- ঢাকা সফরে আইএমএফ প্রতিনিধি দল
- ঋণ পাওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী: জ্যেষ্ঠ অর্থসচিব
- ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ আবেদন
এক বছরে রিজার্ভ কমেছে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৪৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। সেটি বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে ৩৬ বিলিয়ন ডলারে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী জ্যেষ্ঠ অর্থসচিব ফাতিমা ইয়াসমিন।
বাংলাদেশে সফররত আইএমএফের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই আশার কথা জানান। ঋণ নিয়ে আলোচনা করতে আইএমএফের দক্ষিণ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল গতকাল বুধবার ঢাকায় এসেছেন। সফরের প্রথম দিনই দলটি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক শুরু করেছে।
আগামী ৯ নভেম্বর পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবেন দলের সদস্যরা। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তারা। প্রথম বৈঠক শেষে জ্যেষ্ঠ অর্থসচিব ফাতিমা বলেন, ‘এটি আইএমএফ দলের সঙ্গে প্রথম বৈঠক ছিল। বৈঠক আরও হবে। আমরা ঋণ পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।’
সংকট মোকাবিলায় আইএমএফের কাছে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ। ডিসেম্বরের মধ্যে ১৫০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী সরকার, তবে ঋণ পেতে বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে বাংলাদেশকে। সিরিজ বৈঠকে এসব শর্ত নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে দর-কষাকষি করবে বাংলাদেশ।
রিজার্ভ ধরে রাখতে নানা উদ্যোগ নেওয়ার পর অর্থনীতির অন্যান্য সূচক নিম্নমুখী হয়েছে। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, কমে গেছে রফতানি আয়। কমেছে রেমিট্যান্স প্রবাহও। এমনকি বৈদেশিক ঋণও কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আইএমএফ থেকে ঋণ নেওয়া ছাড়া আর কোনও পথ খোলা নেই।
ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংস্কার এবং নীতি নিয়ে আলোচনা করতে বাংলাদেশে এসেছে আইএমএফ প্রতিনিধি দল। গতকাল থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংস্কার এবং নীতি নিয়ে আলোচনা করবে আইএমএফ প্রতিনিধি দল।
বাংলাদেশ আইএমএফের কাছে ৪৫০ কোটি ডলার এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)-এর কাছে ১০০ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই পরিমাণ ঋণ যথেষ্ট কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার সংকট কাটিয়ে উঠতে আইএমএফ-এর ঋণ দেশের ভাবমূর্তি গড়ে তুলবে। তারা বলছেন, আইএমএফ থেকে ঋণ নিতে হলে শর্ত মানতে হবে। এক দশক আগে ভ্যাট আইন প্রণয়ন করার শর্তে বাংলাদেশ সাত কিস্তিতে আইএমএফ থেকে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের একটি বর্ধিত ঋণ সুবিধা (ইসিএফ) পেয়েছিল।
এর আগে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার আইএমএফের শর্তাবলি সম্পর্কে সাংবাদিকদের কিছু ধারণা দেন। এগুলো হলো-রাজস্ব প্রশাসনের আধুনিকায়ন, রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা, জিডিপি অনুপাতে কর আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করা, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং খারাপ ঋণ কমানো।
এদিকে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কাটাতে এখনই বাস্তবায়ন জরুরি নয় এমন সব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ স্থগিত রাখাসহ নিতান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অতি প্রয়োজনীয় ছাড়া আমদানির ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে চাল, গম ও ডালের মতো খাদ্যশস্যের আমদানি কমে গেছে।









