অর্থনীতি সমিতির সুপারিশ
- করোনায় দরিদ্র ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষ
- পাল্টেছে শ্রেণিকাঠামো
- স্বাভাবিক করতে চার সুপারিশ
ধনীদের সম্পদ গরিবের মধ্যে পুনর্বণ্টনে একদিকে আয়বৈষম্য ও সম্পদবৈষম্য কমবে, অন্যদিকে অর্থনীতিতে প্রবাহ বাড়বে। অনেকের কাছে প্রস্তাবটি বাস্তবতাবিবর্জিত মনে হলেও এটি কোনো অবাস্তব কিংবা অসম্ভব কিছু নয়
-আবুল বারকাত, সভাপতি, অর্থনীতি সমিতি
করোনা মহামারিতে আয়বৈষম্য ও সম্পদবৈষম্যে অনেকেই হয়েছেন সম্পদশালী। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ সম্পদ বেড়ে হঠাৎই হয়ে গেছেন ধনকুবের। বিপরীত দিকে নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন তিন কোটি ৪০ লাখ মানুষ। করোনার অভিঘাত দেশের শ্রেণিকাঠামো পাল্টে দিয়েছে। আয়, ধনসম্পদ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে বৈষম্য প্রকট হয়ে বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ অবস্থা থেকে ঘুরে না দাঁড়ালে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিপর্যস্ত অনিবার্য।
অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি আবুল বারকাত। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত দুইদিনের সম্মেলনে ‘কোভিড-১৯ থেকে শোভন সমাজ’ শিরোনামের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এতে করোনা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ধনীদের সম্পদ গরিবের মধ্যে পুনর্বণ্টনের সুপারিশ করেন আবুল বারকাত। দুই দিনব্যাপী দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের শেষ দিনে আয়োজিত অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সাবেক সভাপতি কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, করোনার আগে দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিলো ৩ কোটি ৪০ লাখ। করোনার সময় নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন ৩ কোটি ৪০ লাখ। করোনার আগের ও পরের সংখ্যা মিলিয়ে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৮০ লাখে। বিশাল এ জনগোষ্ঠীকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে চারটি সুপারিশ করেন আবুল বারকাত। ধনীদের সম্পদ গরিবের মধ্যে পুনর্বণ্টনের সুপারিশ করে তিনি বলেন, এতে একদিকে আয়বৈষম্য ও সম্পদবৈষম্য কমবে, অন্যদিকে অর্থনীতিতে প্রবাহ বাড়বে। অনেকের কাছে প্রস্তাবটি বাস্তবতাবিবর্জিত মনে হলেও এটি কোনো অবাস্তব কিংবা অসম্ভব কিছু নয়।
করোনার ক্ষতি পোষাতে প্রয়োজনে টাকা ছাপানোর সুপারিশ করে আবুল বারকাত বলেন, টাকা ছাপানোর কথা বললেই অনেকে বুঝে না বুঝে আঁতকে ওঠেন। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেন। কিন্তু আমরা বলছি, প্রয়োজনীয় টাকা ছাপাতে। আমরা বলছি না অতিরিক্ত টাকা ছাপাতে হবে। প্রয়োজন মতো টাকা ছাপিয়ে সে টাকা দিয়ে যদি বিপুলসংখ্যক মানুষকে বেকারত্ব থেকে মুক্তি দেওয়া যায় কিংবা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়, সেটি হবে বেশি জনহিতকর। তাতে উৎপাদনশীলতা বাড়বে। গ্রাম ও শহর দুই এলাকাতেই ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে।
তৃতীয় সুপারিশে করোনা থেকে উত্তরণে একটি বৈশ্বিক সম্পদ তহবিল গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে বারাকাত বলেন, করোনা একক কোনো দেশের বিষয় নয়। এটি বৈশ্বিক। করোনার ফলে বৈশ্বিক মহামন্দা বিশ্বের সব দেশকেই বিপর্যস্ত করেছে। সেখান থেকে পরিত্রাণ পেতে বৈশ্বিক পর্যায়ে একটি সম্পদ তহবিল করতে হবে। এ সম্পদ তহবিলের উৎস হবে বিশ্বব্যাপী এক বছরে যেসব আর্থিক লেনদেন হয়, তার ওপর শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ হারে করারোপ করা। চতুর্থ সুপারিশ ছিল কালোটাকা ও অর্থ পাচার বন্ধ করার। পাশাপাশি বাজারে বন্ড ছেড়ে অর্থ আহরণ করার।
আনন্দবাজার/শহক









