পুঁজিবাজারে সূচকে উত্থান---
- ৩২ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ
- শেষ চারদিনে ছাড়িয়েছে হাজার কোটি টাকা
- শতভাগ উত্থান টেলিকমিউনিকেশনে, পতন পাটে
- ডিএসইতে শীর্ষে ডেল্টা লাইফ, বেক্সিমকো
- সিএসইতে শীর্ষে রবি, ওয়ান ব্যাংক
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন গতকাল বৃহস্পতিবার ১৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ডিএসইর এদিনের লেনদেন গত ৩২ কার্যদিবসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বলে বিবেচ্য হয়েছে। এদিন পুঁজিবাজারে সব ধরনের সূচক উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। বেড়েছে ৪৪ শতাংশ ও কমেছে ৪৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর।
ডিএসই ও সিএসই (চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ) ৪৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৪৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং সিএসইর ৪৪ দশমিক ১৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়। দুই স্টকে এদিন ৪৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৪৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং সিএসইর ৪৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়েছে। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এই ধরনের বাড়া-কমাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।
এদিন ডিএসইতে টেলিকমিউনিকেশন খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এদিন ব্যাংক, বস্ত্র, সিমেন্ট, জ্বালানি শক্তি, সেবা আবাসন এবং ভ্রমন অবসর খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দরে উত্থান হয়েছে। অপরদিক ডিএসইতে এদিন পাট খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এদিন বীমা, আইটি, বিবিধ এবং ওযুধ রসায়ন খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দরে পতন হয়েছে।
বছরের শুরুর পর দুই স্টকে এ পযর্ন্ত পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়। এর মধ্যে ডিএসইতে প্রথম কার্যদিবস বাদে বাকী চার দিবসের লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবারের লেনদেন সবোর্চ্চ হিসেবে বিবেচ্য হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম কার্যদিবস রবিবার দুই স্টকের ৭৮ শতাংশ, দ্বিতীয়দিন সোমবার ৬০ শতাংশ, তৃতীয়দিন মঙ্গলবার ৪৪ শতাংশ, চতুর্থদিন বুধবার ৬৪ শতাংশ এবং পঞ্চমদিন বৃহস্পতিবার ৪৩ দমমিক ৭৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে।
বছরের শুরু থেকেই পুঁজিবাজারের কোম্পানির শেয়ার দর বাড়া, সূচক উত্থান এবং ডিএসইতে টানা চার কার্যদিবস ধরে হাজার কোটি টাকা ওপরে লেনদেনকে কেন্দ্র করে নানা মহলে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফলে পুঁজিবাজার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পূর্বের চেয়ে অনেক বেড়েছে। যা পুঁজিবাজারে জন্য দারুন সুখবর বলে মনে করছেন বিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা।
দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রমতে, ডিএসইতে বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬৮৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। ডিএসইর এদিনের লেনদেন গত দেড় মাস বা ৩২ কার্যদিবসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এর আগে গত বছরের ২১ নভেম্বর লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা। চলতি বছরের বুধবার লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৪১৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা, মঙ্গলবার ১ হাজার ১৮২ কোটি ১৮ লাখ টাকা, সোমবার ১ হাজার ৩১৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং রবিবার ৮৯৪ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার।
বৃহস্পতিবার টাকার অংকে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি হলো- ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, পাওয়ার গ্রিড, লার্ফাজ হোল্ডসিম, ফরচুন সুজ, ওয়ান ব্যাংক, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস, লাভেলো আইসক্রিম, একটিভ ফাইন।
ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৮টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ১৬৪টির, কমেছে ১৭৯টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৩৫টির। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৭ দশমিক ৫১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯৮৭ দশমিক ৪৫ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ২৭ দশমিক ২০ পয়েন্ট ও ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ৮ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৬০৩ দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্টে ও ১ হাজার ৪৭২ দশমিক ১৪ পয়েন্টে।
অপর পুঁজিবাজার সিএসইতে গতকাল লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ২৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস বুধবার লেনদেন হয়েছিল ৪৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩০৮টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ১৩৬টির, কমেছে ১৩৫টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৩৭টির। টাকার অংকে সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি- রবি, ওয়ান ব্যাংক, বেক্সিমকো, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, আইএফআইসি ব্যাংক, লার্ফাজ হোল্ডসিম, পাওয়ার গ্রিড, বারাকা পতেঙ্গা, তিতাস গ্যাস।
সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৬৮ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৪৯৫ দশমিক ২১ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ১৫ দশমিক ৫১ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ১৫১ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ১০৩ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট ও সিএসআই সূচক ১১ দশমিক ২৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৫২২ দশমিক ২৯ পয়েন্টে, ১৪ হাজার ২৩২ দশমিক ৯৫ পয়েন্টে, ১২ হাজার ৩১০ দশমিক ৪৫ পয়েন্টে ও ১ হাজার ২৬৫ দশমিক ২৮ পয়েন্টে।









