- করোনাকালে অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বেড়েছে সহায়তা
- চার মাসে ঋণ ২২ হাজার কোটি টাকা, পরিশোধ ৬ হাজার কোটি
- এডিবির ঋণ ১১ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা
- গেল বছরে ছাড় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা
- এবার ছাড় বেড়েছে ৭ হাজার ৮০৭ কোটি টাকা
করোনা মহামারির মধ্যে দেশের উন্নয়ন প্রকল্প ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ গত বছরের চেয়ে বেড়েছে। গত দুই অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরেও বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে বড় অঙ্কের ঋণ সহায়তা পাচ্ছে সরকার।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সবশেষ তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বাংলাদেশের অনুকূলে ২৬২ কোটি ডলার অর্থ ছাড় করেছে দাতারা। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে টাকার অংকে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা) এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা। একই সময়ে ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে ৭৪ কোটি ডলার বা ৬ হাজার ৪ কোটি টাকা।
গত অর্থ-বছরের (২০২০-২১) জুলাই-অক্টোবর সময়ে ১৭১ কোটি ডলার ছাড় করেছিল দাতারা। এ হিসাবে এই চার মাসে দেশি-বিদেশি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৯০ কোটি ডলারের মতো। এই অর্থবছরের একই সময়ে ২৬২ কোটি ডলারের মতো যে বিদেশি ঋণ এসেছে, তার মধ্যে অর্ধেকের বেশি ১৩৫ কোটি ৬৫ লাখ ডলার দিয়েছে ম্যানিলাভিত্তিক এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বিশ্বব্যাংক দিয়েছে ২১ কোটি ২৪ লাখ ডলার। জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা ছাড় করেছে ৩৫ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। চীন দিয়েছে ৩১ কোটি ১৯ লাখ ডলার। ভারতের কাছ থেকে পাওয়া গেছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। রাশিয়া দিয়েছে ১৭ কোটি ৪৭ লাখ ডলার।
এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) ছাড় করেছে ৪০ হাজার ডলার। এ ছাড়া অন্য দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে ১৭ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। তিন বছর আগেও বিদেশি ঋণ ছাড় হয়েছিল ৩০০ কোটি ডলারের মতো। করোনার মধ্যে সেটি বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি।
ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৭১০ কোটি (৭.১ বিলিয়ন) ডলার ঋণ সহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। তার আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিদেশি ঋণ আসে বাংলাদেশে। ওই বছর ৭৩৮ কোটি (৭.৩৮ বিলিয়ন) ডলার ঋণ পাওয়া গিয়েছিল। গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ঋণ পাওয়া গেছে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে। সংস্থাটি ২৭০ কোটি ডলার ছাড় করেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছাড় করেছে এডিবি ১৭০ কোটি ডলার। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম জুলাই-সেপ্টেম্বরের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, এই তিন মাসে বিশ্বব্যাংকের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি অর্থ ছাড় করেছে এডিবি।
গত ছয় অর্থবছরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে বিদেশি ঋণ ছাড়ের প্রবণতা বাড়তে থাকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে। ওই বছরই এক লাফে অর্থ ছাড় ৩০০ কোটি থেকে ৬৩৭ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। তারপর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এসেছিল ৬৫৪ কোটি ডলার। তবে গত দুই বছর টানা ৭০০ কোটি ডলারের বেশি বিদেশি ঋণ পাওয়া গেছে। করোনা মহামারি থেকে উত্তরণে টিকাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কিনতে বহুজাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ অন্যান্য সহযোগী সংস্থা বাড়তি ঋণ দিচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘প্রতিবছর উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে অর্থ ছাড় করে। তাদের প্রতি অর্থবছরের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার অঙ্ক থাকে। তবে এবার করোনার কারণে তারা নতুন একটি উইন্ডো খুলছে। মূলত করোনার সহায়তার জন্য তারা এটা করেছে। এ জন্যই গত অর্থবছরের চেয়ে বৈদেশিক সহায়তা বেড়েছে।’
আনন্দবাজার/শহক









