- নতুন এ সেতু চালু হওয়ায় মানুষের জীবনযাত্রার মানের বদল ঘটেছে
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বিচ্ছিন্ন গ্রাম হিসেবে এক সময়ে সকলের নিকট পরিচিত ছিল চাঁন্দেরবাগ। নাঙ্গলকোট এবং চৌদ্দগ্রামের ডাকাতিয়া নদী গ্রামবাসীকে বিচ্ছিন্ন করায় একটি দ্বীপের মধ্যে তাদের বসবাস ছিল। গ্রামবাসীকে নৌকায় করে নাঙ্গলকোট ও চৌদ্দগ্রামে যেতে হত। গ্রামটির নাঙ্গলকোট অংশে এলজিইডির অধীনে একটি সেতু নির্মাণ বদলে দিয়েছে তাদের জীবনধারা। এখন আর নৌকায় করে তাদের পারাপার হতে হয় না।
সেতু নির্মাণে চাঁন্দেরবাগবাসীর স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর থেকে উৎসুক জনতা সেতুটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমান। শিগগিরই সেতুটির উদ্বোধন করা হবে বলে জানান এলজিইডি নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল্লাহ-আল মামুন।
জানা যায়, নাঙ্গলকোটের রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের চাঁন্দেরবাগ গ্রাম ডাকাতিয়া নদী ও শাখা খাল বেষ্টিত হওয়ায় উপজেলার একটি বিচ্ছিন্ন গ্রাম ছিল এটি। গ্রামবাসীকে ডাকাতিয়া নদীতে নৌকায় করে কষ্ট স্বীকার করে স্থানীয় বাজারে যাওয়া, চিকৎসক দেখানো, ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাওয়া ও অফিসিয়াল কাজে নাঙ্গলকোটে আসতে হত। দীর্ঘ ৪৯ বছর পর সেতু নির্মাণ হওয়ায় নৌকায় করে তাদের যাতায়াতে দুর্ভোগ লাঘব হবে।
গ্রামটি এক সময় হিন্দু অধ্যুষিত হলেও বর্তমানে অনেকগুলো মুসলমান পরিবার বসবাস করছে। অনেক হিন্দু পরিবার সম্পত্তি বিক্রি করে ভারতে চলে যায়। বর্তমানে ৩৭টি হিন্দু এবং ১৮টি মুসলমান পরিবার বসবাস করে। মোট জনসংখ্যা ৪শ’। হিন্দু পরিবারগুলো ডাকাতিয়া নদীতে মাছ ধরে এবং মাছের রেণু পোনা বিক্রি করে খেয়ে-না খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। মুসলমান পরিবারগুলো ছোট খাটো ব্যবসা এবং অনেক পরিবারের সন্তানেরা বিদেশ থেকে আয় করছেন।
এলজিইডি জানায়, নাঙ্গলকোট উপজেলা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের ( এলজিইডি) অধীনে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পে শান্তিরবাজার-পিপড্ডা পল্লী সড়কে ডাকাতিয়া নদীর উপর ৩ হাজার ২৭০ মিটার চেইনেজে ৮১ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতুটি নির্মাণে ৫ কোটি ৬১ লাখ ৮১ হাজার ৪৭ টাকা ব্যয় হয়।
সম্প্রতি চাঁন্দেরবাগ গ্রাম ও সেতু এলাকা ঘুরে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা হয়। চাঁন্দেরবাগ গ্রামের বয়োবৃদ্ধ মলিন চন্দ্র দাস, যোগেশ চন্দ্র দাস, রাখাল চন্দ্র দাস, স্কুল শিক্ষার্থী ইশান চন্দ্র দাস, প্রশান্ত চন্দ্র দাস বলেন, আমাদেরকে দীর্ঘদিন থেকে নৌকা দিয়ে কষ্ট করে নাঙ্গলকোট উপজেলা সদর এবং বিভিন্নস্থানে যাতায়াতসহ বিদ্যালয়ে যেতে হত। সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় আমাদের সহজ যাতায়াতের সুযোগ সুষ্টি হয়েছে। এতে আমরা অনেক খুশি।
সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন না হলেও প্রতিদিন সকাল-বিকেল সেতুটির সৌন্দর্য দেখতে নাঙ্গলকোট এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কিশোর এবং তরুণ-তরুণীদের ভিড় দেখা যায়। চৌদ্দগ্রামের দেড়কোটা ও তারাশাইল গ্রামের ইশতিয়াক, আবদুল্লা, আরমান রাজ, রায়হান, সাগর, নেহাল মোটরসাইকেল নিয়ে বিকেলে সেতুটি দেখতে আসেন। তারা বলেন, সেতুটি দু‘উপজেলার মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন রচিত করেছে। নাঙ্গলকোটের পিপড্ডা গ্রামের নুরুল ইসলাম সেতুর একপাশে বিভিন্ন খাবার ও পানীয় বিক্রির দোকান দিয়ে বসেছেন। তিনি জানান, প্রথমদিকে কম বিক্রি হলেও মানুষের উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রিও বাড়বে বলে তিনি আশা করেন।
নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল্লাহ-আল মামুন বলেন, ডাকাতিয়া নদীর উপর সেতু না থাকায় চাঁন্দেরবাগ এলাকাটি উপজেলার ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। সেতুটি নির্মাণের ফলে এলাকার জনসাধারণের ব্যবসা-বাণিজ্য, স্কুল-কলেজে যাতায়াতসহ জীবনযাত্রার মান ব্যাপক উন্নত হবে। সেতুটি শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। তিনি আরো বলেন, তাদের চলাচলের কাঁচা রাস্তাটিও পাকাকরণ করা হবে।









