র প্রসাদ গ্রামের চাষি মো. সোহেল বলেন, এ বছর তিনি ২ একর জমিতে আমনের আবাদ করেছিলেন তিনি। কিন্তু ফলন হয়েছে অসন্তোষজনক। তাই বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
অন্যদিকে আলী নামে এক চাষি জানান, আমার ক্ষেতের ফলন কিছুটা ভালো হয়েছে। এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আমনের আবাদ করেছি। একর প্রতি দুই/তিন মণ করে ধান হয়েছে।
মোট আবাদ থেকে এ বছরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ২৬৭ মেট্রিক টন চাল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় চার হাজার ২৪ হেক্টর জমি। যদিও এ মৌসুমে হেক্টর প্রতি ৩.৩ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হচ্ছে বলে দাবি করছে।
এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ বিনয় কৃষ্ণ মজুমদার জানান, আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। যদিও কিছু স্থানে প্রাকৃতিক কারণে কিছুটা ফলন কম হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ বছর মণ প্রতি ১০৪০ টাকা মণ দরে ধান ক্রয় করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিস্তীর্ণ ফসলের জমিতে ধান কাটার ধুম পড়ে গেছে। ধান যার যার গোলায় তুলছেন কৃষক-কৃষাণীরা। অনেকে আবার বিক্রিও শুরু করে দিয়েছেন। ফলন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে চাষিদের মধ্যে। বাজার দাম বৃদ্ধি এবং সরকার থেকে সবার ধান সংগ্রহ করা হলে চাষিরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আনন্দবাজার/তা.অ








