করোনার প্রভাবে দেশের পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পে দুই হাজার ৬২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে পোল্ট্রি শিল্পে ক্ষতির পরিমাণ এক হাজার ১৫০ কোটি আর ডেইরি শিল্পে ৯১২ কোটি টাকা।
এ দুই শিল্পের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের পরিস্থিতি এরকম থাকলে পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। ফলে দেশের অনেক খামারির পথে বসে যাবে।
করোনায় গত ১৬ দিনে দেশীয় পোল্ট্রি শিল্পে প্রায় এক হাজার ১৫০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছে পোল্ট্রি শিল্পের কেন্দ্রীয় সংগঠন বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)। এদিকে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিএফএ) সভাপতি ইমরান হোসেন জানিয়েছেন, এই কয়দিলে ডেইরি শিল্পে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ৯১২ কোটি টাকা। গত ২০ মার্চ থেকে প্রতিদিন ১২০ লাখ থেকে ১৫০ লাখ লিটার দুধ অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে। এতে দেশের খামারিদের প্রতিদিন প্রায় ৫৭ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। আগামী এক মাস এ অবস্থা চলতে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১ হাজার ৭১০ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে বিপিআইসিসির সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, যদি অবস্থার উন্নতি না হয় তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে দৈনিক প্রায় একশ কোটি টাকা। তাছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও বাজার স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে আরও অন্তত এক মাস।
বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিএফএ) সভাপতি ইমরান হোসেন বলেন, দেশের দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতের তিনটি বড় কোম্পানির প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন লাখ লিটার দুধ সংগ্রহ করে গুঁড়া দুধ তৈরির সক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে আরও ১০ থেকে ১২টি কোম্পানির ঘি, মাখন, ফেভারড মিল্ক, আইসক্রিম, ক্রিম তৈরির সক্ষমতা আছে। সরকার ও দেশের দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতের কোম্পানিগুলোর সহযোগিতা না পেলে অচিরেই প্রায় ৫০ শতাংশ খামার বন্ধ হবে।
পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পের আর যেন কোনো ক্ষতি না হয় সে জন্য সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মতে, করোনা সংকটকালীন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। তাই প্রাণিজ পুষ্টির উৎস দুধ, ডিম, মাছ ও মাংসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এ সংক্রান্ত সংকট মোকাবিলায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
আনন্দবাজার/শহক








