দেশে করোনা মহামারী পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় এক বছর পর আগামী ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ২৬তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২২। এবার পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিবিসিএফইসি) স্থায়ী ভবনে বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।
বাণিজ্য মেলার প্রবেশদ্বারের প্রতি সবার আকর্ষণ থাকে। এবার মেলার প্রবেশদ্বারে ভিন্নতা আনতে ৫টি মেগা প্রকল্পের কাঠামো ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি তৈরি করা হবে। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দিয়ে মেলা প্রাঙ্গণ সাজানো হবে বলে জানিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।
ইপিবি সচিব ও বাণিজ্য মেলার পরিচালক মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা শুরু হবে। মেলার প্রবেশদ্বারের প্রতি সবার আকর্ষণ থাকে। এবার মেলার প্রবেশদ্বারে ভিন্নতা আনা হয়েছে। প্রবেশ গেইটের ওপরে ঠিক মাঝে থাকছে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। তার দুই পাশে পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেল। দুই স্তম্ভে থাকবে কর্ণফুলী টার্নেল, রূপপুর পারমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গভীর সমুদ্র বন্দর। ইতোমধ্যে এর কাজ শুরু হয়েছে। আর পুরো মেলা প্রাঙ্গণ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মাথায় রেখে সাজানো হবে। আশা করছি মেলা শুরুর আগেই কাজ শেষ হয়ে যাবে। তবে মেলার মূল আকর্ষণ থাকছে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নে। যদিও এ বছর স্থায়ী ভবনে মেলা হওয়ায় শিশুদের জন্য কোনো পার্কের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, নতুন জায়গায় কিছুটা চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই। সেসব বিষয় মাথায় রেখেই আমরা মেলার কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। আমাদের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি ডিসেম্বরের মধ্যে আমাদের প্রস্তুতি শেষ করতে পারবো। কেন্দ্রের ভেতরে ও সামনের ফাঁকা জায়গা মিলে ২২৫টি স্টল থাকবে এবারের মেলায়। এরমধ্যে প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন থাকবে ৫০টি, জেনারেল স্টল, ফুড কোড, মিনি স্টল, প্রিমিয়ার স্টল ১৫৪টি এবং ইউটিলিটি বুথ রাখা হয়েছে ২০-২২টি। এরমধ্যে ৮টি ব্যাংকের বুথ রয়েছে। ইতোমধ্যে ইসলামী ব্যাংকসহ ৫টি ব্যাংকের বুথ স্থাপন হয়েছে। কেন্দ্রের ভেতরে নিজস্ব একটা ক্যাফেটরিয়া রয়েছে। সেখানে একসঙ্গে ৫০০ লোক বসে খাবার খেতে পারবে। এছাড়া আরও ১২-১৩টি ফুড কোড থাকবে।
দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য বিআরটিসি বাস রাখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, দর্শনার্থীদের জন্য কুড়িল ফ্লাইওভারের নিচ থেকে মেলা পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ৩০টি বিআরটিসি বাস চলাচল করবে। রাস্তার দুই পাশে ১৫টি করে মোট ৩০টি বাস চলাচল করবে। এখানে ন্যুনতম একটা ভাড়া থাকবে। সম্ভবত ভাড়া ২০ থেকে ২৫ টাকা হবে ১২ কিলোমিটার রাস্তার জন্য। ফ্রি সার্ভিস দিলে আশপাশের স্থানীয় লোকজনই বেশি চলাচল করবে। তখন দর্শনার্থীদের চলাচল কঠিন হবে। এজন্য ন্যুনতম ভাড়া নেওয়া হবে। এছাড়া মেলায় প্রবেশের জন্য ৪০ টাকা এন্ট্রি ফি রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, রাজধানীর পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৭৭৩ কোটি টাকা। যার মধ্যে চীনের অনুদান ৫২০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সরকারের ২৩১ কোটি টাকা ও ইপিবি নিজস্ব তহবিল থেকে ২১ কোটি ২৭ লাখ টাকা অর্থায়ন করেছে। এক্সিবিশন সেন্টারে তৈরি করা ফ্লোরের আয়তন ৩৩ হাজার বর্গমিটার, বিল্ডিংয়ের ফ্লোরের আয়তন ২৪ হাজার ৩৭০ বর্গমিটার, এক্সিবিশন হলের আয়তন ১৫ হাজার ৪১৮ বর্গমিটার। এক্সিবিশন হলে ৮০০টি বুথ রয়েছে, প্রতিটি বুথের আয়তন ৯ দশমিক ৬৭ বর্গমিটার।
এছাড়াও রয়েছে ৪৭৩ আসনবিশিষ্ট একটি মাল্টি-ফাংশনাল হল, ৫০ আসনবিশিষ্ট একটি কনফারেন্স রুম, ছয়টি মিটিং রুম, শিশুদের খেলার স্পেস, নামাজের কক্ষ, অফিস রুম দুটি, মেডিক্যাল রুম, ডরমেটরি-গেস্ট রুম, ১৩৯টি টয়লেট, বিল্ট ইন পাবলিক এড্রেস সিস্টেম, নিজস্ব ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, স্টোর রুম, সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম, অটোমেটেড সেন্ট্রাল এসি সিস্টেম, ইনবিল্ট ইন্টারনেটসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা।
আনন্দবাজার/এম.আর









