অপার সম্ভাবনাতে নেই আশানুরূপ অগ্রগতি
বাংলাদেশে রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর, ষাট গম্বুজ মসজিদসহ অসংখ্য স্থাপনা। রয়েছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান, ঐতিহ্য, হাওর-নদী-নালা-খাল-বিলসহ প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ পর্যটনকেন্দ্র। এতকিছু থাকার পরও বিশ্বে পর্যটনশিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান নিচের দিকে। স্বাধীনতার পর ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও পর্যটনশিল্প আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি।
১৯৭২ সালের ২৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির ১৪৩নং আদেশ বলে পর্যটন করপোরেশন গঠন করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সে সময় জাহাজ চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও পর্যটন নামে মন্ত্রণালয়ও গঠন করা হয়। পরে অবশ্য তিন দফা ভাঙাগড়ার পর ১৯৮৬ সাল থেকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়।
১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় পর্যটন সংস্থা (এনওটি) যাত্রা শুরু করে। পরে সেটা ভেঙে ২০১০ সালে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বা বিটিবি গঠন করে এনওটির কার্যক্রম বিটিবিকে দেয়া হয়। এসময়েই গঠন করা হয় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন (বাপক)। প্রতিষ্ঠান দুটির কাজের আওতাও ঠিক করে দেয়া হয়।
পর্যটনখাতের উন্নয়নের জন্য পর্যটন করপোরেশনের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ১. পর্যটন উন্নয়নে অভ্যন্তরীণ পর্যটন অবকাঠামো সৃষ্টি, ২. দেশে-বিদেশে পর্যটনের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি, ৩. পর্যটন উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, ৪. সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে পর্যটনশিল্পের সম্প্রসারণ, ৫. পর্যটকদের জন্য হোটেল, রেস্তোরাঁ, রেস্টহাউস, পিকনিক স্পট, ক্যাম্পিং সাইট, থিয়েটার, বিনোদন পার্ক ইত্যাদি পরিচালনাসহ ১৪টি কর্মপরিধি রয়েছে।
তাছাড়া পর্যটন বোর্ডের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে- ১. নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সহায়তা, ২. পর্যটন আকর্ষণ চিহ্নিতকরণ, ৩. দেশে পর্যটকদের আগমন ও অবস্থান সহজ ও নিরাপদ করা, ৪. দেশে-বিদেশে বিপণনের বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষাসহ ১৩টি কর্মপরিধি।
আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্রে রূপ দিতে ২০১৬ সালে টেকনাফের সাবরাংয়ে ‘সাবরাং অর্থনৈতিক অঞ্চল’ নামে পর্যটনকেন্দ্রের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের সব সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন পর্যটন স্পট। নাফ নদীর বুকে জেগে ওঠা জালিয়ার দ্বীপের ২৭১ একর ভূমির ওপর গড়ে তুলা হচ্ছে নাফ ট্যুরিজম পার্ক। ইতোমধ্যে ৪৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮০ কিলোমিটারের মেরিন ড্রাইভ কলাতলী হয়ে সাগরের কূল ঘেঁষে নির্মিত বিশ্বমানের সড়কটি সাবরাং অর্থনৈতিক অঞ্চলে গিয়ে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হবে এ অঞ্চল।
২০১৮ সালে ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার পর্যটনে ২৭টি পর্যটন স্থানকে চিহ্নিত করে ৪৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে মাধবকুণ্ড, রাতারগুল, মাধবপুর লেক, বিছানাকান্দি, পানামনগর, ময়নামতি, নীলাচল, মেঘলা অবকাশ কেন্দ্র, বগুড়া মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর, কক্সবাজার, সুসংদুর্গাপুর, বিজয়পুর, কুয়াকাটা, ষাটগম্বুজ মসজিদ, টেকের ঘাট, শ্রীমঙ্গল ও বাকের টিলাসহ অন্যান্য স্থান।
২০২০-২১ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, মজুরি ভিত্তিতে কর্মরত জনবলসহ পর্যটন করপোরেশনে ৮৫০ ও পর্যটন বোর্ডে ২৯ জন কর্মরত রয়েছেন। এই সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডে পর্যটন করপোরেশনের ৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা ও পর্যটন বোর্ডের প্রায় ৩৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।









