করোনাভাইরাসের কারণে গত এপ্রিল মাসে বড় ধস নেমেছিল দেশের আমদানি-রফতানি খাতে। তবে এপ্রিল পেরিয়ে মে মাসে বেড়েছে আমদানি-রফতানি।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক এনামুল করিম বলেন, এপ্রিলে করোনার কারণে আমদানি কমেছে ঠিক কিন্তু কাস্টমসের অস্পষ্ট নির্দেশনার কারণে এপ্রিলে যেই পরিমাণ আমদানি হয়েছে সেই পরিমাণ পণ্য বন্দর থেকে ছাড় দিতে পারিনি। কন্টেইনার জটের কারণে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত ২৩টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করতে পারিনি। মে মাসে সেই জটিলতা না থাকায় আমদানি ও রফতানি দুই খাতেই অগ্রগতি হয়েছে।
গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক ও আরএসবি ইন্ডাষ্ট্রিয়াল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ বলেন, সরকার ২৬ এপ্রিল থেকে কারখানা খুলে দেয়ার কারনেই মে মাসে রফতানিতে সুফল এসেছে। এখন যে অর্ডার আসছে এবং আগে যে অর্ডার এসেছে তাতে জুন মাসেও এই ধারাবাহিকতা থাকবে। তবে পণ্য রফতানি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে বা আগের অবস্থায় ফিরে যেতে বছর দেড়েক সময় লেগে যাবে।
জানা যায়, গত মার্চ মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য রফতানি হয়েছিল ৬১ হাজার একক কন্টেইনার। যা এপ্রিল মাসে রফতানিতে ধস নেমে মাত্র ১৩ হাজার একক কন্টেইনারে নেমে আসে। তবে মে মাসে আবার রফতানি বেড়ে হয়েছে ২৮ হাজার একক কন্টেইনার। যা এপ্রিল মাসের দ্বিগুণ। যদিও মার্চ মাসের চেয়ে অনেক কম।
জানা যায়, আমদানি পণ্য আসার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে মে মাসে। মে মাসে আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার এসেছে ৯৬ হাজার ৬শ একক, এপ্রিলে সেটি ছিল ৭০ হাজার একক এবং মার্চ মাসে ছিল ১ লাখ ১০ হাজার একক কন্টেইনার।
বিদেশি জাহাজ পরিচালনাকারী জিবিএ লজিস্টিকস লিমিটেডের এসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনতাসির রুবাইয়াত বলেন, আমাদের হিসাবে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে রফতানি বেড়েছে ১৩১ শতাংশ। আর একই সময়ে আমদানি বেড়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ। মূলত তৈরী পোশাক শিল্পসহ কারখানা খুলে দেয়ায় রফতানি বেড়েছে। আর ঈদের আগে সেই সাথে পোশাক শিল্পের পাশাপাশি বিপুল পরিমান করোনার প্রতিরোধক পণ্য রফতানি হয়েছে।
এছাড়া আমদানির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুন থেকে আমদানির গতি ধীর হবে মনে হচ্ছে। আগে শুধু সিঙ্গাপুর বন্দর থেকে জাহাজভর্তি কন্টেইনার চট্টগ্রাম আসতো। কিন্তু এখন একাধিক বন্দর ঘুরে জাহাজভর্তি করে চট্টগ্রাম আসছে।
আনন্দবাজার/টি এস পি









