করোনার কারণে অভিযান বন্ধ
বাজারে চাপিলা নামে বিক্রি
দেখা দিতে পারে ইলিশের সঙ্কট
করোনায় ঘরবন্দী সবাই। এ সুযোগে বরিশালের বিভিন্ন নদ-নদী ইলিশের পোনা নিধনের ধুম পড়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় বাজারে এসব পোনা চাপিলা নামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে ভরা মৌসুমে নদীতে ফের ইলিশ এর সঙ্কট দেখা দিতে পারে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জের মেঘনা,কালাবদর, লতা ও বরিশাল সদর উপজেলা অংশের মেঘনা ও তেঁতুলিয়া, বরিশালের কীর্তনখোলা, বানারীপাড়া-উজিরপুরের সন্ধ্যা, মুলাদীর আড়িয়ালখাঁসহ সবকয়টি নদীতে এখন অবাধে চলছে ইলিশের পোনা নিধন। তিন থেকে চার ইঞ্চি আকৃতির ইলিশের এসব পোনা মাছ বরিশাল নগরীসহ বিক্রি হচ্ছে সর্বত্র।
সরজমিনে দেখা যায়, নগরীর সব কাঁচাবাজারে তিন থেকে চার ইঞ্চি আকৃতির ইলিশের পোনা চাপিলা নাম দিয়ে বিক্রি করতে দেখা গেছে। আর প্রতি কেজি মাছ বিক্রি করা হচ্ছে ২০০ টাকা দরে।
বরিশাল মত্স্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জাটকা (১০ ইঞ্চির কম আকৃতির ইলিশ) রক্ষায় গত ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলছে। পাশাপাশি দেশের পাঁচটি ইলিশ অভয়াশ্রমে গত ১ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে সকল প্রকার মাছ ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা, যা শেষ হবে ৩০ এপ্রিল। আর এসময় প্রত্যেক জেলেকে চার মাস ১২০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়।
জেলেরা বলছেন, দাদন ব্যবসায়ী ও মহাজনদের চাপের মুখে পড়ে তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশের পোনা নিধনে বাধ্য হচ্ছেন।
জানায়, নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাঠে এখন অনেক বেশি সময় দিচ্ছেন। এজন্য মাছ ধরা বন্ধে নদ-নদীতে অভিযান বন্ধ রয়েছে। এ সুযোগে ব্যাপক হারে ইলিশের পোনা ধরে চাপিলা নামে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।
বরিশাল মত্স্য কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র দাস বলেন, এ অঞ্চলের নদ-নদীতে চাপিলা খুব বেশি একটা পাওয়া যায়। বর্তমানে যা ধরা পড়ছে তা প্রায় সবই ইলিশের পোনাই। আর বরিশাল নগরীর কাউনিয়া থানা পুলিশ নগরীর তালতলী বাজার থেকে গত সপ্তাহে অভিযান চালিয়ে ইলিশের পোনা জব্দ করেছে। তিনি দাবি করেন, করোনার কারণে অভিযান বন্ধ নয়, সীমিত করা হয়েছে।
আনন্দবাজার/শহক








