দেশের সাত জেলার হাওরের প্রায় ৯৮ শতাংশ ধান এখন কৃষকের ঘরে। আর ছিটেফোটা ভাবে রয়েছে আরও দুইভাগ ধান। তবে এ ধান কাটতে আর সময় লাগবে মাত্র সপ্তাহখানেক। এর পরই হাওরের শতভাগ ধান কৃষকের গোলায় উঠবে। এতে কৃষকের মুখে ফিরেছে হাসি।
একদিকে করোনার প্রভাবে শ্রমিক সংকট অন্যদিকে আকস্মিক বন্যায় ধান পানিতে তলিয়ে যাবে ইত্যাদি ভাবনায় কৃষকে মুখেছিলো চিন্তার ভাঁজ। এ কারণ ধান কাটার জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিক আনা এবং হাওরের বিভিন্ন জেলায় ধান কাটা মেশিন সরবরাহ সবই করেছে কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।
সূত্র জানায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিচালন বাজেটের আওতায় হাওর অঞ্চলের (কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ধান কাটার জন্য জরুরি ভিত্তিতে নতুন ১৮০টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ১৩৭টি রিপার বরাদ্দ দেয়া হয়। হাওর অঞ্চলে ৩৬২টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ১০৫৬টি রিপার সরবরাহ করা হয়। যে কারণে দ্রুত হাওরের ধান কাটা সম্পন্ন হয়।
এদিকে, দেশের হাওরবেষ্টিত সাত জেলায় বোরো ধানের উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা পূরণ হবে আশা করছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলের কৃষক আনিস মিয়া জানান, হাওরে ধান কাটা নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলাম। যখন ধানের শীষ বের হয় তখন থেকে দিন গুণছিলাম কোন দিন এ ধান ঘরে তুলতে পারবো। অনেক রাত গেছে ঘুমাতে পারিনি। দুই বছর আগে বন্যায় ডুবে যাওয়া সেই দিনের কথা মনে পড়তো। এবার হাওরের ধান কাটার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় যে উদ্যোগ নিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাদের উদ্যোগের কারণেই আমরা দ্রুত ধান ঘরে তুলতে পেরেছি।
হাওরের ধান কাটার বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিরুজ্জামান বলেন, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হাওরের ৯৮ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়েছে। বাকি যে দুই ভাগ ধান রয়েছে তা ছিটেফোটা ভাবে রয়েছে। এরমধ্যে কেউ স্থানীয় জাত লাগিয়েছে, কেউ উপসী আবার কেউ বোরো লাগিয়েছে দেরি করে। এ ধানগুলো কাটতে কৃষকের আরও সপ্তাহ খানেক সময় লাগবে।
আনন্দবাজার/শহক









